Monday, September 5, 2016

বল্টু কথন ঃ বাস্তব ঘটনা

অনেক দিন থেকেই সোশ্যাল নেটওয়ার্ক থেকে শুরু করে  পোর্টাল সহ বিভিন্ন জায়গাতে "বল্টু " একটি পরিচত শব্দ।  কমিকস , জোকস ট্রল কোথায় নাই মি. বল্টু।  আমি হলফ করে বলতে পারি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক গুলিতে যারা সরব আছেন বল্টু কে নিয়ে দু একটি মজার জোকস পড়েন নি , এমন মানুষ কমই আছেন। তবে আমি আজ  কোন জোকস  বা মজার গল্প নিয়ে আসিনি , বল্টু কে নিয়ে বাস্তব কিছু খণ্ড চিত্রের লিখিত বর্ণনা নিয়ে এসেছি। 
 
তবে শুরু করা যাক, 

এই "বল্টু" শব্দটি আমাদের কাছে এতো আনন্দের বিষয় ছিল না।  ১৯৯২-৯৪ সালের কথা বলছি সে সময় বল্টু আমাদের অহরহ  কষ্ট আর বিড়ম্বনাই দিতো। ২০১৬ সালের শেষ দিকে এসে আমি আসলে কি বলছি ? অনেকের কাছে বিষয়টি এমন ও মনে হতে পারে।  বল্টু তো অনেক রকমের রয়েছে, নাটের মাথায় লাগানো বল্টু, আছে বল্টু নামের কার্টন সিরিজ , আছে বল্টু কে নিয়ে হাজারো মজার মজার জোকস।  এতো পরিচিত বল্টুর মাঝে আমি কোন বল্টু কে নিয়ে কথা বলছি ? 

হ্যা, আমি যে বল্টুর কথা বলছি সেটা হচ্চে স্পঞ্জের সান্ডালের বল্টুর কথা।  আমাদের সে সময় স্পঞ্জের সান্ডালের ওপরেই ভরসা করে স্কুলে ও বিভিন্ন জায়গাতে যাওয়া লাগতো।  আজকের মতো চামড়ার স্যান্ডেল সহজ লভ্য ছিল না , আসলে সহজ লভ্য ছিল না বললে ভুল হবে, কেনার মত টাকা থাকতো না । তখন এক জোড়া চামড়ার সান্ডালের দাম ছিল ১৫০-২৫০ টাকা।  এই টাকাতে কিন্তু অনেক সুন্দর সুন্দর চামড়ার স্যান্ডেল পাওয়া যেত যেসব স্যান্ডেলের বর্তমান মূল্য প্রায় ৮০০-১২০০ টাকা।  আমরা বছরে একটা চামড়ার স্যান্ডেল পেতাম আর পরার অনুমতি  মিলতো কালে ভদ্রে কোথায় বেড়াতে যেতে, তা না হলে স্পঞ্জের সান্ডালেই দিন পার ।  
 
 তখন স্পঞ্জের সান্ডালের দাম ২০ -৩০ টাকার মধ্যেই ছিল, আমার একটি সমস্যা ছিল মাঝে মাঝে বল্টু ছিঁড়ে যেত, স্যান্ডেল পায়ে বেশি দৌঁড়াতাম যার দরুন ছিড়তো বেশি।  ছিড়ে গেলে বা আঠা খুলে গেলে এখন আর আমরা সেই স্যান্ডেল  পায়ে দিই না , সে সময় ওই সুযোগ ছিল না।  বল্টু জোড়া দিয়ে পরতে হতো।  কখনো কেরোসিনের কুপির আগুনে দুই মাথাতে আগুনের তাপে গলিয়ে চেপে ধরে রাখতাম যতক্ষণ না জোড়া লেগে যেত,  দ্রুত যেন ঠান্ডা ও শক্ত হয় সে জন্য তুথু দিয়ে ঠান্ডা করতাম।  ৩ টি বল্টু এভাবে পর্যায় ক্রমে জোড়াতাম শেষ দেখা যেত ফিতা ছোট হয়ে গেছে আর পায়ে ঢুকতে চাইতো না , জোর করেই পা ঢুকিয়ে করতাম, জোরাজোরিতে আবার খুলে যেত , ছোট ফিতা জোড়া লাগছে না ? উপায় ? হা উপায় হচ্চে আরেকটা ছেড়া স্যান্ডেল থেকে বল্টু কেটে নিয়ে জোড়া দেয়া , চলত ভালো কিছু দিন।  কিন্তু, বিপত্তি এখানেও ছিল , ফিতা অতিরিক্ত বড়ো হয়ে যেত মাঝে মাঝে তখন হাঁটার সময় স্যান্ডেল থেকে পা মাটিতে নেমে যেত , বার বার পা ধোয়া লাগতো।  আর সে সময় জনপ্রিয় ছিল বাটার স্পঞ্জের সান্ডাল যা সহজে খয় হত না । অগত্যা রিপেয়ার চলতো মাঝখানে ফেটে দু ভাগ হওয়া পর্যন্ত । কথায় আসি , 

এর পরে জোড়াতালিতে ব্যর্থ, এখন ? হ্যাঁ,  সমাধান হলো ফিতা আবার আলাদা কিনতে পাওয়া যেত এজন্য  অপেক্ষা  করতে হতো  হাটের বার পর্যন্ত ,গ্রাম এলাকার সব কেনাকাটা সপ্তাহে ২ দিন।  আমাদের হাট  ছিল বনপাড়া হাট ।  সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার বসতো এই হাট। হাটের দিন ছালার বস্তার ওপরে দোকানি বসতো,  স্যান্ডেল ও ফিতা নিয়ে।  সাইজ অনুযায়ী দাম ছিলো , ছোট ফিতা  ২ টাকা বড় ফিতা ৩ টাকা।  সেই ফিতা কিনে এনে বল্টুর গোড়ায় সুতলী বেঁধে টান দিয়ে ঢুকিয়ে নিতাম।

বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব প্রায় ৩ মাইলের কাছাকাছি।  আমাদের  একমাত্র বাহন ছিল  পদ-জুগোল, যার ওপরেই ভরসা করে প্রতিদিন পথ অতিক্রম করতাম ,কাদায় হাঁটা ছিল সবচেয়ে বেশী বিড়ম্বনার, কাদায় আটকে স্যান্ডেলের বল্টু খুলে যেত তখন ওই স্যান্ডেল তুলতে গেলে পায়ে কাঁদা লাগতো, বই হাতে থাকলে কাঁদায় পরে যেত।  আমাদের  মাঝে অনেকের  স্কুল ব্যাগ ছিল না, ছিল না আমারও আসলে ওই সময় এর  তেমন কোনো ব্যাবহার ছিল না।  অতি বড় লোকের  ছেলে মেয়েরা শুধু ব্যাগ নিত।  আমরা ৮টা বই রুমালে কেঁচকি গিট্টু দিয়ে বেঁধে নিতাম এই স্যান্ডেল বিপত্তিতে একবার তো সব বই রাস্তার পানিতে ভিজে যায়, আর রাস্তা ? গরুর গাড়ী চলতো কাদা আর কাদা, হাটু পর্যন্ত কাদাতেও হাটতে হয়েছে আমাদের। তার পরে , পাকা রাস্তা মানে বিশ্বরোড দিয়ে  রাস্তায় হাঁটার সময় মাঝে মাঝেই বল্টু খুলে যেত কলম বা রাস্তার পাশের শিশু গাছের ডালের মাথা দিয়ে গুতায় ঢুকতাম।  রাস্তার পাশে এখন আর শিশু গাছ নাই , এখন তো সব মেহগুনি ,জাম পাইকড় সহ অনেক গাছ দেখতে পাওয়া যায়।  ওই সময় শিশু গাছই ছিল, শিশু গাছ লাগানো হতো যেন গাড়ী এক্সিডেন্ট করলে গাছের সাথে বেঁধে থাকে না হলে গর্তে পড়ে যেত।    


আমার পরিস্কার মনে আছে , তখন ৪থ শ্রেণীতে পড়ি , প্রথম সাময়ীক পরীক্ষা চলছে ছুটছি সবাই মিলে, স্কুলের কাছাকাছি পৌঁছালে স্যান্ডেলের বল্টু ছিঁড়ে যায় , আলতো করে কোনো রকম লাগিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে  স্কুলের গেটের কাছে পৌঁছালাম  খেয়াল করে দেখি বল্টু ফিতার মাথা থেকে  পড়ে  গেছে, ফিতা বের হয়ে আসছে  , স্কুলের গেটের ডান পার্শে একটা ছোট খেঁজুর গাছ ছিল, একটা খেঁজুর কাঁটা ছিঁড়ে ফিতার মাথায় ঢুকালাম।  সে কি আর ঢুকে অর্ধেক ঢুকে তো বের হয়ে যায় কোনো রকম ঢুকায় পরীক্ষার হলে ঢুকলাম পরিক্ষা শেষে রাস্তার পাশ দিয়ে হাটছি ইটের সাথে উষ্ঠা খেয়ে পড়ে গেলাম কাঁটার মাথা পায়ে ঢুকে গেলো, সে কি ব্যাথা !!! এদিকে খালি পায়ে  দুপুর বেলা পাকা রাস্তায় হাঁটা  যেত না আবার রাস্তার পাশে  বড় বড় ইটের  খোয়া  থাকতো , তাই খালি পায়েও হাত দূস্কর। ওই ভাবেই আস্তে আস্তে বাড়ী আসলাম , এর পরে জ্বর ব্যাথায় পরের ৩ টি পরীক্ষা আর দেয়া হয় নি  .  

অতঃপর বল্টু  আমাদের এভাবেই নিত্য ঘটনার  সঙ্গী ছিল   ........







Friday, August 19, 2016

“তিনি” ছিলেন সহযাত্রী

ঢাকা শহরে দোতলা বিআরটিসি আমার প্রথম পছন্দ, এটা কিন্তু তাদের সেবার জন্য না । তারা নতুন বাজার থেকে মোহাম্মদপুর রুটের জাত লোকাল। আমার গন্তব্য আড়ং মোড় হয়ে ধানমন্ডি। এ রুটে কয়েকটি সিগনাল তাই প্রচুর সময় লাগে, তাই হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বের হই এবং সামনের সিটে মাথাদিয়ে ছোট খাটো একটা ঘুম দেই এটা মোটামুটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আজ বাস হঠাৎ ব্রেক দিলে জানালার সাথে মাথাটা বাড়ি লাগে পাশে তাকায় দেখে তো পুরাই “থ” । এক সুন্দরী গলায় আইডি ঝুলানো, কানে হেডফোন হাতে বিশাল স্যামস্যাং মোবাইল। অনাকাঙ্ক্ষিত সুন্দরী তাও আমার পার্শে। আমরা মফস্বল শহরে কোন মেয়ের পাশে বসতে বা কোন মেয়ে আমাদের পাশে বসতে চাইলে অনুমতি চাওয়াটা রেওয়াজ কিন্তু ঢাকায় বাসের খালি সিটে বসতে ছেলে বা মেয়ে কারোই অনুমতি লাগে না, এখানে এটাই রেওয়াজ। আমার ব্যাথায় তার ঠোটের কোনে চাপা হাসি । রাগ উঠলেও করার কিছু নাই, সে তো আর আমার কেউ না।যাহোক গল্পের শুরু এখন থেকেই,-এই বাস কি আগারগাঁও দিয়ে যাবে ? -না সূচক উত্তর দিলাম মনে হল খুশি হয়নি । আবার প্রশ্ন করলাম কোথায় যাবেন ?-তাজমহল রোড , মোহাম্মদপুর। -সমস্যা নাই। এই বাস যেখানে শেষ, আপনি নেমে ঐখান থেকে রিক্সা নিবেন ৩০ টাকা ভাড়া দিলেই নিয়ে যাবে। আরো কম ও লাগতে পারে। – আর কতক্ষণ লাগতে পারে? -কেবল তো ওয়ারলেসগেট আছি আরো এক ঘন্টার বেশী লাগবে। কপাল খারাপ হলে আরো বেশী ভালো হলে কম। -আপনি নিয়মিত যান? -হ্যা, আমার অফিস তো তাই যেতে হয়। -আমি আজ প্রথম এলাম, চিটাগাং আমার বাসা ঢাকা গুলশান অফিসে ট্রান্সফার দিছে। যাত্রাবাড়ী নামছি সকালে, একটু আগে জয়েন করে ছুটি নিয়ে এই বাসে উঠলাম। এখন মামার বাসায় যাবো। ঢাকা তেমন ঘুরা হয়নি , তেমন কিছু চিনি ও না। -এই ঢাকা আপনাকে সব চেনায় দিবে, সমস্যা নাই। আমার ও প্রথম এমন সমস্যা হয়েছিল। আমার চোখে যজ্ঞের ঘুম, মনে হচ্ছিলো ঠেলে ফালায় দেই। কারণ আগের রাতে একটা মিনিট ও ঘুম হয়নি। – আপনার কাছে কি ফেসিয়াল টিস্যু হবে? আমার ব্যাগে সব ফেলে এসেছি । অনেক ভারীতো তাই অফিসে রেখে আসছি। -রক্ত এবার মাথায় উঠে গেল, বেতনের টাকায় চলতে পারি না । গোল্ডলিফের জায়গায় ডার্বি খাই, আবার টিস্যু তাও ফেসিয়াল। বললাম এসব কিছু নাই। সুন্দর মুখটায় যেন কালো মেঘ জমে গেল । ভেতরে মায়া লাগতে শুরু করলো। বললাম ছেলেদের এসব লাগে না। -আপনি বিরক্ত? -নারে ভাই । দেড় ঘন্টায় জাহাঙ্গীর গেট আসলাম , ১ টার মধ্যে আফিসে আপডেট ফাইল জমা দিতে হবে। টেনশনে আছি। এমন সময় ফোনটা ভ্রাইবারেট হতে থাকলো, অ-কাজের কাজী রাহাতের ফোন। পকেট থেকে ফোন বের করতে লাইন কেটে গেল । ব্যাক না দিয়ে ফেসবুকে ডুকে গেলাম । বাস ততক্ষণে বিজয় স্বরণী সিগনালে আটকে গেল। তাকে বললাম আড়ং এর কাছে আর একটা সিগনাল তার পরে আপনি পৌছে যাবেন। আমি খামার বাড়ি পাওয়ার আগে থেকেই এই গল্পটি লিখতে শুরু করলাম । মোবাইলের কী প্যাডে প্রেম জমে গেল । ভাবলাম আজ কিছু লিখার উপাদান পেয়ে গেছি। আর গত এক বছরে এমন অনেক ছোট বড়, বলিকা , রমণী , যুবক থেকে বৃদ্ধ অনেক মানুষ কে পথ দেখায় দিছি, এটা আমার জন্য কমন বিষয়। মানিক মিয়া এভ্যিনিউতে বাস ডুকলে একবার তার দিকে তাকালাম একি মেয়ে আমার মোবাইলের স্কিনে এক পলকে তাকিয়ে আছে। আমি তার দিকে তাকাতেই সেকি বিস্ময়কর চাহুনী !!! -প্রশ্ন করে বসলো এ ফোনে ফেসবুক চলে ? কি জোরে জোরে আবার লিখছেন ও । -বলালাম আমার এটাই আইওএস থেকে কম যায় না। মোবাইলে ইন্টারনেট জাভা ই কিন্তু পথিকৃৎ। এনড্রয়েড তো জাভার পরের সংস্করণ। আমি একটু পিছিয়ে আছি এই আরকি। মোটা হয়ে যাচ্ছিতো তাই দ্রুত চলতে পারি না -মেয়েটা এবার হাসলো। বাস আড়ং সিগনালে থেমে আছে, আমি আজ বাসেই বসে আছি আজ বাস থেকে নামবো বাস রাস্তা পার হলেই, প্রতিদিন একটু আগায় ওভার ব্রিজ দিয়ে পার হই। সিগনাল আর বেশী সময় নিল না। ছেড়ে দিলে সিট ছেড়ে উঠতে উঠতে বললাব রিক্সা নিয়ে যাবেন , যেভাবে আগে বলেছিলাম। -আপনার নামটা বলা যাবে? এতক্ষণ কথা বললাম নামটাই জানা হল না ? -কেন নাম দিয়ে কি হবে? -না এমনি । তাছাড়া আপনি অনেক সময় নিয়ে আমার সাথে হওয়া কথা গুলি লিখছিলেন। -এটা আমার মুদ্রা দোষ। – ফেসবুকে তো লিখছেন আইডি নামটা তো বলেন। -আমি কি লিখেছি আপনি সব পড়েছেন আমি কিন্তু খেয়াল করেছি। যতটুকু মনে পড়বে ততটুকু লিখে গুগলে সার্স দিলে আসা করি পুরো লেখাটা পাবেন । আইডিটা না হয় তখন খুজে নিয়েন। বাস এতোক্ষনে আসাদগেট পার হয়ে মোহাম্মদপুর বিআরটিসি ডিপোর কাছাকাছি। পাশের সিটের একজন বার বার তাকাচ্ছিল প্রথমে সে হয়তো ভেবে ছিল আমরা পূর্ব পরিচিত। মেয়েটি আমার নাম জানতে চাইলে তার মুখে দেখি কেমন জানি উৎসুক ভাব। বাস ডিপো গেটে থেমে গেছে, সবার সাথে নামলাম,রিক্সাওয়ালার সাথে কথা বলছি এমন সময় তার ফোন বাজলো “মামা আমি প্রায় চলে আসছি। রিক্সা ঠিক করতেছি” ওপার থেকে মামা বলছে শিয়া মসজিদের কাছে নামতে। তাকে একটা রিক্সা ২০ টাকা ভাড়ায় ঠিক করে তুলে দিলাম। -নামটা এখনো বললেন না , আজব মানুষ আমার অফিস নিকেতনে ___গ্রুপ __ বাড়ি , রোড__ । এইচাআরএ আছি আসবেন কিন্তু গল্প করা যাবে। কখনো অপরিচিত কারো সাথে এতো গল্প হয়নি। ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন। ।মেয়েটি সাত মসজিদ এর সামনে দিয়ে অনেক দূর যাবার পরে মনে হল, আরে আমি ও তো ওর নামটা জিজ্ঞেস করলাম না । নিজের অপরে বিরক্তি কাজ করল ।ইতোমধ্যে অফিস থেকে আবার ফোন আসছে, “সপ্তাহে আসেন দুইদিন তাও ঠিকমত আসতে পারেন না। আপনাকে আর অফিসে আসতে হবে না”। বস অনেক জ্যাম ছিল ৫ মিনিটেই চলে আসবো রিক্সায় উঠেছি। অফিসে পৌছালাম আড়াইটায়। ফাইল জমা দিয়ে বের হয়ে আবার বিআরটিসি কাউন্টারের দিকে হাটছি। আবার আরেকজন আলাদা মানুষ আরেকটি গল্প

Thursday, March 3, 2016

আক্ষেপ

একটা সময় কিছু বিষয়ের আবেদন একদমই হারিয়ে যায়। আপনি চাইলেই তাতে আর ফিরতে পারবেন না, না ফেরাতে। এটাই ঘটে চলেছে গতানুগতিক ধারায় । আপনি এটাকে সার্বজনীন বিষয় হিসেবে চালিয়ে দিতে পারেন , এটা কিন্তু খুবই সহজ আর সোজা কাজ । 
আসলে কি তাই ? 
না আপনাকে থামতে হয় । ওই বিষয় সংশ্লিষ্ট অনেক কিছুই আপনার মাঝে বিস্ফোরিত হতে চায় । আপনি নিয়ন্ত্রণ হারান নিজের ওপর, ফিরতে চান, ফিরে পেতে চান এবং ফেরাতে চান। অদম্য ইচ্ছা আর আকাঙ্ক্ষায় ভেতরটা তছনছ হয়ে যায়, আপনি এখন স্তিমিত অতঃপর নিরব। স্বীকার বা অনুশোচনা সত্ত্বেও আর কিছুই থাকে না আগের জাগায় । কেন থাকবে ? না থাকাটাই কী যথার্থ না ?

চলবে ...............................................................।

Wednesday, March 2, 2016

ঝরা ধানের ভাত ও জীবনের একটি উপাখ্যান

সময় টা মনে পড়ে না তবে (৯২-৯৩) হতে পারে। এত টুকু মনে আছে ,তখন মোটা চাউল পাউয়া যেত ৮-৯ টাকায়, আর সবচেয়ে ভালো চাউল ১১-১২ টাকা । জীবনের চরম দারিদ্রতায় ভুগছিলাম সেই সময় , অনেক ছোট ছিলাম। বড় বোন আর আমি প্রতিদিন সকালে বিলে যেতাম ধান কুঁড়াতে, আমি দাড়িয়ে থাকতাম আপু ধানের শিষ ছিঁড়ত , ঐ ধানের প্রতিটি তে আবার হুল থাকতো , যার আঘাতে আপুর হাতে ঘা হয়ে যেত । কথা বলছিলাম ঝরা ধান নিয়ে , ধান পাকার পরে কাটা হয়, এই ধান কাটার পড়ে যে ধানের গোঁড়া বা মোথা থাকে সেই খান থেকে আবার নতুন কুশি বের হয় , আবার ধান হয় তবে খুব ভালো না মাঝে মাঝে দু এক ঝাড় ধান হয়। জমি ঐ সময় পতিত থাকে বর্শায় ডুবে যাবে বলে । সাধারণত জমি মালিকরা আর বিলে যায় না। এই ভাবে আমরা ধান কুড়াতাম, ১০-১২ কেজি হলে বাজারে নিয়া ভাঙ্গায়া চাউল করে আনতাম । তার পরেই হত ভাত। 
পরিস্কার মনে আছে , তখন গম ছিল সহজলভ্য , দিনে একবার ভাত হলে পরের দুবার গমের ভাত রান্না হত , খেতে পারতাম না লবণ দিয়ে খাউয়া লাগত । অনেক পিটানি খাইচি এই ভাত খাবনা বলে। সবাই একসাথে ছিলাম, বাবা , মা ছিলেন একটি সংসার ছিল। আজ বাবা নেই ১৩ বছর হল মারা গেছেন , মা নেই ১০ বছর হল। আজ চাউল কেজি ৩৫-৪০ টাকা তবু ও আজ ভাতের অভাব নেই। আজ অনেক ভালো আছি সমাজে অন্যদের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারছি , এখন অভাব নেই, সব এই আছে । সুধু কাছে নেই বাবা আর মা।

জীবনের প্রথম ঘুষ ৩৪-৪=৩০ টাকা

কয়েক বছর আগের কথা (২০০৫),রোজা ঈদ এর আগের রাত সময়টা হবে আনুমানিক রাত ১২ টা। দাদা দাদি, ও অন্যান্যদের জন্য কাপড় ও অন্যান্য জিনিস পত্র কিনে গ্রামে যাচ্ছিলাম আমি ও এক বড় ভাই ,আমি বাইক চালাচ্ছি ভাই পিছনে বসে আছেন । আমরা নাটোর থেকে যখন আহমেদপুর ব্রিজ এর কাছে গেলাম তখন কয়েক জন পুলিশ আমাদের থামালেন , প্রশ্ন শুরু আমরা কে কি করি ? কোথায় যাচ্ছি ? ব্যাগ এ কি আছে? সব দেখালাম বলল সব ঠিক আছে । এই বার বাইক এর পালা......গাড়ি কার? রুট পারমিট কই? আর যত কিছু লাগে সব ই জিজ্ঞাস করলো... ঐ সময় আমার কাছে কিছুই ছিল না... আমি বার বার বুঝালাম কালকে ঈদ... আর আমি পেশাদার গাড়ি চালাইনা আমাকে বারি থেকে এই জিনিস গুলি গ্রামের বাড়িতে দিয়ে আসার জন্য পাঠাইছে । তারা আমাদের প্রায় ১ ঘণ্টা বসাইয়া রাখলেন , এবং বললেন যে তোমাদের মাঝে ঝামেলা আছে ,গাড়ি সহ তোমাদের থানায় নিয়া যাব , ভয় পাইলাম তখন । থানা ও পুলিশ বাবারে!!!!! বড় ভাই বললেন কিছু টাকা দিলে দেখবি এইসব কিচ্ছু না থাম আমি দেখি , ভাই এক পুলিশ কে অনুরধ করলেন তিনি আবার আরেক পুলিশ এর কাছে যাইয়া বলতে বললেন ভাই তার কাছে ও গেলেন , আমার র বুঝতে বাকি থাকল না ......... এখন টাকা হলেই আমরা ফ্রীঈঈঈ... কিন্তু টাকা? অপরের পকেট খুজে পাইলাম ১৪ টাকা ভাই বললেন টাকা র বার করিস না , ভাই বার করলেন ২০ টাকা । ভাই ৩৪ টাকা দিয়া বললেন ভাই আমাদের কাছে আর কোন টাকা নাই বাজার করে সব শেষ । আপনারা চা খান আর আমাদের যাইতে দেন। এক মুরুব্বি পুলিশ বললেন ওদের যাইতে দাও তিনি বললেন তোমাদের কাছে সত্যি টাকা নাই ? আমি বললাম না... তিনি ৪ টাকা ফেরত দিলেন র বললেন যাও ............ চলে গেলাম , 

রিকুরবাবা

রিকু অনেক ছোট কোন জায়গা তেমন চেনে না, কথাও যেতে হলে কি করতে হবে তাও তেমন ভালভাবে জানেনা । তার বাবাই একমাত্র ভরসা , আর হবেই বা না কেন? কারন বাবা যে তাকে খুবি ভালবাসেন , বাবা কথাও যেতে রিকু কে সাথে নিতেন । বাবার কাছে টাকা নেই তাতে
কী ! বাবা রিকু কে কাঁধে নেয়াই বের হয়ে যেতেন । রিকু কিছু চেয়ে বাবার কাছে পায়নি এমন টা খুব কম এই ঘটেছে। আর দশ জন বাবার মত রিকুর বাবা ও ছিলেন সাধারণ একজন মানুষ , ভালই চলছিল রিকুর জীবন কিন্তু একদিন হতাথ বাবা হারিয়ে গেলেন । অনেক খোঁজা হল বাবাকে কিন্তু কিছুতেই কিছু হল না , তার পরে একদিন খবর এলো বাবা ফিরে এসেছেন রিকু এখন অন্য জাগায় থাকে আর না থেকেও কি উপায় আছে বাবা চলে যাবার পরে যেওদের সংসার টা ভেঙ্গে গেছে মা নানার বাড়ি রিকু একটা স্কুলে । যাই হোক রিকু বাবার সাথে দেখা করতে এলো । বাবার সাথে অনেক কথা হল । বাবা জানতে চেয়েছেন কিছু লাগবে কিনা । রিকু আস্তে করে বলল বাবা আমার একটা ছাতা আর একটা লাইট লাগবে রাতে বের হতে ভয় পাই । আর অনেক বৃষ্টি হয় সবার বাবা সবাইকে ছাতা দিয়েছেন কিন্তু আমার তো নাই......।।বাবা কথা দিলেন ঠিক আছে বাবা আমি আগামী সপ্তাহে তোমাকে এগুলা কিনে দিব আর তোমাকে দেখে আসব । কারন রিকু বাবার সাথে দেখা করার জন্য মাত্র একদিন ছুটি পেয়েছিল তাই আজ রিকুকে যেতে হবে । রিকু বাবা এবং মা কে বিদায় জানানল কেন জানি রিকুর মনটা খারাপ হয়ে গেল যেতে ইচ্চে করছেনা । রিকু নানার বাড়ীতে মামা এবং মা এর সাথে দেখা করতে এসেছিল , রিকু অন্য সময় নানা বাড়ীতে গেলে সবাই আদর করে এবার কেন জানি ভাল লাগচেনা তাই আর কার সাথে কথা না বলে বের হয়ে আসল এবং তার স্কুল এ যাবার গাড়িতে উঠল স্কুল এ রিকু এখন সবাইক গল্প শোনায় বাবা আসবে জিনিস নেয়ে কতো মজা এই না হবে,বাবা ফিরে এসেছে এর চেয়ে আনন্দের আর কি বা থাকতে পারে। ভাবনার জগতে হারিয়ে রিকু পার করল একটি সপ্তাহ । ঠিক এক সপ্তাহ পরে একদিন ভোর বেলা তাকে স্কুল থেকে আনতে বাড়ি থেকে মানুষ গেল রিকু কে বলা হল তুমি বাড়ি যাও তোমাকে ছুটি দেউয়া হল । কেউ কিছু বলছে না সুধু বলছে রিকু চল বাড়ি যাই । রিকু ও কোন আপত্তি করছেনা কারন ছুটি টা যে অনেক মজার । কিন্তু এই মজার টা যে হবে জিবনের সবচেয়ে বর দুসংবাদ টা কি তখনও বুজেছিল না বুঝে নি? টা একমাত্র রিকু ভাল বলতে ্পারবে রিকু বাড়ি গেটে আসতে না আসতেই কান্নার শব্দ আসতেছে রিকু কি এখনও বুঝতে পারছেনা ? হা রিকুকে এবার বুজতে হবে মেনে নিতে হবে যে তের বাবা আর বেচে নেই!!!!!!! তিনি এহলক ছেড়ে চলে গেছেন কি জেন এক অজানা রোগে তাকে গ্রাস করে নিয়েছিল......।।

২৭ ঘণ্টার হাজত বাস ও একটি অভিজ্ঞতা

গত বছর এই মাসেই সকাল টা শুরু হল ভালো ভাবেই , ঘুম থেকে উঠে মাত্র বসলাম একটু পরেই ফোন এলো স্যার ডাকছেন আজ নোট দিবেন তাড়াতাড়ি বের হব তাই তাড়াহুড়া করে তৈরি হলাম পড়তে চলে গেলাম , ফিরে আসছিলাম রাস্তার মাথায় শুনলাম বাসায় গেঞ্জাম সবাই আমাকে ধমকাচ্ছেন আমি নাকি মারা মারি করছি .? আমি বললাম কিছুই জানিনা বাসায় আসলাম (আসল ঘটনা হল ) আমার চাচি আর কাকার সাথে সংসার করবেনা তাই তিনি মহরানার টাকা চাইছেন চলে যাবেন এইটা অনেক কয়দিন থেকেই চলছে আমি জানি। তো বাসায় কাকার সাথে কথা কাটাকাটি করে নারী নির্যাতন মামলা দিবেন এই হুমকি দিয়ে বাসা থেকে বের হন , আর বাসার সামনে রাস্তায় গিয়া বলছেন আমাকে বাসা থেকে বের করে দিছে আর আমার বাচ্চা দুইটা তারা রেখে দিছে ,রাস্তার মোরে মানুষ তাঁকে থানায় যেতে পরামশ দিলেন ( বলে রাখা দরকার তার দূর সম্পপকের এক ভাই আবার দারগা যার ভয় তিনি সবসময় দেখাতেন । ) যাই হোক তিনি থানায় গেলেন বাসায় পুলিশ আসল ,পলিশ এসে আমাকে জিগাইল আমি কে ? তার পরে বলল ঐ মুহিলার মেয়ে দুইটা কই? আমি বললাম ওরা খেলছে , সমস্যা কি? বলল কেন কিছু জাননা??? তোমাদের সবার নামে অপহরণ মামলা ও নারী নির্যাতন মামলা হইছে ,ছেলে হিসাবে তখন বাড়িতে একমাত্র আমি উপস্থিত ছিলাম , আমাকে বলল চল আমাদের সাথে , মেয়ে দুইটা সহ আমাকে থানায় নিয়া গেল বলল ভেতরে বেঞ্চ আছে বস । ২ ঘণ্টা বসে থাকলাম আমার চাচি আসলেন মেয়ে দুইটা তিনি নেয়া গেলেন ,আর পুলিশ কে বললেন ওরে বেধে আটকালে সবাই আসবে ওরে ছেড়ে দিয়েন না, আমি অভিযোগ লিখা দিচ্ছি (এর পিছনে একটা কারন হল আমার চাচা, চাচি, দাদা ,দাদি সবাই আমাকে অনেক ভালোবাসেন ) আমি অবাক হলাম বলে কি ? আমি আবার কি করলাম ,অনেক কাদলাম আমি কিচ্ছু জানিনা আর আমি তো তখন বাসায় ছিলাম না কি হইছে বা না হইছে তাও তো জানিনা এই সবের মানে কি.আমাকে ছেড়ে দেন আমি বাসায় যাব সামনে পরীক্ষা অনেক কাজ!!!!!! 

আমাকে হাজত খানায় ঢুকানো হল ___________ 

আমাকে এক পুলিশ ডাক দিয়া কইল এদিকে আসো মারামারি কর আর এখন আরামে চেয়ার এ বসে আছো । গেট খুলে বলল ঢুক _______ (ভেতর টা কেঁপে উঠলো) ঢুকলাম ভেতরে , ঢুকে ২ জন কে দেখতে পেলাম তারা হলেন বাবা আর ছেলে, একটি অটো চুরির মামলায় ভেতরে আছেন । অটো টা ছেলে চালাত , নেশা খাওয়াইয়া কারা যেন নিয়া গেছে , মালিক মামলা দিছেন তাই তারা হাজতে. বিকাল হল ঐ দুজনের মালিক পক্ষের সাথে সমজথা হইছে তাদের ছেড়ে দেউয়া হল । আমি একাই আছি ঘণ্টা খানিক পরে এক মাঝ বয়সী কে ঢুকানো হল সময় সন্ধ্যা জমি নিয়া বিরোধ । তাঁকে রাতে ছেড়ে দেউয়া হল তাও সমঝতা এর মাধ্যমে । রাত ১১ টা থানা প্রায় নিরব । বাসা থেকে অনেকই গেছেন কাউকে পুলিশ ধুকতে দিচ্চে না। সন্ধায় এলাকার কমিশনার গেলেন বললেন মামা চিন্তা করিস না একটু পরে নিয়া যামু তরে।। যাই হোক এর মাঝে কাহিনী অনেক হল। কথা বলচিলাম অভিজ্ঞতা নিয়া রাত ১১ , পাশে অনেক খাবার আছে কিন্তু খেতে পারচিনা , এর কারন গুল নিম্নরুপ____
হাজত খানার দৈর্ঘ্য ৪ গজ, আর প্রস্থ ৩ গজ , কোন জানালা নাই উচ্চতা ১৫ হাত হবে ব্রিটিশ আমলের ঘর । কোন জানালা নাই ভেন্তেলেতর আছে প্রায় ৮ হাত অপরে একটু বড় আলো আসে বাতাশ নাই , ফ্যান আছে তাও ছট , ৩ দিকে ৬ টা ইট দিয়া প্রস্রাব খানা বানা ,পানি নাই খাবার পানি ব্যাবহার করতে হয় । এতো দুর্গন্ধ যে ঐ ঘরটাতে কোন জন্ত্রু জানউয়ার ও যদি থাকে সে অসুস্থ হইয়া যাবে। রাত ১২ টা গন্ধে ঘুম আসছে না ,খাবার সব পানি ঢেলে কিছুতা গন্ধ কমালাম। এই বার ঘুম গেল কারেন্ট একটা ফুটা ছিল প্রস্রাব বের হউয়ার জন্মে ঐ ফুটা দিয়া হাজার হাজার মশা আসতেছে কয়েল কই পাই এক
এ আস আই, কে বললাম ভাইয়া ঘুমাইতে পেরতেচি না একটা কয়েল দেবেন ? তিনি বললেন ভাই থানায় সবাই ডিউটি তে গেছে আমি ভেতরে একা কেউ আসলে আনায়া দিব।। ভরয়া পাইলাম। কিছু ক্ষণ পরে কারেন্ট আসল ।একটু সস্তি পেলাম
ঘুমানোর জন্মে ২ টা কম্বল ই ছিল মাত্র আর আমি একা হিসাবে দুইটাই আমার কাছে নিয়া দেখি কত বছর যে পরিস্কার হইনাই আল্লাহ ই ভালো জানেন । মাথার তলে একটা দিলাম আর বিচাইলাম একটা কিন্তু গন্ধ আর গেল না , গায়ের টি শার্ট, মুখের অপরে দিয়া একটা সান্তি পাইলাম রাত ৩ টা
। এক চোর ধরে আনল ,তাঁকে কম্বল একটা দিয়া দিতে হল মাথার তলে এইবার হাত দিয়া সুইয়ায়া আছি ভোর ৫ টা বাসার লোকজনের জনের কথা শুনতে পেলাম বলা হল সে মামালা তুলবে না কোর্টে পাঠাইয়া দিলে ছাড়ায়া নিব ৯ টা পর্যন্ত থাক । সব বেবস্থা করা হইছে । কথা বলতে পারলাম না ভেতর টা কষ্টে পুড়ে যাচ্ছিল । সুধু বললাম ঠিক আছে।
৯ টা পার হল ১০ টা গেল আমাকে কোর্টে পাঠানো হচ্ছেনা নিয়ম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোর্টে পাঠাতে হবে। আমার বেলায় টা হয়নি___ কেন? বুজলাম না ।ভেতরে যখন ছিলাম বার বার মনে হচ্ছিল সবাই ভাববে আমি কিছু একটা অন্যায় করে হাজতে গেছি ___! কি জবাব দিব তার চেয়ে বাসায় আর যাবনা এমন অনেক কিছুই মনে হইচিল। দুপুর গরিয়ে বিকাল এর মাঝে আর অনেক সঙ্গি পাইচিলাম হাজতে সে কথা পরে কখনও সময় পাইলে বলবো। বিকাল ৩ টা আমার বাড়ির ২ জন এলাকার কমিশনার ও সেই চাচি ওসির রুমে ঢুকলেন ৪ টায় বের করে আনলেন আমাকে আর বলা হল "তুমি ভালো ছেলে তাই তোমার নাম কেটে দেয়াউয়া হইছে এখন যেতে পার"__ ওসির রুম থেকে বের হলাম , মনে হল জাহান্নামে ছিলাম___ জান্নাতে আসছি । গেটে ৩ বন্ধু কে পেলাম যারা সারা রাত এখানে ও খানে বাসার লোকজনের সাথে গেছিল । ওদের সাথে বাসায় আসলাম। পুরা ২৭ ঘণ্টা সময় পার করছি ঐখানে_____ সারা জীবন এই অভিজ্ঞতা কয়েটা কারনেই মনে থাকবে আমার।