Thursday, March 3, 2016

আক্ষেপ

একটা সময় কিছু বিষয়ের আবেদন একদমই হারিয়ে যায়। আপনি চাইলেই তাতে আর ফিরতে পারবেন না, না ফেরাতে। এটাই ঘটে চলেছে গতানুগতিক ধারায় । আপনি এটাকে সার্বজনীন বিষয় হিসেবে চালিয়ে দিতে পারেন , এটা কিন্তু খুবই সহজ আর সোজা কাজ । 
আসলে কি তাই ? 
না আপনাকে থামতে হয় । ওই বিষয় সংশ্লিষ্ট অনেক কিছুই আপনার মাঝে বিস্ফোরিত হতে চায় । আপনি নিয়ন্ত্রণ হারান নিজের ওপর, ফিরতে চান, ফিরে পেতে চান এবং ফেরাতে চান। অদম্য ইচ্ছা আর আকাঙ্ক্ষায় ভেতরটা তছনছ হয়ে যায়, আপনি এখন স্তিমিত অতঃপর নিরব। স্বীকার বা অনুশোচনা সত্ত্বেও আর কিছুই থাকে না আগের জাগায় । কেন থাকবে ? না থাকাটাই কী যথার্থ না ?

চলবে ...............................................................।

Wednesday, March 2, 2016

ঝরা ধানের ভাত ও জীবনের একটি উপাখ্যান

সময় টা মনে পড়ে না তবে (৯২-৯৩) হতে পারে। এত টুকু মনে আছে ,তখন মোটা চাউল পাউয়া যেত ৮-৯ টাকায়, আর সবচেয়ে ভালো চাউল ১১-১২ টাকা । জীবনের চরম দারিদ্রতায় ভুগছিলাম সেই সময় , অনেক ছোট ছিলাম। বড় বোন আর আমি প্রতিদিন সকালে বিলে যেতাম ধান কুঁড়াতে, আমি দাড়িয়ে থাকতাম আপু ধানের শিষ ছিঁড়ত , ঐ ধানের প্রতিটি তে আবার হুল থাকতো , যার আঘাতে আপুর হাতে ঘা হয়ে যেত । কথা বলছিলাম ঝরা ধান নিয়ে , ধান পাকার পরে কাটা হয়, এই ধান কাটার পড়ে যে ধানের গোঁড়া বা মোথা থাকে সেই খান থেকে আবার নতুন কুশি বের হয় , আবার ধান হয় তবে খুব ভালো না মাঝে মাঝে দু এক ঝাড় ধান হয়। জমি ঐ সময় পতিত থাকে বর্শায় ডুবে যাবে বলে । সাধারণত জমি মালিকরা আর বিলে যায় না। এই ভাবে আমরা ধান কুড়াতাম, ১০-১২ কেজি হলে বাজারে নিয়া ভাঙ্গায়া চাউল করে আনতাম । তার পরেই হত ভাত। 
পরিস্কার মনে আছে , তখন গম ছিল সহজলভ্য , দিনে একবার ভাত হলে পরের দুবার গমের ভাত রান্না হত , খেতে পারতাম না লবণ দিয়ে খাউয়া লাগত । অনেক পিটানি খাইচি এই ভাত খাবনা বলে। সবাই একসাথে ছিলাম, বাবা , মা ছিলেন একটি সংসার ছিল। আজ বাবা নেই ১৩ বছর হল মারা গেছেন , মা নেই ১০ বছর হল। আজ চাউল কেজি ৩৫-৪০ টাকা তবু ও আজ ভাতের অভাব নেই। আজ অনেক ভালো আছি সমাজে অন্যদের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারছি , এখন অভাব নেই, সব এই আছে । সুধু কাছে নেই বাবা আর মা।

জীবনের প্রথম ঘুষ ৩৪-৪=৩০ টাকা

কয়েক বছর আগের কথা (২০০৫),রোজা ঈদ এর আগের রাত সময়টা হবে আনুমানিক রাত ১২ টা। দাদা দাদি, ও অন্যান্যদের জন্য কাপড় ও অন্যান্য জিনিস পত্র কিনে গ্রামে যাচ্ছিলাম আমি ও এক বড় ভাই ,আমি বাইক চালাচ্ছি ভাই পিছনে বসে আছেন । আমরা নাটোর থেকে যখন আহমেদপুর ব্রিজ এর কাছে গেলাম তখন কয়েক জন পুলিশ আমাদের থামালেন , প্রশ্ন শুরু আমরা কে কি করি ? কোথায় যাচ্ছি ? ব্যাগ এ কি আছে? সব দেখালাম বলল সব ঠিক আছে । এই বার বাইক এর পালা......গাড়ি কার? রুট পারমিট কই? আর যত কিছু লাগে সব ই জিজ্ঞাস করলো... ঐ সময় আমার কাছে কিছুই ছিল না... আমি বার বার বুঝালাম কালকে ঈদ... আর আমি পেশাদার গাড়ি চালাইনা আমাকে বারি থেকে এই জিনিস গুলি গ্রামের বাড়িতে দিয়ে আসার জন্য পাঠাইছে । তারা আমাদের প্রায় ১ ঘণ্টা বসাইয়া রাখলেন , এবং বললেন যে তোমাদের মাঝে ঝামেলা আছে ,গাড়ি সহ তোমাদের থানায় নিয়া যাব , ভয় পাইলাম তখন । থানা ও পুলিশ বাবারে!!!!! বড় ভাই বললেন কিছু টাকা দিলে দেখবি এইসব কিচ্ছু না থাম আমি দেখি , ভাই এক পুলিশ কে অনুরধ করলেন তিনি আবার আরেক পুলিশ এর কাছে যাইয়া বলতে বললেন ভাই তার কাছে ও গেলেন , আমার র বুঝতে বাকি থাকল না ......... এখন টাকা হলেই আমরা ফ্রীঈঈঈ... কিন্তু টাকা? অপরের পকেট খুজে পাইলাম ১৪ টাকা ভাই বললেন টাকা র বার করিস না , ভাই বার করলেন ২০ টাকা । ভাই ৩৪ টাকা দিয়া বললেন ভাই আমাদের কাছে আর কোন টাকা নাই বাজার করে সব শেষ । আপনারা চা খান আর আমাদের যাইতে দেন। এক মুরুব্বি পুলিশ বললেন ওদের যাইতে দাও তিনি বললেন তোমাদের কাছে সত্যি টাকা নাই ? আমি বললাম না... তিনি ৪ টাকা ফেরত দিলেন র বললেন যাও ............ চলে গেলাম , 

রিকুরবাবা

রিকু অনেক ছোট কোন জায়গা তেমন চেনে না, কথাও যেতে হলে কি করতে হবে তাও তেমন ভালভাবে জানেনা । তার বাবাই একমাত্র ভরসা , আর হবেই বা না কেন? কারন বাবা যে তাকে খুবি ভালবাসেন , বাবা কথাও যেতে রিকু কে সাথে নিতেন । বাবার কাছে টাকা নেই তাতে
কী ! বাবা রিকু কে কাঁধে নেয়াই বের হয়ে যেতেন । রিকু কিছু চেয়ে বাবার কাছে পায়নি এমন টা খুব কম এই ঘটেছে। আর দশ জন বাবার মত রিকুর বাবা ও ছিলেন সাধারণ একজন মানুষ , ভালই চলছিল রিকুর জীবন কিন্তু একদিন হতাথ বাবা হারিয়ে গেলেন । অনেক খোঁজা হল বাবাকে কিন্তু কিছুতেই কিছু হল না , তার পরে একদিন খবর এলো বাবা ফিরে এসেছেন রিকু এখন অন্য জাগায় থাকে আর না থেকেও কি উপায় আছে বাবা চলে যাবার পরে যেওদের সংসার টা ভেঙ্গে গেছে মা নানার বাড়ি রিকু একটা স্কুলে । যাই হোক রিকু বাবার সাথে দেখা করতে এলো । বাবার সাথে অনেক কথা হল । বাবা জানতে চেয়েছেন কিছু লাগবে কিনা । রিকু আস্তে করে বলল বাবা আমার একটা ছাতা আর একটা লাইট লাগবে রাতে বের হতে ভয় পাই । আর অনেক বৃষ্টি হয় সবার বাবা সবাইকে ছাতা দিয়েছেন কিন্তু আমার তো নাই......।।বাবা কথা দিলেন ঠিক আছে বাবা আমি আগামী সপ্তাহে তোমাকে এগুলা কিনে দিব আর তোমাকে দেখে আসব । কারন রিকু বাবার সাথে দেখা করার জন্য মাত্র একদিন ছুটি পেয়েছিল তাই আজ রিকুকে যেতে হবে । রিকু বাবা এবং মা কে বিদায় জানানল কেন জানি রিকুর মনটা খারাপ হয়ে গেল যেতে ইচ্চে করছেনা । রিকু নানার বাড়ীতে মামা এবং মা এর সাথে দেখা করতে এসেছিল , রিকু অন্য সময় নানা বাড়ীতে গেলে সবাই আদর করে এবার কেন জানি ভাল লাগচেনা তাই আর কার সাথে কথা না বলে বের হয়ে আসল এবং তার স্কুল এ যাবার গাড়িতে উঠল স্কুল এ রিকু এখন সবাইক গল্প শোনায় বাবা আসবে জিনিস নেয়ে কতো মজা এই না হবে,বাবা ফিরে এসেছে এর চেয়ে আনন্দের আর কি বা থাকতে পারে। ভাবনার জগতে হারিয়ে রিকু পার করল একটি সপ্তাহ । ঠিক এক সপ্তাহ পরে একদিন ভোর বেলা তাকে স্কুল থেকে আনতে বাড়ি থেকে মানুষ গেল রিকু কে বলা হল তুমি বাড়ি যাও তোমাকে ছুটি দেউয়া হল । কেউ কিছু বলছে না সুধু বলছে রিকু চল বাড়ি যাই । রিকু ও কোন আপত্তি করছেনা কারন ছুটি টা যে অনেক মজার । কিন্তু এই মজার টা যে হবে জিবনের সবচেয়ে বর দুসংবাদ টা কি তখনও বুজেছিল না বুঝে নি? টা একমাত্র রিকু ভাল বলতে ্পারবে রিকু বাড়ি গেটে আসতে না আসতেই কান্নার শব্দ আসতেছে রিকু কি এখনও বুঝতে পারছেনা ? হা রিকুকে এবার বুজতে হবে মেনে নিতে হবে যে তের বাবা আর বেচে নেই!!!!!!! তিনি এহলক ছেড়ে চলে গেছেন কি জেন এক অজানা রোগে তাকে গ্রাস করে নিয়েছিল......।।

২৭ ঘণ্টার হাজত বাস ও একটি অভিজ্ঞতা

গত বছর এই মাসেই সকাল টা শুরু হল ভালো ভাবেই , ঘুম থেকে উঠে মাত্র বসলাম একটু পরেই ফোন এলো স্যার ডাকছেন আজ নোট দিবেন তাড়াতাড়ি বের হব তাই তাড়াহুড়া করে তৈরি হলাম পড়তে চলে গেলাম , ফিরে আসছিলাম রাস্তার মাথায় শুনলাম বাসায় গেঞ্জাম সবাই আমাকে ধমকাচ্ছেন আমি নাকি মারা মারি করছি .? আমি বললাম কিছুই জানিনা বাসায় আসলাম (আসল ঘটনা হল ) আমার চাচি আর কাকার সাথে সংসার করবেনা তাই তিনি মহরানার টাকা চাইছেন চলে যাবেন এইটা অনেক কয়দিন থেকেই চলছে আমি জানি। তো বাসায় কাকার সাথে কথা কাটাকাটি করে নারী নির্যাতন মামলা দিবেন এই হুমকি দিয়ে বাসা থেকে বের হন , আর বাসার সামনে রাস্তায় গিয়া বলছেন আমাকে বাসা থেকে বের করে দিছে আর আমার বাচ্চা দুইটা তারা রেখে দিছে ,রাস্তার মোরে মানুষ তাঁকে থানায় যেতে পরামশ দিলেন ( বলে রাখা দরকার তার দূর সম্পপকের এক ভাই আবার দারগা যার ভয় তিনি সবসময় দেখাতেন । ) যাই হোক তিনি থানায় গেলেন বাসায় পুলিশ আসল ,পলিশ এসে আমাকে জিগাইল আমি কে ? তার পরে বলল ঐ মুহিলার মেয়ে দুইটা কই? আমি বললাম ওরা খেলছে , সমস্যা কি? বলল কেন কিছু জাননা??? তোমাদের সবার নামে অপহরণ মামলা ও নারী নির্যাতন মামলা হইছে ,ছেলে হিসাবে তখন বাড়িতে একমাত্র আমি উপস্থিত ছিলাম , আমাকে বলল চল আমাদের সাথে , মেয়ে দুইটা সহ আমাকে থানায় নিয়া গেল বলল ভেতরে বেঞ্চ আছে বস । ২ ঘণ্টা বসে থাকলাম আমার চাচি আসলেন মেয়ে দুইটা তিনি নেয়া গেলেন ,আর পুলিশ কে বললেন ওরে বেধে আটকালে সবাই আসবে ওরে ছেড়ে দিয়েন না, আমি অভিযোগ লিখা দিচ্ছি (এর পিছনে একটা কারন হল আমার চাচা, চাচি, দাদা ,দাদি সবাই আমাকে অনেক ভালোবাসেন ) আমি অবাক হলাম বলে কি ? আমি আবার কি করলাম ,অনেক কাদলাম আমি কিচ্ছু জানিনা আর আমি তো তখন বাসায় ছিলাম না কি হইছে বা না হইছে তাও তো জানিনা এই সবের মানে কি.আমাকে ছেড়ে দেন আমি বাসায় যাব সামনে পরীক্ষা অনেক কাজ!!!!!! 

আমাকে হাজত খানায় ঢুকানো হল ___________ 

আমাকে এক পুলিশ ডাক দিয়া কইল এদিকে আসো মারামারি কর আর এখন আরামে চেয়ার এ বসে আছো । গেট খুলে বলল ঢুক _______ (ভেতর টা কেঁপে উঠলো) ঢুকলাম ভেতরে , ঢুকে ২ জন কে দেখতে পেলাম তারা হলেন বাবা আর ছেলে, একটি অটো চুরির মামলায় ভেতরে আছেন । অটো টা ছেলে চালাত , নেশা খাওয়াইয়া কারা যেন নিয়া গেছে , মালিক মামলা দিছেন তাই তারা হাজতে. বিকাল হল ঐ দুজনের মালিক পক্ষের সাথে সমজথা হইছে তাদের ছেড়ে দেউয়া হল । আমি একাই আছি ঘণ্টা খানিক পরে এক মাঝ বয়সী কে ঢুকানো হল সময় সন্ধ্যা জমি নিয়া বিরোধ । তাঁকে রাতে ছেড়ে দেউয়া হল তাও সমঝতা এর মাধ্যমে । রাত ১১ টা থানা প্রায় নিরব । বাসা থেকে অনেকই গেছেন কাউকে পুলিশ ধুকতে দিচ্চে না। সন্ধায় এলাকার কমিশনার গেলেন বললেন মামা চিন্তা করিস না একটু পরে নিয়া যামু তরে।। যাই হোক এর মাঝে কাহিনী অনেক হল। কথা বলচিলাম অভিজ্ঞতা নিয়া রাত ১১ , পাশে অনেক খাবার আছে কিন্তু খেতে পারচিনা , এর কারন গুল নিম্নরুপ____
হাজত খানার দৈর্ঘ্য ৪ গজ, আর প্রস্থ ৩ গজ , কোন জানালা নাই উচ্চতা ১৫ হাত হবে ব্রিটিশ আমলের ঘর । কোন জানালা নাই ভেন্তেলেতর আছে প্রায় ৮ হাত অপরে একটু বড় আলো আসে বাতাশ নাই , ফ্যান আছে তাও ছট , ৩ দিকে ৬ টা ইট দিয়া প্রস্রাব খানা বানা ,পানি নাই খাবার পানি ব্যাবহার করতে হয় । এতো দুর্গন্ধ যে ঐ ঘরটাতে কোন জন্ত্রু জানউয়ার ও যদি থাকে সে অসুস্থ হইয়া যাবে। রাত ১২ টা গন্ধে ঘুম আসছে না ,খাবার সব পানি ঢেলে কিছুতা গন্ধ কমালাম। এই বার ঘুম গেল কারেন্ট একটা ফুটা ছিল প্রস্রাব বের হউয়ার জন্মে ঐ ফুটা দিয়া হাজার হাজার মশা আসতেছে কয়েল কই পাই এক
এ আস আই, কে বললাম ভাইয়া ঘুমাইতে পেরতেচি না একটা কয়েল দেবেন ? তিনি বললেন ভাই থানায় সবাই ডিউটি তে গেছে আমি ভেতরে একা কেউ আসলে আনায়া দিব।। ভরয়া পাইলাম। কিছু ক্ষণ পরে কারেন্ট আসল ।একটু সস্তি পেলাম
ঘুমানোর জন্মে ২ টা কম্বল ই ছিল মাত্র আর আমি একা হিসাবে দুইটাই আমার কাছে নিয়া দেখি কত বছর যে পরিস্কার হইনাই আল্লাহ ই ভালো জানেন । মাথার তলে একটা দিলাম আর বিচাইলাম একটা কিন্তু গন্ধ আর গেল না , গায়ের টি শার্ট, মুখের অপরে দিয়া একটা সান্তি পাইলাম রাত ৩ টা
। এক চোর ধরে আনল ,তাঁকে কম্বল একটা দিয়া দিতে হল মাথার তলে এইবার হাত দিয়া সুইয়ায়া আছি ভোর ৫ টা বাসার লোকজনের জনের কথা শুনতে পেলাম বলা হল সে মামালা তুলবে না কোর্টে পাঠাইয়া দিলে ছাড়ায়া নিব ৯ টা পর্যন্ত থাক । সব বেবস্থা করা হইছে । কথা বলতে পারলাম না ভেতর টা কষ্টে পুড়ে যাচ্ছিল । সুধু বললাম ঠিক আছে।
৯ টা পার হল ১০ টা গেল আমাকে কোর্টে পাঠানো হচ্ছেনা নিয়ম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোর্টে পাঠাতে হবে। আমার বেলায় টা হয়নি___ কেন? বুজলাম না ।ভেতরে যখন ছিলাম বার বার মনে হচ্ছিল সবাই ভাববে আমি কিছু একটা অন্যায় করে হাজতে গেছি ___! কি জবাব দিব তার চেয়ে বাসায় আর যাবনা এমন অনেক কিছুই মনে হইচিল। দুপুর গরিয়ে বিকাল এর মাঝে আর অনেক সঙ্গি পাইচিলাম হাজতে সে কথা পরে কখনও সময় পাইলে বলবো। বিকাল ৩ টা আমার বাড়ির ২ জন এলাকার কমিশনার ও সেই চাচি ওসির রুমে ঢুকলেন ৪ টায় বের করে আনলেন আমাকে আর বলা হল "তুমি ভালো ছেলে তাই তোমার নাম কেটে দেয়াউয়া হইছে এখন যেতে পার"__ ওসির রুম থেকে বের হলাম , মনে হল জাহান্নামে ছিলাম___ জান্নাতে আসছি । গেটে ৩ বন্ধু কে পেলাম যারা সারা রাত এখানে ও খানে বাসার লোকজনের সাথে গেছিল । ওদের সাথে বাসায় আসলাম। পুরা ২৭ ঘণ্টা সময় পার করছি ঐখানে_____ সারা জীবন এই অভিজ্ঞতা কয়েটা কারনেই মনে থাকবে আমার।

ইস্কুলের ভেন্টিলেটরে পাখির বাসা

তখন ক্লাস ৮ এ পড়ি , আর ইস্কুলে গিয়া উল্টা পাল্টা কাজ করা ছিল প্রতিদিনের রুটিন । আমাদের একটা টিম ছিল ৫ জনের ,আমরা ইস্কুলে যেতাম রুম খোলার আগেই। একদিন হাজির হইলাম সবাই ইস্কুলে আসার আগে , রুম তখন ও খোলা হয়নাই বারান্দায় দাঁড়াইয়া আছি। হটাত দেখলাম একটা পাখি ভেন্টিলেটরের ভেতর থেকে বাহির হইল। সবাইরে দেখালাম এই খানে কিছু একটা আছে? সবাই রাজি হইল রুম খুলে মিশন শুরু করব পাখীর বাসায় কি আছে।। যাই হক অপেক্ষার পালা শেষ হল চান্দু পিয়নের দরজা খোলার মধ্য দিয়ে। এইবার কাজ শুরু , টেবিল আনলাম ভেন্টিলেটরের নিচ বরাবর দুঃখের বিষয় আমরা কেউই তেমন লম্বা ছিলাম না। অগত্যা চেয়ার তুলতে হল টেবিল এর ওপরে তাও হাতে পাচ্চিলাম না। পাশের রুম থেকে আরেক টা চেয়ার আনলাম কাজ হল আমি ওপরে নিচে ৩ জনে চেয়ার টেবিল ধরে আছে। আমি ভেন্টিলেটরের ভেতরে হাত ধুকালাম মনে হল পাখীর বাচ্চা আছে ধরতে চেষ্টা করলাম দূরে সরে গেল আর ভেতরে হাত দিলাম ভেন্টিলেটরে হাত আঁটকে গেল পায়ের নীচের টেবিল ও সরে গেল নিচে যারা ছিল অপরের চেয়ার হাতের ওপরে পড়ায় তারা ছেড়ে দিয়ে সরে গেল ২ টা চেয়ার নিচে পরে যাওয়ায় আমি ঝুলে থাকলাম । বন্ধুরা উঠে আমাকে নামাল হাতে অনেক বেথা পেলাম । কিছুক্ষণ পরে নিচ থেকে পিওন আসল হেড স্যার ডাকছেন । আসলে আমাদের ক্লাস রুম এর সোজা ঠিক নিচে ছিল হেড স্যার এর রুম । যাই হোক ভয়ে ভয়ে গেলাম, স্যার প্রথমে জিগাইলেন এত জরে শব্দ হল কি হইছে? আমতা আমতা করতাচিলাম ঐ সময় হালা পিওন পুরা ব্যাপারটা কইয়া দিল । কি আর করা স্যার বেত আনতে পাঠাইলেন অনেক আকুতি-মিনতি কাম হইল না, এর কারন ও ছিল প্রতিদিন আমাদের টিম এর নামে দুএকটা বিচার স্যার এর কানে যাইত তিনি হয়তো সুযোগে ছিলেন। যাই হোক আচ্ছা মত ধোলাই দিল ৪ জনরে । অনেক বেথা পাইচিলাম সেই দিন , ইস্কুল লাইফ এ ওই টাই ছিল সর্ব শেষ, ও সরবচ্চ ধোলাই খাওয়া। মাঝে মাঝে স্যার এর সাথে দেখা হয় । আর দেখা হলেই সেই------------- মনে পড়ে ।

মাকে চাই

১৯৯৭ সালে থেকে মার কাছ থেকে দূরে আছি । তার পরে আর কোন দিন মা এর কাছে থাকা হয়নি অথচ দেখা হইছে অনেক বার । কত আসা মায়ের কাছে থাকব। মায়ের কোলে মাথা রেখে ঘুমাব। যত ভালো লাগা, মন্দ লাগা, সব কথা মাকে বলবো। আনন্দের অনুভুতি সব মায়ের কাছে অবলীলায় বর্ণনা করে যাব। যা শুনে মা আমার সাথে হাসবেন। অনেক ইচ্ছা মায়ের সাথে ঘুরতে যাব , মা যা চাইবেন টা এনে দিব। মায়ের ইচ্ছা পূরণে সর্বদা চেষ্টা করে যাব। মায়ের পিছু পিছু ঘুরব মা খেতে দাও__ ক্ষুধা লাগছে ! মা হয়তো বিরক্ত হবেন তা দেখব___ 

এত গুলো বছর আমি মাকে প্রানখুলে "মা" বলে ডাকতে পারিনা। বাস্তবতা আজ আমাকে দূরে থেলে দিয়েছে । আজ আমার আবেগ অনুভুতি বিমর্ষ। প্রতিদিনের কাজ নিয়ম ত্রান্ত্রিক ভাবে করে যাচ্ছি , কিন্তু কোন কিছুতেই আমার ভালো লাগেনা 
আমি কাউকে বলতে পারিনা। বুঝাতে পারিনা । কিন্তু কিভাবে বলবো? বুঝাব এ তো বুঝানোর বিষয় না। এই বয়সে এই আবেগ প্রকাশ এক ধরণের বোকামির ই নামান্তর ভাববে সবাই তাই আর প্রকাশ এর দুঃসাহস আমি দেখাতে যাইনা ।বিগত দিনের দুরত্তে অনেক কিছুই দূরে সরে গেছে মায়া মমতা, কিছুই আর ঊজ্জীবীত নাই। যত কষ্টই পাই কিছুই মনে হয়না । শুধু একটাই কথা মনে হয় মাকে চাই । মায়ের কাছে থাকতে চাই । জীবনের শেষ দিন হলেও একবার মায়ের কোলে মাথা রেখে ঘুমাতে চাই। 

মা তুমি যেখানেই থাক ভালো থেকো । আল্লাহ যেন তোমাকে সুস্থ রাখেন __ সন্তান হিসাবে দূর থেকে এটাই আমার পার্থনা

"""মা""" কে লিখা খোলা চিঠি।

মা, 
সালাম নিবেন আশা করি ভালোই আছেন। আমি আল্লাহর রহমতে খুবই ভালো আছি । অনেক দিন আপনাকে দেখিনা মনটা অনেক খারাপ আপনার জন্য, আমি প্রতিদিন আপনার ফোন নাম্বার গুলাতে চেষ্টা করি কিন্তু সবসময়ই বন্ধ থাকে। গত ১৬ বছরের এমন একটা দিন আমি অতিক্রম করতে পারি নাই যেদিন আপনাকে মনে পড়েনি । আমি বার বার আপনার কাছে থাকতে চেয়েছি । মা অনেক ইচ্ছা জাগে আপনার কোলে মাথা রেখে মনের জমানো সব কথা গুলি বলি , বলি স্বপ্নের আর কষ্টের কথা । প্রতিটি বিশেষ দিনগুলাতে আপনাকে অনেক বেশী মনে পড়ে, ক্ষণে ক্ষণে ভেতরে কষ্ট অনুভব করি, কাঊকে বলতে পারিনা, না বুঝাতে । 
আমি জানিনা আমার প্রতি এতো অনীহা কেন ? একটু আন্তরিক ব্যাবহার ছাড়া আপনার কাছে কিছুই চাইনা । আপনার কাছে আমার কোন দাবী নেই , নেই কোন চাহিদা । 

মা , যখন কোন কাজে সফল হই আপনাকে মনে পড়ে , ইচ্ছা জাগে সবার আগে আপনাকে জানাই । আবার যখন কোন কারণে খারাপ লাগে তখন সবার আগে আপনাকে মনে পড়ে। ছোট বেলায় যখন কোন অন্যায় করতাম আপনে শাসন করতেন । ঐ দিন গুলি খূব মনে পড়ে। এখন আমাকে কেঊ শাসন করেনা । আমি মাঝে মাঝে সিগারেট খাই বাসার সবাই বুজতে পারলেও কিছুই বলেনা, তখন মনে হয় আপনে থাকলে নিশ্চয় অনেক বকা দিতেন । আমি অনেক রাত জাগি কেঊ কিছুই বলেনা , মা আমার অস্তিত্ব জুড়ে আপনে কেমনে বুঝাই ? এতো গুলো দিন চলে গেলো আমার মনে হয় কিছুক্ষণ আগেই মাত্র আপনাকে দেখেছি । গাণিতিক হিসাবে ১৬ বছর অনেক সময় । কিন্তু আমার কাছে মনে হয় কয়েক মিনিট মাত্র। 

আজ ঈদ বাসার সবাই গতকাল গ্রামে গেছে মিথ্যা অজুহাতে আমি গ্রামে যাই নাই, বাসায় সারাদিন একাই থাকলাম একবারের জন্য বাড়ি থেকে বের হই নাই । ভেতরটা অজানা কষ্টে ভারি হয়ে আছে । গত ১৬ বছর ধরে আমি তা বহন করে চলেছি । আমি জানি এর শেষ আর কোন দিন হবে না তাই কোন অভিযোগ নয় , শুধু প্রার্থনা যেখানেই থাকেন ভালো থাকবেন , সুস্থ থাকবেন ।