Monday, January 25, 2016

আজ ও মনে পড়ে তার.......!!

১৯ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ৮:৫১

সময় টা ঠিক মনে নাই , তবে ৮ বা ৯ এ পড়তাম মনে হয় । বাসায় কিছু নিয়ম ছিল তা হল সন্ধার পরে আর ভোরবেলা এই দু-সময় বাধ্যতামূলক পড়ার টেবিল এ বসতে হত। পড়ি আর না পড়ি ভোরবেলা জানালা খুলে টেবিল এ বসে যেতাম । আর পাশের রাস্তা দিয়ে কে যাচ্ছে তা খেয়াল করতাম, সত্যি বলতে কি ইচ্ছা না থাকলেও চোখ থিকই যেত , আপনারা নিশ্চয় এইখানে আমার দোষ দিবেন না??? 
যাহোক , মেয়েটি প্রতিদিন নিদিষ্ট সময়েই আসতো, কখনও কখনও আমি জানালা খুলছি বা খুলেছি ঠিক সে ওই সময় হাজির , জানালার কাছে আসলে তার হাঁটার গতি কমে যেত , বুজতাম সবই কিন্তু বিধিবাম কিছু বলার মত খুজে পেতাম না। হা- করে তাকিয়েই থাকতাম শুধু। এলাকায় নতুন হওয়ায় তার নাম জানতাম না কিন্তু রাস্তায় প্রতিদিন ই দেখা হত। এইভাবে মাস দু-এক যাওয়ার পরে এক ছোট ভাই এর মাধ্যমে নামটা জেনে নিলাম, কোথায় পড়ে ? কোন ক্লাস এ পড়ে সব আরও খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম আমাদের বাসার পিছনের ৩ বাড়ি পরেই তাদের বাড়ি । 

একদিন ভোরবেলা শিতের সকালে অনেক কুয়াশা ছিল, আমি জানালা পুরো খুলি নাই , মেয়েটি জানালার পাশে এসে দাঁড়াল , আমি হতভম্ব এটা কি হল? এই মেয়ে ত কোনোদিন এইখানেই দাঁড়ায় নাই... তবে আজ কেন? 
আমি চুপ করেই থাকলাম সে বলল তোমার নাম কি? তুমি তো অনেক ভালো দেখ আমাদের পাড়ায় তুমি একমাত্র যে এত ভোরে পড়তে বসে। মনে মনে কইলাম আরে তুই কি বুজবি ? মজার ঘুম নস্ত কইরা কি সাধে বয়া রইছি ? বলে রাখা ভালো আমাকে ঘুম থেকে তুলে সবাই আবার ঘুমাত , বাসার সবাই ৭ টায় উঠলেও আমারে ডাকা হত আজানের সাথে সাথে। আমি নাম বললাম, সে বলল আমি যাই পরে কথা হবে। অনেক দূর চলে গেল কিন্তু ভুলে গেলাম তার নাম জিজ্ঞাসা করতে । এর পরের দিন থেকে নিয়মিত কথা হত কেমন আছ? আজ স্কুল নাই? ইত্যাদি । একদিন বলল তুমি তো অনেক খারাপ বসতেও বল না । কিছু উত্তর না করে বেল্কুনির দরজা খুলে দিলাম , ভেতরে আসলো , হালকা পাতলা কিছু কথা হল , কথা বলছিলাম ঠিক কিন্তু ভয় পাছিলাম বাসার কেউ দেখলে না জানি কি হয় ? আমার টেবিল এর পাশে অনেক ছিডি ক্যাসেট ছিল দুইটা চাইল বললাম নিয়ে যাও। 
তার পড়ে যোগাযোগ ছিল মোটামুটি । ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এলাকা ছাড়তে হল পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরেই । মনে অনেক টান অনুভব করলেও বোলার সাহস ছিল না। কতই না বোকা আর নির্বোধ ছিলাম আমি । মাঝে মাঝে খুব মনে পড়ে ষোড়শী তোমারে । 

ঝাপসা জলের ঢেউ

২২ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ৮:৫৬

দ্রুত গতিতে সামনে যাচ্ছিলাম উদ্দেশ্য ---- নিজ গন্তব্য , গ্রীষ্মের দাবাদহে সূর্যটা সদিচ্ছায় অমানবিকভাবে তাপের বিকিরণ ছড়াচ্ছিল । মানুষ কে সৃষ্টির সেরা জীব হিসাবে সৃষ্টিকর্তা ঘোষণা করেছেন । সে হিসাবে মহান সৃষ্টি কর্তার নিকট অবনত মস্তকে প্রশংসা করতে বিন্দু মাত্র দ্বিধাগ্রস্ত হই । তবে কখনও যদি আমার সেই মহান সৃষ্টি কর্তার মুখোমুখি কথা বলার সুযোগ পাই , তাহলে অবশ্যই আমি এর কারন জানতে চাইব । 

কথা বলছিলাম কোথাও যাওয়া নিয়ে । আর এই যাওয়া আসার পথে কত কিছুই আমাদের চোখে পড়ে , কিছুতে আনন্দ, কিছুতে বিষাদ। সময়টা যে ঠিক দুপুরটা তা হয়ত সহজেই অনুমেয় । আমি একটু থামতে ইচ্ছা করছিলাম কিন্তু দ্বিধা ও তাড়া কাজ করতেছিল বিধায় অগত্যা সামনে যেতেই থাকলাম । 

কিছু সামনে গেলাম , রাস্তার ডান পার্শে একটা ডাস্টবিন , ময়লা আবর্জনায় পূর্ণ তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা । একজন মানুষ বয়স বড় জোর ৩০, এর বেশি হবে না । সাধারণত ঐ সময় টোকাইরা থাকে না তাই একটু কৌতূহল নিয়ে একটু দূরে অপেক্ষা করতে লাগলাম দেখার জন্য সে কি করে ? এর পিছনে আরেকটা কারণ হল লোকটি বোতল বা পরিতাক্ত কিছু খুজছেনা , সে অন্য কিছু খুঁজছে আমি ভাবলাম হারানো কোন জিনিস । 

অনেক খোঁজাখুঁজির পরে দেখলাম একটি পলিথিনের ব্যাগ তুলে আনল , ব্যাগটা একটু বড় ছিল কারণ ব্যাগে বিভিন্ন আবর্জনার সাথে মুখে কিছু উচ্ছিষ্ট খাবার তথা ভাত ছিল । সে কোন দিকে না তাকিয়ে খেতে শুরু করলো । তার খাবার এর প্রতি আগ্রহ দেখে মনে হল অনেক তৃপ্তি নিয়ে খাচ্ছিল । 

কাজের কথা ভুলে দাঁড়িয়েই ছিলাম আর ভাবছিলাম এই কেমন বৈষম্য ? এ কেমন সৃষ্টিগত পার্থক্য ? বুঝতেই পারি নাই কখন যেন চোখ দুটো ভিজে গেলো । ফোন আসলো ভাই তোমার জন্য আর কত সময় বসে থাকতে হবে ....... অনিচ্ছা সত্ত্বেও সামনে যেতে হল ।। 

লোকটি বিকৃত বা মানসিক রোগী ছিল কিনা জানিনা । তবে সে যে ধর্ম , গোত্র , বংশের, দলের বা সমাজের যাই হোক এমনটা আমি চাই না । 
(সংযুক্ত ছবিটি প্রতীকী তবে ঘটনাটা ঠিক এই ছবির মত) 

বিত্তে কোলাহল

১৭ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ১০:১৫
একটি জন্ম অনেক আকাঙ্ক্ষিত , অনেক প্রত্যাশিত , অনেক প্রাপ্তির যখন কোন শিশু জন্ম লাভ করে প্রতিটি জন্মই সবার মাঝে আনন্দের সঞ্চার করে ,হয় সে পিতা বা মাতা বা আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী । আর এই ভূমিষ্ঠ হওয়ার মাধ্যমেই শুরু হয় একটি জায়গা দখল করে অবস্থান নেওয়া, নতুন জগতে প্রবেশ । দিন যায় বেড়ে উঠি , একটা সময় পূর্ণ মানুষ রুপে সমাজে গণ্য হই ,কিন্তু আসলে কি আমরা বেড়ে উঠি নাকি আবার প্রস্তানের সময় গণনা করতে থাকি? এই জায়গা টা সত্য হলেও আমরা বিশ্বাস করতে চাই না । যাইহোক , বুদ্ধিদীপ্ত বা বুঝতে শেখার পড়ে কি দেখি সে বিষয়টা ঠিক এইরকম - মানুষ গুলো একটা অদ্ভুত প্রানি আর তারা নিজের স্বভাবের একটা ভিন্ন রকম ব্যাবহার করে, আপনি এইটা খুব ভালো ভাবেই অবলোকন করেছেন নিশ্চয় ? আমি দেখেছি নিজের পূর্ণতা বা বড় করে দেখানোর নতুন নতুন ফন্দী তারা প্রতিনিয়ত বের করে। কিন্তু তারা জানেনা যে তারা এক অনন্য সৃষ্টি। সত্যিই এই মানুষ গুলো অতিপ্ত নিজেরা জানেনা তারা কি চায়? আমি নিজেকে দিয়েই তার প্রমান । গত ২৪ বছর একটা বিত্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছি, যত দিন বেচে থাকবো এভাবেই থাকতে হবে। আমি চাইলেই বের হতে পারিনা , আমার আর্তনাদ সবাই শুনলেও কোন সমাধান দিতে পারবেনা। আমাকে কেউ মুক্তি দিতে পারেনা । আমি মাঝে মাঝে স্বপ্ন দেখি অনেক দূর ঘুরছি , শেষ প্রান্ত বিহীন পথের পথিক হয়ে অবিরাম ছুটে চলছি ,পরিতাপের বিষয় ঘুম ভেঙ্গে যখন দেখি আমি সেই বিছানাতেই আছি যেখানে কিছুক্ষণ আগে এসেছিলাম । আমি চিৎকার করি ! আমি অনুরধ করি ! আমি নতুনত্ব চাই ! আমি মুক্তি চাই ! আমি স্বাধীনতা চাই । আমি অনুভূতির প্রকাশের সাথে তার বাস্তবায়নতা চাই ! এত চাওয়ার মাঝে কোনটাই বাস্তবতার আর বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা থাকে না । তাই আমার ইচ্ছা গুলি সত্যতে রুপ নেয় না, আমার শত কোলাহল সেই বিত্ত্বেই বন্দী , যে বিত্ত অতিক্রমের কোন পথ খোলা নেই । আমাকে বন্দী থাকতে হয় , যার কোন মুক্তি নেই । হ্যাঁ সত্যই মুক্তি নেই । 

মায়ের প্রতি আমার কোন অনুভূতি কাজ করে না ::- মাঝে অদৃশ্য দেয়াল

১০ ই মে, ২০১৪ রাত ২:০৪
১১ মে বিশ্ব মা দিবস । আমি কি লিখবো মাকে নিয়ে ? উল্লেখ যোগ্য কিছুই নাই , শুধু জীবনের কিছু ইতিহাস ছাড়া। তার প্রলাপই না হয় ব্লগ এ কিছুই গাইলাম 
সময়টা ১৯৯৮ বাবা কিছুটা মানসিক ভারসম্মহীন অবস্থায় নিখোঁজ হলেন । অনেক খোঁজাখুঁজি করে পাওয়া গেল না । ১৯৯৯ সালে নিজেই ফিরে আসলেন পরে জানতে পেরেছিলাম তিনি রাঙামাটি ছিলেন অই একবছর । ফিরে আসার ২ মাস পরেই বাবা মারা যান । বেঁচে থাকলে বাবা কি নিয়ে আরেকদিন লিখবো ।বাবা এহেন অবস্থায় তেমন কোন অর্থ সম্পদ আমাদের জন্য রেখে যান নাই । তাই মা নানা বাড়ির লোকজনের পরামর্শে নানা বাড়ি চলে গেলেন । আমাকে রেখে গেলেন দাদির কাছে কারন তার সন্তানের সন্তান আমি অতএব আমার সকল দায়িত্ব দাদা বাড়ির সবার । আমি থেকে গেলাম দাদির কাছে এজমালি হিসাবে । মাঝে মাঝে নানা বাড়ি যেতাম আমি তখন ক্লাস ৫ এ পড়ি , মায়ের অভাবটা অনেক বেশী অনুভব করতাম । তখন ২ টাকা ভ্যান ভাড়া দিলে কমপক্ষে ৬ মেইল রাস্তা যাওয়া যেতো । দাদি বা কাকার কাছে থেকে কোন ভাবে ৫ টাকা নিতে পারলেই কাউকে কিছু না বলে চলে যেতাম নানা বাড়ি মা অনেক আদর করতেন , মায়ের পায়ের অপরে মাথা রেখে অনেক ঘুমিয়েছি ।ইচ্ছা হত আর মায়ের কাছ থেকে ফিরব না কিন্তু নিয়তি সরবচ্চ ১ দিন কি ২ দিন তার পরে আবার ফিরে আস্তে হতো রাস্তায় আসার সময় অনেক দিন কেঁদেছি রাস্তার মানুষ দেখবে বলে গারিতে না উঠে বিল দিয়ে হেটে, রাস্তার পাশ দিয়ে মাথা নিচু করে হেঁটে আসতাম অনেক মাইল । সময়টা ২০০০ সাল আমার বড় বোন ছোট বেলা থেকেই নানা বারীতে থাকতো , একদিন গেলাম দুপুর বেলা বড় বোন বলল ভাই রে একটু একটু গোপনে শুনলাম নানারা চায় মা কে আবার বিয়ে দিতে, তুই আর আমি তো কিছু করতে পারব না । আমি অই দিন থাকলাম রাআতে বড় আপুর কাছে কাছে গুমালাম, যেন কিছু কথা বলতে পারি বড় আপুকে বললাম তুই মাকে মানা কর , আমরা সবাই আমার একসাথে থাকি লেখা পড়ার দরকার নাই আমার আমি কাজ করব চল আমরা সবাই নানা বাড়ি থেকে চলে যাই ।তাকে বুঝাতে চেয়েছি বাবা নাই আমরা তাহলে কার কাছে যাবো । বোন বলল মনে হয় সুনবে না । রাতে ঘুমালাম সকাল হল আমি চলে আসলাম । তার পরে আর অনেক দিন আর যাওয়া হয় নি । সম্ভবত ২ মাশ পরে গেলাম । আমি নানা বাড়ি গিয়ে দেখি মা অন্য কার বাসায় যেন গেছেন রাস্তার পাশেই আমি অপেক্ষা করতে থাকলাম । এর মাঝে বড় বোন বলল মা বিয়ে করছেন ভাই আমাদের আর কেউ থাকলো না । অন্যান্য বার গেলে মা অনেক আদর করেন কি খেয়েছি ?কখন বের হয়েছি ? দাদি কেমন আছেন ? হাজার প্রশ্ন । কিন্তু আমি অবাক হলাম মা আজ কোন প্রশ্ন করলেন না । তিনি যখন আসলেন সাথে আমার দুজন খালা ছিলেন , কি যেন বিষয়ে খুব আগ্রহ নিয়ে কথা বলতে ছিলেন । আমি সামনে দাঁড়ালাম ছোট খালা বললেন কি অ্যাঁয় বাড়িতে আয় । মা শুধু একটা প্রশ্ন করলেন কখন এসেচি ? উত্তর দিলাম একটু আগে এটুকুই সাক্ষাতে কথা । আমি থাকলাম আর কেমন জানি অপরাধ বোধ কাজ করতেছিল , মনে হচ্ছিলো এই প্রথিবিতে আমি একা । আমার বলে আর কেউ নেই । একা একা ঘুরতে থাকলাম । সন্ধ্যা হল অই দিন থাকলাম কার সাথে তেমন কথা বললাম না , একটা বিষয় ভাবছিলাম মা এটা কেন করল ? আমাদের কথা একবার ভাব্লনা না? পরের দিন সকালে ভরে কাউকে কিছু না বলে চলে আসলাম । তার পরে ৬ মাসের মত সময় হবে আমি আর যাই নি ।এর মাঝে মা অনেক বার খবর দিছেন জেজে মন চায় নি । ২০০১ বড় বোনের বিয়ে হল অই দিন গেলাম । তার পরে ২০০২ সাল পর্যন্ত আর যাওয়া হয়নি । শেষে ২০০২ সালের ডিসেম্বর মাসে মা আমাকে দেখতে আসলেন দাদি বাড়ি । দেখা হল কিন্তু আমি যে মা কে খুঁজছিলাম ? যার জন্য স্কুল ফাকিদিয়ে ৮ মাইল রাস্তা হেঁটে দেখা করতে যেতাম তাকে আজকের মায়ের মাঝে খুঁজে পেলাম না । মায়ের অভাব অনুভব করতে লাগলাম । আমি মাকে দেখছিলাম তিনি আমার সামনে কাঁদছেন , আমি ও কাঁদছি কিন্তু আমার মনে হচ্ছিলো আমার মা নেই , ভেতর থেকে আন্তরিকটা কাজ করছেনা আমার খুব ভাল ভাবে বুঝিলাম , আবার মায়ের অভাব বোধ ও করছিলাম । এদিকে দাদি কাছে থাকা অবস্থায় আমার চাচারা অনেক আদর করতেন ,দাদির কাছে থাকা অবস্থায় মায়ের কথা আর বেশী মনে হয়নি , দাদি আমার সব অভাব পুরন করতেন যে খানে যেতেন সাথে নিয়ে যেতেন । সব চাচারা আলাদা ছিলেন শুধু ছোট চাচা ছাড়া । 
২০০৩ সালে ছোট চাচা একটা চাকরি নিয়ে নাটোর আসলেন । আমাদের নতুন সংসার হল ছোট চাচা আমি আর দাদি । চাচা ২০০৩ সালের প্রথম দিকে বিয়ে করলেন সদস্য বাড়ল ১ জন । আমি ছোট চাচার সাথে গ্রাম থেকে নাটোর চলে আসলাম নতুন স্কুল এ ভর্তি হলাম । দাদি গ্রাম থেকে একবারে আস্তে চাইলেন না, মাঝে মাঝে আসতেন । আমি , চাচি আর চাচা শুরু হল আমার জিবনের নতুন অধ্যায় । চাচি আপন করে নিলেন ভালবাসলেন নিজের সন্তানের মত । আমার কোন অভাব থাকলো না । শহরের জীবন মিশে গেলাম সবার সাথে , নতুন নতুন কাপর, বই্‌ , ব্যাগ বন্ধু পেলাম নতুন স্কুল । এর মাঝে মা তেমন একটা যোগাযোগ করেন নি । হয়ত ভেবেছেন ভালই আছি । নাটোরে আসার পরে আমাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি , চাচা আমার সব অভাব পুরন করেছেন । মোবাইল, মোটরসাইকেল, দামি কাপড়, সপ্তাহে সময় করে ঘুরতে যাওয়া । সময় পেলেই সাথে নিয়ে যেতেন আমি তার সাথে বাংলাদেশের ২৩ টা জেলা ঘুরেছি । প্রায় দিন আমরা ঘুরতে যেতাম । এভাবে ৩ বছর কেটে গেল এস এস সি পাস করলাম ২০০৬ সালে । মায়ের সাথে দেখা হতো কম । চাচা চাচি প্রায় বলতেন কি তোর মায়ের সাথে দেখা করে আয় , আমি জানি না কেন যেন মন চাই তো না। আমি না বললে চাচা চাচি বলতেন চল আমরা সবাই গিয়া দেখা করে আসি । এভাবেই চলতে থাকল এর মাঝে কয়েক বার গেছিলাম কিন্তু মা সামনে দারিয়ে থাকা অবস্থায়ও আমার মনে হতো কথায় আমার মা আমি মা কে চাই । এখন ২০১৪ সাল এর মাঝে মায়ের সাথে অনেক বার দেখা হয়েছে কথা হয়েছে , আমি মাঝে মাঝে মিথ্যা উচিলায় মায়ের কাছে যাই , অমুক জাগায় গেছিলাম তো ভাব্লাম একটু দেখা করে যাই এমন করে দেখা করি কিন্তু আমি মাকে খুঁজে পাই না , কেন জানি অনুভূতি কাজ করে না । যদিও এত গুলা বছর মায়ের কাছে যেতে মাকে কেউ বাঁধা দেয়নি , আমি আজ আমার জন্মদাতা মায়ের ভালবাসার বাপারে অনুভূতি শূন্য । তার কান্না আমার ভেতরে নাড়া দেয় না । তিনি যদি আমার সামনে কাদেন আমার কস্ত হয় আমি ও কাদি কিন্তু মায়ের যে কান্না বা মায়ের জন্য কান্না এটা আমার আসে না । মায়ের কাছে থেকে আলাদা থাকলাম ১৬ বছর । আজ ও আমার চাচাচি সেই আগের মতই ভালবাসেন , অনেক বিরক্ত করি ,কষ্ট দেই । এর মাঝে চাচার ৩ টা সন্তান হইছে । কিন্তু আমার জায়গাটা সেই আগের জায়গাতেই আছে , তাদের কাছে আমার জন্য ভালোবাসা সামান্নতম কমে নি । ১১ বছর চাচির সাথে আছি , আমি মায়ের সকল ছায়া চাচির মাঝে দেখি , তার মন খারাপে আমার কষ্ট হয় । কিন্তু আমার চাচি কনদিন আমাকে মায়ের কাছে যেতে বাঁধাদেননি । অথচ আমি জা আমার মায়ের জন্য অনুভব করি না টা আজ চাচির জন্য করি । আমি অনেক চেসা করেছি , নিজে কে নিজে বুঝাতে চেষ্টা করি তিনি আমার মা আমাকে জন্ম দিছেন । কিন্তু আমি প্রতি বাড়ি বেরথ হই ।
মায়ের কলে মাথা রেখে আমার সুখ দুঃখের গল্প ফুলি শুনাতে ইচ্ছা হয় । বলতে ইচ্ছা হয় মা আমার এটা ভাল লাগে ওইটা ভাল লাগে না। আমি তোমার কাছে থাকতে চাই । কিন্তু কি যেন এক দেয়াল আমি অনুভব করি । মাঝে মাঝে মা মা মা বলে চীৎকার দিতে ইচ্ছা হয় । মনে হয় প্রান খুলে মা কে ডাকি।এই ডাকতে না পারার কষ্ট টা আমার আমরণ থেকেই যাবে। মায়ের প্রতি আমার কোন অভিযোগ নেই কারন, তার যে আর্থিক নিরাপত্তা দরকার ছিল টা দেবার সামর্থ্য আমার অই সময় ছিল না তাই মাকে আমি ২য় বার বিয়ের জন্য কখনই দোষ দেই না । মাঝে মাঝে ফোন দেই মা ও দেন । অসুথ হলে দেখতে যাই । মা শারীরিক ভাবে অনেক অসুস্থ যত টুকু পারি কিছু দিতে চেষ্টা করি । কিছু দিন আগে একটা মোবাইল কিনে দিলাম যেন সব সময় যোগাযোগ রাখতে পারি । আপনার সবাই আমার মায়ের জন্য দোআ করবেন ।আমি চাই তিনি যেন ভাল থাকেন । আল্লাহ্‌ তাকে সুস্থতা দান করুন আমিন । 

কর্ম খোঁজা নয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন

আপনার যে পরিমান সামর্থ্য আছে তাই নিয়েই হয়ে যান একজন উদ্যোক্তা , কর্ম খোঁজা নয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন : যেকোনো কাজে উদ্যোগ নেওয়া ও উদ্যোক্তা হওয়ার মাঝে অনেক কিছুই অর্জন করার আছে , এখানে আপনি শিখবেন মানুষ আপনাকে কত ভাবে ঠকাতে পারে ! আপনি শিখবেন আপনার অধিনস্তরা কীভাবে আপনাকে ফাকি দিচ্চে।
প্রতিনিয়ত আপনাকে টিকে থাকার জন্য নতুন নতুন পলিছি গ্রহন করতে হবে এবং সে অনুসারে সামনে এগিয়ে জেতে হবে । আপনার সামনে মাঝে মাঝে অপার সম্ভাবনা আবার অনেক হতাশা দেখা দিবে আপনাকে তা বুদ্ধি ও বাস্তবটার নিরিখে বিচার করে সিধান্ত নিতে হবে ।
একটি কর্ম ক্ষেত্র তৈরি করতে পারাতে অনেক আত্মতুষ্টি ও আনন্দ আছে তা যে পরিসরেই হোক না কেন ? আপনি হয়ত প্রথমে অনেক বড় কিছু করতে না পারলেন সেটা ছোট হলে হলে আপনাকে যে অভিজ্ঞতা দিবে তা পরবর্তীতে অনেক কাজে লাগবে।
আপনার কাজের স্বাধীনতা থাকবে এখানে সাথে ইচ্ছার ও । আপনি এইখানে নেতৃত্ব দিবেন যা আপনার অনেক গুলি গুণের মাঝে ঠাই করে নিবে । আমি মনে করি আপনি যে অবস্থায় যেখানেই থাকেন না কেন আপনার ও উচিত একজন উদ্যোক্তা হওয়া ।
এক্ষেত্রে আপনার মূলধন থাকলে ভাল কথা না থাকলেও হতাশার কিছু নেই আপনার পাশে দাঁড়ানোর  জন্য অনেকেই আছেন সেক্ষেত্রে আপনার কর্ম , আপনার উদ্দেশ্য , আপনার বাক্তিত্ত সব কিছুরই স্বচ্ছতা ও গ্রহন যোগ্যতা থাকতে হবে । উদ্দেশ্য হতে হবে সৎ এসকল বিষয় গুলি আপনার মাঝে থাকলে কোন প্রতিবন্ধকতাই আপনাকে রোধ করতে পারবেনা।
আজ এ পর্যন্তই ভাল থাকবেন সবাই । আল্লাহ্‌ হাফেয

মেয়ে তুমি প্রস্তুত তো ! বৈরি পরিবেশে পথ অতিক্রমে ?


ঈদের দিনের কিছু ঘটনা মেয়ে সম্পৃক্ত সব গুলিই কিন্তু অস্বাভাবিক, আপনি  বর্তমান উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েদের মন মানসিকতা বিচার করতে পারবেন এই ঘটনার প্রেক্ষিতে । এমন ও হতে পারে আমার চেয়ে আপনার অভিজ্ঞটা বেশী ।
ঘটনা- ১ ঃ দুপুরে অটো গাড়িতে যাচ্ছিলাম ছেলে গুলোর বয়স ১২-১৭ হবে , রাস্তার পাশে বা পাশে অতিক্রম কারি কোন মোটর সাইকেল, অটো বা ভেনে কোন মেয়ে পার হতে লাগলে কাছে আশা মাত্র এমন কিছু সব্দ করতে ছিল বা আওয়াজ দিচ্ছিল যা পাসে থেকে সহ্য করাটা দুর্বহ ।
ঘটনা ২ঃ বিল হালতি রাস্ত্রার অপরে মোটামুটি ভালই পানি, সবাই একটু বিনোদনের আশায় হাটছিলেন , মাঝে মাঝে দু একটা মেয়ে ছাড়া সবই ছেলে , মেয়েরা যখন তাদের পাশ দিয়ে যায় তখন তাঁরা জোরে হাঁটে যেন মেয়েটি ভিজে যায়, বাঁকা করে ক্যামেরা ধরে ছবি তোলে । আর অনেক কিছু ।
ঘটনা ৩ ঃ আমরা ফেরার সময় ব্রিজের ওপর আমাদের গাড়িতে একটি মেয়ে উঠে । মেয়েটির সাথে এর কেউ ছিল না । রাস্তায় আসার সময় কয়েক বার জ্যাম এ আটকা পড়ি । ঐ সময় পাশের গাড়িতে থাকা পলাপাইন মেয়েটিকে নিয়ে যেসব আপত্তিকর মন্তব্য করতেছিল , কোন সুস্থ সমাজের মানুষ তা করে না
ঘটনা ৪ঃ আপন কফি হাউস রাত ৯ টা ২ টা মেয়ে বয়স ১৪-১৫ এর বেশী হবে না । কফি হাউজ এ আসছে সাথে কোন ছেলে মানুষ নাই । জেলা শহরের জন্য রাত ৯ টা অনেক কিছু । এদের সাহস তারিফের দাবিদার । এই খানে ভাববেন যে কিছু হয়নাই ।
ঘটনা ৫ ঃ সাহারা প্লাজা , লিফট এ উঠার সিরিয়াল এ ঠেলাঠেলি মেয়ে বা মহিলারা যে লাইন এ পলাপাইন সেই লাইনে । কোন সুন্দর মেয়ে যদি আসছে তাইলে এদের চাপে মেয়ের অভিভাবকরাও পাশে থাকার সুযোগ পায় না ।
আমি এখানে যা লিখলাম এরচেয়ে অনেক বেশী খারাপ কিছু হচ্ছে , যা লিখা সম্ভব হচ্ছে না । এই যে কিছু ঘটনা , বা এই ধরনের ছেলেরা যা করছে অনেক সময় দেখা যায় তাদের চেয়ে ঢের বেশী বয়সী মেয়েদের সাথেও এই আচরণ । এদের দৃষ্টি তে মেয়ে বা মহিলা না তাঁরা “…” ।
কথা হচ্ছে এরা আসলে কি চায় ? এসবের মানে কি ?। আজ থেকে ৫ বছর আগেও এমন খারাপ অবস্থা ছিল না, আজকের অবস্থা বিবেচনায় আগামী ৫ বছর পরে আমার আপনার অধিনস্ত বা কন্যারা রাস্তায়, ওয়ার্কপ্লেচে কতটা নিরাপদ থাকবে আমাদের অবর্তমানে?  বিষয়টা এখানেই বিবেচ্য ।
তবে পরিত্রাণের উপায় যে সহজ তা সকল কেউ স্বীকার করতে হবে । আমি যদি এইখানে সেসব কথা বলি তাহলে আমাকে সুচিল সমাজের কিছু আঁতেল এই ঈদের দিনেও গালি দিতে দ্বিধা করবে না । এত সব কিছুর মাঝেও সবাই ভাল থাক । কুলাঙ্গার নিপাত যাক। আমার বোন নিরাপত্তা পাক ।  প্রত্যাশা এতুকুই ।

পোস্টটি  রোজার ঈদের দিন অনেক আক্ষেপ নিয়ে  লিখেছিলাম, ফেচবুক নোট এ সেভ করা ছিল  ।  আজকে এতক্ষণ কাজ করলাম বের হবার পরে ঘুরে এসে জানাব আজ কি দেখালাম আশা করি গত ঈদের দিনের মত কিছু দেখব না)

প্রেমিক রিকু

১৯ শে এপ্রিল ১০১২,                        

 প্রেম তুমি একবার এসেছিলে নীরবে........ এই গানের কথা ধরে সামনে এগুতে চাই ,  প্রেম কম বেশী সবার জীবনেই আসছে রিকু ও এই প্রেম নামের ভাইরাস থেকে নিজেকে শেষ রক্ষা করতে পারেনি , রিকু ও প্রেম করেছে । প্রেম নামের ধারণা আসে ক্লাস নাইনে পড়ার সময়। তখন রিকুর একটি  মেয়ে কে  ভালো লেগেছিল ,কিন্তু কিছু বলার মত সাহস তার ছিল না । মানুষ যে আচার –আচরণে এর মাধমে পূর্ণ বিকাশ ঘটে রিকুর জিবনে কিন্তু তার অনেক অভাব ছিল। রিকুর মাঝে সর্বদা একটা ভয় বিদ্যমান ছিল ভয় টা কিসের টা বলে রাখা দরকার , রিকুর জীবন টা ছিল আশ্রিত  যদিও সে ওই জিবনে অনেক কিছুই পেয়েছিল ছিলনা কোন অভাব, অনেক ভালো ছিল সে । কিন্তু রিকুর মাঝে যে  অভাব ছিল তাহলো  ভালবাসার । রিকুর এই অভাবতাই ছিল অতিমাত্রায় কেননা সে ছোট বেলা থেকেই টা থেকে বঞ্ছিত । এটা কে সে দুর্ভাগ্য বলেই মেনে নিয়েছে । রিকুর বন্ধুরা যখন প্রেম করত রিকু দেখত ও ভাবত কিভাবে প্রেম করা যায় , এই নিয়ে বন্ধুরা তাকে উপহাস ও করত , এভাবেই রিকুর মনে প্রেম করার দৃঢ় ইচ্ছা ও বাসনা বাসা বাধতে থাকে। রিকুর প্রেম চূড়ান্ত পর্যায় আসে তার কলেজ লাইফে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে, এখানে এসে নতুন বন্ধু জোটে যারা সবাই প্রেম করে ৪ জনের গ্রুপ ভালই চলছিলো তাদের প্রেম,  কিন্তু মেয়ে  ছিল ৫ বান্ধবী , রিকু ওই দলে যোগ  দিলে সমান সমান হয় । রিকু ও বন্ধুরা প্রতিদিন বিকালে প্রাইভেট পড়া বাদ দিয়ে একসাথে আড্ডা দিত এর মূল কারন ছিল প্রেমিকা দের সাথে ফোনে প্রেমালাপ , রিকু ওদের সাথে বসে থাকে আর সবাই প্রেমিকাদের সাথে কথা বলে । রিকুর ও ফোন আছে কিন্তু তাতে কল আসে না , এ ভাবেই চলল কিছু দিন এক সময় রিকু বন্ধুদের বলল দোস্তরা আমার জন্য কিছু কর এ ভাবে আর চলে না, ছাত্র জীবনের অনেক গুলা দিন তো শেষ হয়ে গেল একটা প্রেম করতে পারলামনা। এক বন্ধু বলল কাল কলেজ আসিস একটা মেয়ে দেখাব যদি তোর ভালো লাগে তাহলে বাকি কাজ আমার তোর প্রেম আমি সফল করে দিব যে ভাবেই হোক কিন্তু সিধান্ত পরিবর্তন করবি না যেন , তাহলে তোর কপালে খারাবি আছে। রিকু এই প্রস্তাব পেয়ে তো মহা খুশি যাক প্রেম এর স্বাদ এইবার মিটতে পারে ।

পরের দিন রিকু কলেজে গেলো বন্ধুরা সবাই দ্বিতীয় তলার বারান্দায় দাড়িয়ে আছে রিকু ও দাঁড়াল এমন সময় এক বন্ধু নিচে একটি মেয়েকে দেখিয়ে বলল ওই যে দেক কয়েক টা মেয়ে দাড়িয়ে আছে রাস্তার পাশে ওরা সবাই তোকে  চিনে , মেয়ে গুলোর  মাঝে হাল্কা করে বাম পাশে যে মেয়ে টা দাড়িয়ে আছে ওইটা  আমরা সবাই তোর জন্য ঠিক করেছি ,কেমন লাগে বল ? মেয়েটা কিন্তু ক্লাস এইট এ পড়ে , রিকু দেখল ভালই তো তাছাড়া প্রেম করা দিয়ে কথা । রিকু দূর থেকে দেখল , ভালোভাবে দেখার আগেই মেয়েরা চলে গেলো  রিকু ক্লাস এ আসল বন্ধুরা বার বার রিকুর মতামত জানতে চাচ্ছে । আর হাঁ মেয়ে টার নাম কিন্তু ছিল মুন্নি । মুন্নি দেখতে ছিল হাল্কা গড়ন চেহারা , মুখটা ছিল অনেক মায়াবী প্রথম দেখায় ভালো লাগার মত একটা মেয়ে , সে ছিল অনেক লাজুক । স্টুডেন্ট হিসাবে সে ছিল  প্রথম সারির এটা আমরা পরে জানতে পেরেছিলাম  ।
বন্ধুরা রিকুর অপর খুব রেগে গেলো প্রেম করবিনা তো এত কিছু কেন করালি? সবাই মার মার অবস্থা ,রিকু আস্তে করে বলল দোস্ত আমি রাজী কিন্তু বাড়ির সবাই যদি জেনে যায় তাহলে কি হবে ? বন্ধুরা রিকু কে সাহস দিল ধুর এটা কোন সমস্যাই না, তুই ভয় পাইস না আমরা তো আছি , তাহলে বিকালে আসবি আমরা  প্রতিদিন  যেখানে বসি । রিকু বাসায় আসল মনের অবস্থা আজ বেশী ভালো না খুব ভয় লাগছে কিজানি কি হয় ? বন্ধুদের কি বলেই দেবে যে আমি প্রেম করবনা ? নাকি না কিছুই বলবে না। ভাবতে ভাবতে বিকাল,  চলে আসল আড্ডার জাগায় বিকাল ৪ টার মাঝে কফি হাউজের পিছনে আড্ডা বসল আজ একটাই ইস্যু রিকুর  প্রেম । ফোনে কথা বলছে ওরা এমন  সময় রিকুকে এক বন্ধু ডাকল রিকু মুন্নি আজ সুমিদের বাসায় প্রাইভেট পড়তে আসছে আমি এতক্ষণ সুমির সাথে কথা বলছি মুন্নিকে সুমি রাজী রাজিকরাইছে তুই এখন আমার ফোন দিয়ে মুন্নির সাথে কথা বল ।(আপনারা হয়তো ভাবছেন আমি এত কথা কিভাবে জানলাম বলে রাখা দরকার আমি এই সব কিছুর প্রত্যক্ষদর্শী ) রিকু ফোন নিল এর আগেও রিকু ফোনে অনেকর সাথে কথা বলছে কিন্তু এমনটা কখন হয়নি, রিকু কথা বলতে পারছেনা , কি বলবে ভেবেও পাচ্চে না এই দিকে বন্ধুরা রিকুকে একরকম মারা সুরু করল্‌  কিরে মুন্নি ফোন  ধরে আছে কথা বলিস না কেন? এক বন্ধু রিকুর ঘাড়ে উঠে বসল তুই কিছু একটা বল এই সুযোগ আর আসবেনা যদি কিছু না বলিস তাহলে তোর সাথে আর সম্পর্ক নাই , পাশে একটা বড়ো পুকুর ছিল তাতে ফেলে, ডুবানোর হুমকি ও দিচ্ছিল বন্ধুরা ।
রিকু ভাবল যা হয় হোক কথাতো  বলি রিকু সালাম দিলো “আশশালামূয়ালয়কূম ডার্লিং কেমন আছো”  রিকু এর আগে কখনো ঐ মেয়ের সাথে কথা বলে  নাই  ,কিন্তু হটাত করে  রিকু  এমন কথা বলে দিবে এটা রিকুর বন্ধুরা কখনো ভাবেনি  সাথে  সাথে হাসির রোল পড়ে গেলো । তাহলে ঐ পাশে  মুন্নির অবস্থা কী?  ফোন তখন সুমির কাছে । পরে জানা গেছিল যে মুন্নি , সুমির ফোন টা ফেলে দিয়েছিলো ।

এইবার অপেক্ষা মুন্নি কী বলে ? পরের দিন জানা গেল মুন্নি রাজী না ,সবাই হতাশ এটা কী হল ?
সবাই রিকুকে দোষ দিলো তোর কপাল খারাপ ,চিন্তা করিস না একটা উপায় আছে আমরা সবাই আমাদের ওদের সাথে জোগড়া করে আর কথা বলবো না , দেখবি ওরাই মুন্নিকে রাজী করাবে । এর পরে পনেরো দিন গেল ষোলো দিনের দিন উত্তর আসলো মুন্নি রাজী । শুরু হল নতুন অধ্যায় প্রেম নামের গাড়ীতে আজ রিকু যাত্রী । অনুভূতি টা আর কী বলবো আপনারা যারা প্রেম করেছেন তাঁরা তো জানেন তাই আর  ঐদিকে গেলাম না । কথা হয় প্রতিদিন ফোনে আর দেখা হয় রাস্তায় কিন্তু কথা হয়না যেহেতু তাঁরা দুজনেই ভয় করে যদি  কেঊ জেনে যায় । তাই তাদের কথা খূব কম  হয়। এভাবেই চলল দুই বছর এর মাঝে সবাই ডেটিং করেছে কিন্তু রিকু একবার ও যায়নি কারণ টা ছিল । বেশী বাড়াবাড়ি করলে সবাই জেনে যাবে তাতে দুজনের এ সমস্যা , যেহেতু এটা রিকু প্রথম প্রেম তাই রিকু এই সম্পর্ক টাকে অনেক সম্মান করে । এটা নীয়ে মুন্নি কী ভেবে ছিল আমরা আজও জানতে পারি  নাই। রিকু ও মুন্নির  এই যোজন যোজন দূর প্রেম চলে ছিল দুই বছর । ইন্টার পাশের পরে রিকুদের দল টা ভেঙ্গে যায় সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে ,আর এতে তাদের প্রেমর সম্পর্ক ভেঙে যেতে থাকে সবাই যখন দিক –বিদিক ছড়িয়ে যায় রিকু ও গিয়ে ছিল কিন্তু রিকু আবার আগের জাগায় ফিরে আসে কিছু দিন পরে , এর পিছনে কিছু কারন ও ছিল ,তার মাঝে মুন্নির প্রতি টান । রিকু ফিরে এসেই অনেক ভাবে মুন্নির সাথে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করে ,মাঝে কয়েক বের রিকু সফল ও হয়েছিল তার সাথে কথা বলতে , কিন্তু এই আন্তরিকতা আর খুজে পায়নি রিকু, তবু ও রিকু চেষ্টা করেই চলেছে কারন রিকু মুন্নিকে ভালবাসে । মুন্নির প্রতি রিকুর ভালোবাসা অগাধ না থাকলেও ভালবাসা যে   ছিল এটা আমি ভালোভাবেই উপলব্দি করেছিলাম গভীর ভাবে কারণটা ও সাধারণ আমি তাকে অনেক কাছ থেকে দেখেছি , দেখেছি তার আবেগ , না পাওয়ার বেদনা ।
কাজী নজরুল ইসলাম এর ভাষায় বলতে গেলে—
                                                “ কেন দিলি এ কাঁটা
                                                          যদি  গো না কুসুম দিলে
                                                 ফুতিত না কি কমল
                                                          ও কাঁটা না বিধিলে ।।
                                                কেন এ আঁখি -কূলে
                                                          বিধুর অশ্রু দুলে,
                                                 কেন দিলে এ হৃদি
                                                          যদি না হৃদয় মিলে।।“
 এভাবেই মূলত দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল । রিকু আগের দিনগুলির মত মুন্নিকে বার বার চেয়েও যখন আর পাচ্ছিল না তাই ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছে । গত দুই বছর  রিকুর কোন যোগাযোগ নাই মুন্নির সাথে, রিকু তার মনে আর কোন মেয়েকে জায়গা দিতে পারেনি, প্রেম রাজ্যে প্রবেশ পথে রিকু মুন্নির কাছে যা পেয়েছিল টা পুঁজি করেই রিকু এখন সামনে পথ চলতে চায় । একই শহরের বাসিন্দা তারা তাই  মাঝে মাঝে রাস্তায় রিকু ও মুন্নির দেখা হয় কিন্তু কথা হয়না । দুজন এক পলক তাকিয়েই নিজের গন্তব্যের পথে পা বাড়ায় । যে সময় রাস্তার পাশে গেলে মুন্নির সাথে দেখা হবে ,রিকু ঐ পথে  তার কাজের সময়টা একই সময় করে নিয়েছে তাই মাঝে মাঝেই দেখা হয় তাদের , রিকু আর ও ঠিক করেছে সে আর কোন দিন কোন মেয়ের সাথে প্রেম করবেনা যত  দিন পারে এ এভাবেই থাকবে আর  মুন্নিকে ভালবেসে যাবে । রিকুর এতেই সুখ মুন্নি ভালবাসেনি তাতে কি  ! রিকু  তো ভালবেসেছে  ।
রিকুর আকাঙ্ক্ষা হয়তো সুকান্ত ভট্টাচার্য এর মতই ছিল । যিনি কোন একজন কে না দেখা ও পাওয়ার বেদনায় লিখেছিলেন –
                                     “এখনো আমার মনে তোমার উজ্জ্বল উপস্থিতি ,
                                      প্রত্যেক নিভৃত ক্ষণে মত্তটা ছড়ায় যথারীতি,
                                      এখনও তোমার গানে সহসা উজ্জ্বল হয়ে উঠি ,
                                     নির্ভয়ে উপেক্ষা করি জঠরের নিঃশব্দ ভ্রূকুটি”
তবে রিকুর এই ভালবাসা মুন্নির জন্য কতদিন বা কাল  থাকবে তা  আমার বলার সাধ্য নাই, এতটুকু বলতে পারি রিকু আজ ও মুন্নিকে আগের মতই ভালবাসে ।  আমি অনেক ভেবেছি মুন্নি এবং কিছু প্রশ্ন  নিয়ে আসলে মুন্নি কি ভেবে রিকুর সাথে এমন করলো ? মুন্নি কি রিকু কে তার বন্ধুদের মত ভেবে নিজেকে দূরে রাখতে চেয়েছিল? নাকি মুন্নি রিকু কে ভালবাসে নাই? আপনারা কি বলবেন?।



(আমি কোন পেশাদার লেখক না, যা লিখেছি একান্তই মনের টাণে আমি গল্প ,কাব্য এর ভাষা বা লিখার নিয়ম-কানুন জানিনা , এই ছোট গল্পটা আপনাদের ভালো লাগলে আমার সার্থকটা ,আশা করি আপনারা আমার এই লেখা গুলোর গঠন মূলক সমালোচনা করে ভুল গূলো ধড়িয়ে দিবেন আর সামনে আরও লিখবো কিনা তা আপনাদের ওপরেই নির্ভর করছে , ভালো থাকবেন সবাই ।                          -আব্দুল্লাহ  )

বিষয়টি এখানেই শেষ নয় : যেতে হবে অনেক পথ

আপনি রহিম, করি্‌ আবুল জব্বার আর তালুকদার , ছোট ,বড় , লম্বা খাটো যেই হন না কেন আপনার পরিচয় আপনি মানুস । আপনি জানেন সৃষ্টির সেরা জীব আপনি এই ধরার সবচেয়ে দামি সেও আপনি । কিন্তু ভুলে যাবেন না এর সাথে সাথে সবচেয়ে নিকৃষ্ট, অধঃপতিত, নির্যাতক্‌ লুটেরা আর অসন্মানিত আপনি বা আপনার আমার সমগোত্রীয় কেউ না কেউ । এ সব কিছুর কারন আমরা মানুষ । আমি এই বিষয়টির নিস্পত্তি করতে পারব না ।বিধায় আজ আমার বিষয় ভিন্ন । 

আমি একটি আরবি প্রবাদ দিয়ে শুরু করতে চাই অনেক আগে শুনেছিলাম “ কুল্লু সাইএন্ন ইয়ার জেউ ইলা আসলিহি” জার অর্থ প্রত্যেক বস্তু তার মূলের দিকে ফিরে যায় । “আসলিহি” শব্দটি মূলত আছল শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ মূল । এখানে শব্দটিকে রূপক অর্থে ব্যাবহার করা হয়েছে । 

আপনি একজন পুরুষ হয়তো শিশু, কিশোর ,যুবক, বৃদ্ধ অথবা একজন বাবা । আপনি আপনার জীবনের প্রত্যেকটি বিষয় কর্ম নিয়ে এক্তু বসে ভাবুন কি করছেন ? এতদিন কি করে এসেছেন ? কেন করছেন ? কার জন্য করছেন ? কি কিছু পেলেন ! একটু সময় নিয়ে ভেবে নিয়েন তাহলেই হবে । চলেন আরেকটু সামনে যাই- আমি আসলে মনে হয় সহজ কথা জটিল করে ফেলেছি , দুঃখিত জনাব । 

আপনি আপনার জীবনে যে কাজ গুলী করছেন , তা ভালো ছিল কি খারাপ ছিল তার হিসাব দরকার নেই । কথা হচ্ছে প্রত্যেক মানুষ তার কর্মফল ভোগ করে । আপনি যদি প্রকাশে বা গোপনে কোন নৈতিক বা অনৈতিক কিছু করে থাকেন, হতে পারে খুন, ধর্ষণ , চুরি ,ছিনতাই আমানতের খেয়ানতকারি অথবা গোপনে দান করেছেন, মানুসের উপকার করেছেন তাহলে এর একটা প্রভাব আপনার পরবর্তী আহল গনের মধ্যে থাকবে । আপনাকে অবশ্যই এই কথাটি বিশ্বাস করতে হবে । আপনি গোপনে চিগারেট খাণ , আপনার সন্তান ও খাবে । আপনার এই ভালো আর মন্দ অভ্যাস গুলির ৮০% আপনার সন্তানের উপরে যাবে । আপনি অসামাজিক কাজ করছেন কেউ দেখছে না ,জানছে না মনে রাখবেন আপনার সন্তান একদিন এই কাজ গুলোই আপনার অগোচরে করে ফেলবে । 

আপনি খুব মানবিক একজন মানুষ সর্বদা মানুষের ভালো ছিন্তা করেন , মানুষের মঙ্গলে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন, বিপদে আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ান , আপনার কাছে রাতের আধারে রাস্তায় চলা যুবতী মেয়টি নিরাপদ তাহলে আপনার যে অনাগত বা ঘরে যে সন্তানটি রয়েছে তার ভেতরেও ঠিক একই রকম মূল্যবোধের জন্ম হবে । যে আপনাকে করবে সম্মানিত । আপনি মাথা উচু করে বলতে পারবেন সে আমার সন্তান । ভাই অই যে অমুক , জানেন ছেলে টা কার ? আমার ভাই আমার । 

এইটা শুধু ছেলেদের ক্ষেত্রে না মায়েদের ক্ষেত্রও সমভাবে প্রযোজ্য । আপনি মা হিসাবে যে ধরণের চরিত্র , আচরণ ,জীবন স্বভাব আর বিশ্বাস নিয়ে পথ চলছেন ঠিক আপনার মেয়েতিও সে বিশ্বাস নিয়েই পথ চলবে । কারন আপ্নাকেই এখন ঠিক করতে হবে । কোন দিকে যাবেন আপনি ? 

ভাই সন্তান আপনার বা একদিন বাবা হবেন কথা একই , আপনাকে তার উজ্জল আগামী নিয়ে ভাবতে হবে না , আপনি নিজে ভালো হন সে ভালো হবে । আপনার ছেলে বা মেয়ে তাকে নিয়ে কখন বিব্রত কর অবস্থায় পড়তে হবে না । আপনি নৈতিক হন সেও হবে আর এই নতিকতা, মূল্যবোধ, সভ্যতা , আচরণ ঘর থেকে শুরু হয়ে থাকে এ জন্যই হয়তো বলা হয়ে থাকে মানুষের প্রথম ও আদরশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে তার পরিবার । আপানার নিজের ভেতর যদি এর চর্চা না থাকে ,তাহলে সে কি দেখে শিখবে ? আপনাকে কখনই ভাবতে হবে না যে আপনার ছেলেটি রাস্তায় দারিয়ে কাউকে উত্যক্ত করছে ।এই ছেলে বা মেয়ে কে যদি আপনি এমন সুশিক্ষা দিতে পারেন , তাহলে জেনে রাখুন আপনার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সে আপনার পাশে থাকবে । আপনার জন্য তার ভেতরে থাকবে অগাধ ভালোবাসা আর সম্মান ,একদিন সেই আপনার সামাজিক ও জীবনের ভালো থাকার নিরাপত্তার একমাত্র অবলম্বন হবে । এসব কিছুই নির্ভর করছে আপনার ওপর । সিদ্ধান্ত আপনার । 

অনেকেই আমার এসব কথার সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন । খুব স্বাভাবিক ভাবেই টা হতে পারে । আপনি ভালো আপনার ছেলে বা মেয়েটি ভালো হয়নি , সে অনেক খারাপ যা আপনি বাক্তি জীবনে ছিলেন না , তাহলে সে কেন হল ? ভাই অস্বাভাবিক বলে একটা কথা আছে । সমাজ, পরিবেশ, পরিস্থিতি বন্ধু বান্ধব এর একটা প্রভাব মানুষের ওপর সময় প্রকট প্রভাব ফেলে যার দরুন এই কাজ গুলী ঘটে থাকে । এরা খুব বেশি নয় । হাতে গোনা কয়েকজন । 

ভাই কিছুই শেষ হয়ে যায়নি , এখনো অনেক সময় আছে ,যার মাঝে আমরা আমাদের এই জীবনকে অর্থবহ করে তুলতে পারি । আমার আহ্বান যারা আজ বাবা বা মা হয়েছেন বা আগামীতে হবেন অথবা প্রক্রিয়াধীন আছেন। তারা এখনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন , কেমন করে সাজাবেন অনাগত আগামী ? 

ভাল থাকবেন সবাই 

সব ছাত্র ছাত্রীরাই একেক জন যোদ্ধা । অপেক্ষা মেধা বিকাশের

আমাদের প্রতিটি ছাত্র ছাত্রীরাই একেকজন যোদ্ধা যাদের অস্র হচ্ছে কলম আর বারুদ হচ্ছে বই । জীবনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ ক্ষেত্র হচ্ছে তাদের এই শিক্ষা জীবন । এই যুদ্ধে জয় লাভের বিকল্প কিছু নেই, যার জন্য প্রয়োজন অনেক পরিশ্রম । আমি একটি কথা সব সময় বলি , কেউ অগাধ মেধা নিয়ে জন্ম গ্রহন করেন না, মেধাবী হবার প্রবল আগ্রহ , ঐকান্তিক ইচ্ছা ও লেখা পড়াই পারে তোমাদের মেধাবী করতে । 

তোমরা যদি স্যার আইজ্যাক নিউটন বলেছিলেন আমার আবিষ্কারের কারন আমার প্রতিভা নয়, আমি বহু বছর যাবত কঠোর পরিশ্রম করেছি আর চিন্তা করেছিলাম যার ফলে অনেক তত্ত্ব আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছিলাম। 

আবার যদি বিখাত বিজ্ঞানী ও রসায়নবিদ ডালটনের দিকে আমরা তাকাই তাহলে দেখেতে পাই, তিনি বলেন আমি পরিশ্রম ছাড়া আর কিছুই করতে পারি না । আমার মেধা বলে কিছুই নাই । অথচ আমরা তিনি প্রতিভাবান হিসেবে আমাদের কাছে পরিচিত । 

আমি যদি আমার নিজের কথা বলি তাহলে ব্যাপারটা অনেক সহজ হয়ে যায়, আমি কখনই ছাত্র হিসেবে ভালো ছিলাম না , ছাত্র জিবনে আমার রোল নাম্বার ২৩ এর নিচে কখনই আসে নাই । জিবনে ওই একবারি ২৩ হয়েছিলো কিন্তু ছাত্র-ছাত্রী সব মিলিয়ে ২৬ জন ছিল। আমি এসএসসি টেস্ট পরীক্ষায় গণিত এ ৩৪ আর ইংলিশ এ ৩৬ পেয়েছিলাম ।যখন বুঝতে পারলাম সামনে যেতে হবে চেষ্টা শুরু করলাম । শেষ ইংলিশ এ অনার্স শেষ করে আর উচ্চতর ইংলিশ শেখার এর জন্য সাম্প্রতিক ভর্তি হয়েছি ।
আমি মনে করি একজন ছাত্র বা ছাত্রী যদি শুধু চেষ্টা করে তাহলে সে পারবে । এমন নযির অনেক আছে। সবার একটা কথা বিশ্বাস করা উচিত যে আমি পারবো । আমাকে পারতে হবে । আমার দ্বারা পারা সম্ভব । সর্বদা নিজের ওপরে বিশ্বাস রাখা । 

আমার মনে হয় পৃথিবীর সবার মেধা সমান । যে যতটুকু এর ব্যাবহার আর চর্চা করবে সে ততোটুকুই অর্জন করবে । তাই আমাদের উচিত নিজেরদের ভেতরে যে প্রতিভা আছে মেধা আছে তার সরবচ্চ ব্যাবহার নিশ্চিত করা । একটা তরবারি আমরা যদি ব্যাবহার না করি তাতে মরিচা ধরে যায় । ঠিক আমাদের মেধা, বুদ্ধিদীপ্ত চিন্তাভাবনার মতই । 

ছাত্রছাত্রীদের উচিত হবে না নিজেকে মূল্যহীন মনে করা । সবাই পারে আমি পারি না। আমি পারবো না এমন ধারনা থেকে বের হয়ে আশা । জং ধরা তরবারিতে সান দিলে যেমন টা আগের রুপ ফিরে পায় আমাদের মেধা ও তাই । 

আমাদের এই ছাত্রজীবনের সময়ের মূল্য অনেক যা তুমি এই সময়ে অর্জন করবে তাই ভবিষ্যতে ভোগ করবে । একবার ভুলে পড়ে গেলে যার ফলাফল ভোগ করতে হবে সারাজীবন । সামনে যাদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা তাদের এখনই গুছিয়ে নিতে হবে , হারতে সময় কম । জীবনের একটা গতিপথ ঠিক করে সামনে যাবার প্রত্যয়ে কাজ করতে হবে । 

আমরা অনেকেই শপ্ন দেখি ডাক্তার হবো, ইঞ্জিনিয়ার হবো, শিক্ষক হবো ব্যাংকার হবো। কিন্তু টা অনেক সময় শপ্নের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে । আমরা ভাবি একটু আড্ডা দিব, প্রেম করবো,টিভি দেখব, খেলা ধুলা করবো । জীবনটাকে কি একটু উপভোগ করবো না ? এইতো ? কিন্তু একজন প্রকৃত স্বপ্নচারী কি টা ভাবে ?????????? অবশ্যই ভাবে না । সে পরিশ্রম করে টার শপ্ন পূরণে । এখন আমাদের এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কি করছি আর কি করা উচিত ? 

আমার আহ্বান তোমরা সব ছেড়ে বই হাতে নাও । যা তোমাকে আলোকিত পথ দেখাবে । তম্র জীবনকে করবে আলোকময় । জীবন গড়ার জন্য বই ছাড়া কোন বিকল্প পথ তোমার জন্য খোলা নেই । জীবনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে লেখা পড়াটা গ্রহন কর সে অনুপাতে কাজ কর । সফল তুমি হবেই । আমার অনুরধ তম্র বইয়ের সাথে অবনেক নিবির ভাবে সম্পৃক্ত হও । একটা পধতিগত দিক ঠিক ওরে নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে পড়া শুরু কর । ইনশাআল্লাহ্‌ পরিশ্রমের ফল তুমি পাবে । সবার জন্য শুভ কামনা ।

রচনায়
মোঃ আলম গীর হোসেন আবদুল্লাহ
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক
ক্রিয়েটিভ এডুকেশন , নাটোর 

তোমাকে একটি গল্প শোনাবো

অনেক দিন থেকে ভাবছিলাম তোমাকে একটি গল্প শোনাবো । কি করবো বল সময় সুযোগ বলে একটা কথা আছে না, এই বিষয় টা আমার সাথে কেন জানি বৈরীভাব করে।

জানো সে দিন সব কিছু ঠিক ছিল ঠিক ছিল সময়ের ও,কিন্ত বলা হয়নি।আমি বিশ্বাস করি তুমি আমাকে দোষ দিবে না । কেন দিবে না ! আজ তোমাকে তা বলি। কি সময় আছে তো? না থাকলে ও আমার কোন সমস্যা নেই, আমি খুব কম কথায় তোমাকে পরিস্কার বোঝাতে পারবো আশাবাদী । যাক সে কথা, আমি যখন শুরু করতে চাইলাম ঠিক সে সময় একটু দুরে শব্দ হলো । তুমি তো জানো অজানা অদেখা কোন কিছুর প্রতি আমাদের সব সময় একটা কৌতুহল কাজ করে। যা আমাদের স্বভাবজাত অভ্যাস,এখানে নিজেকে আমি নিবৃত করতে পারিনি। আমি জানি তুমি তা স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছ। তোমার আগ্রহে অনেকটা উজ্জিবিত আজ, আসলে কি জানো কোন কিছুতে আগ্রহ না থাকলে তাতে পরিতৃপ্ত হওয়া যায় না । তুমি এর এতটা আন্জাম দিবে তা ছিল আমার কল্পনাতীত।

যাপিত জীবন ও একটি উপলব্দি

রাতে ঘুম ভাঙলে রিফাত মাঝে মাঝেই মোবাইল সময় দেখে , এটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে । কিন্তু আজ হটাৎ মাঝ রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেল । সময় দেখতে মোবাইলে চাপ দিতেই দেখে ৭ টি মিসডকল । এত বার কে ফোন দিল? কেন দিলো? রিফাত ভাবতে থাকল এখন রাত ৩ টা, কে হতে পারে ? কার কোন সমস্যা ? ব্যাক দেয়া উচিত কিনা ভাবছে। শেষে চিন্তা করলো ফোনটা দিয়েই দেখি । প্রথমবার ফোন দিলে রিচিভ হল না, একবার ভাবল থাক সকালে দেখা যাবে। রিফাত ঘুমাতে চেষ্টা করল কিন্তু আর যে চোখে ঘুম নেই কে ? কেন ? এতবার ফোন দিল তাও এই মাঝ রাতে। রিফাত এবার আর ভাবল না ফোন তুলে আবার ফোন দিল । এবার শীঘ্রই রিচিভ হল । কিন্তু আওয়াজ আসছে না । রিফাত হ্যালো হ্যালো বলতেই থাকল কিছু সময় পরে ওপাশ থেকে একটা প্রশ্ন আসলো কেমন আছ? 

এক প্রশ্নেই রিফাতের শরীর হিম হয়ে গেল । এই স্বাভাবিক একটা প্রশ্নে রিফাত কেন থেমে গেল ? কে সে ? 

আমি ভালো আছি, রিফাত উত্তর করল । তুমি কেমন আছো ? কোন উত্তর না দিয়ে নতুন প্রশ্ন তোমার বারান্দার পাখি গুলি কি এখন ও আছে? তোমার টিয়া পাখি টা কি এখনও আমার নামটা বলতে পারে নাকি ভুলেই গেছে ? তোমার আলনায় কি এখনো কাপড় এলোমেলো থাকে ? তুমি কি এখনো মানিব্যাগ নিতে ভুলে যাও ? আচ্ছা ছাদের ডান পাশের লজ্জাবতী গাছটি এখনো বেঁচে আছে? 

এতো প্রশ্ন যদি তুমি একবারে কর উত্তর কিভাবে দিব ! কয়েকটা পাখি আছে আর টিয়া পাখিটি তুমি চলে যাবার কিছুদিন পরেই মারা গেছে ! আমি আছি আগের জায়গাতেই কোন পরিবর্তন হয়নি , না মানি বাগ নিতে আর ভুল হয় না। ছাদে আর কোন গাছ নেই । নিচের ফ্ল্যাটের ২ টি পিচ্চি বাবু শেষে কিছু টব ছিল সব ভেঙ্গে ফেলছে । 

এতো দিন পরে তুমি কেন এসব জানতে আগ্রহী ঠিক বুঝলাম না ,মিলি? 

মিলিঃ না এমনি । 

রিফাতঃ তোমার কথা বল, কি করছ এখন ? কোথায় থাকছ ? 

মিলিঃ ঢাকায় একটি বিল্ডাস কোম্পানিতে সহকারী ইঞ্জিনিয়ার পোস্ট এ কাজ করছি । 

রিফাতঃ বিয়ে করেছ নিশ্চয় ? তোমার হাজব্যান্ড কি করে ? 

মিলিঃ কেন জানো না ? নাকি জেনেও ভান করছ? 

রিফাতঃ আমি যাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম তারা আমাকে তোমার কোন তথ্য দিতে পারেনি । তুমি কি আমার খোঁজ নিয়েছিলে ? 

মিলিঃ না , চেষ্টা করি নি । 

রিফাতঃ তাহলে আজ কেন এতো রাতে ফোন দিয়ে খোঁজ নিচ্ছ ? 

মিলিঃ এমনি মন চাইল তাই । 

রিফাতঃ মন চাইলেই কি সব করা যায় ? 

মিলিঃ না করা যায় না । 

রিফাতঃ কই আমার প্রশ্নের উত্তর দিলে না ? 

মিলিঃ কোন প্রশ্ন টা ? 

রিফাতঃ কিছুক্ষণ আগে যে প্রশ্নটা করেছিলাম। 

মিলিঃ ও হাঁ ! নামি একটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঙ্গিনিয়ারিং শেষ করে আমার অফিস এ জব করতো , গত বছর একটা স্কলারশিপ পেয়ে কানাডা চলে গেছে । সেখানেই আছে । শুনেছি সেখানে নাকি বিয়েও করছে । ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছিল কয়েকমাস আগে স্বাক্ষর করে দিয়েছি । এইতো ৫ বছরের ইতিহাস । এখন জব করছি ভালই আছি । 

রিফাতঃ তুমি কি লেখা পড়া শেষ করেছিলে ? 

মিলিঃ না আর এমএসসি টা করা হয় নি । স্বপ্ন গুলো কেমন জানি অঙ্কুরেই শেষ হয়ে গেছে । আসলে ভাগ্য সহায় ছিল না । 



পুব আকাশে রক্তিম আলোকছটা জানালা দিয়ে উকি দিচ্ছে , এমন সময় একটা আওয়াজ আসলো , বাবা বাবা উঠো ব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে দাও বাবা, বাবা 



রিফাতঃ আসছি মা, একটু । 

মিলিঃ বাবা মানে ? কে ডাকছে তোমার মেয়ে বুঝি ? 

রিফাতঃ ও তোমাকে তো বলা হয়নি তোমার সাথে আলাদা হবার পরে ইচ্চা ছিল আর বিয়ে করব না, বাকি জীবন এভাবেই কাটিয়ে দিব কিন্তু হয়নি, মায়ের কথা ভেবে রিমু কে বিয়ে করেছি ? 

মিলিঃ তোমার স্ত্রীর নাম বুঝি রিমু? 

রিফাতঃ হ্যাঁ । গতকালই বাবা হবার ৪ বছর পূর্ণ হল । আভা, আমার মেয়ে । সম্প্রতি একটা স্কুল এ দিয়েছি । নার্সারিতে পড়ে। সকালে ব্রাশ করিয়ে স্কুল এর জন্য আমি ওকে তৈরি করে দেই আর রিমু সকালের কাজ গুলি সেরে ফেলে । অফিসের পাশেই স্কুল সবাই একসাথে বের হই । রিমু আভাকে স্কুল এ নিয়ে যায় আমি অফিস এ যাই এই তো প্রাত্তাহিক রুটিন আমাদের। 

মিলি; বাহ ! সুখি পরিবার । 

রিফাত ; হাঁ আমি ভাবিনি এতো তা সুখ আল্লাহ আমাকে দিবেন। আভার দিকে তাকালে নিজের একটা ছায়া খুজে পাই মনে হয় জীবনটা ওর জন্যই সার্থক । রিমু অসাধারন একটি মেয়ে । ব্যাখ্যা দিয়ে করতে চাই না । 

মিলিঃ গভির রাত থেকে সকাল অবধি আমার সাথে কথা বললে তোমার স্ত্রী দেখে নি ? কি পরিচয় দিবে আমার? 

রিফাতঃ আমি সত্যবাদী নই, মিথা না বলার চেষ্টা করি যদি ও অনেক কঠিন কাজ পারি না তার পরেও চেষ্টা করি । রিমুর কাছে আমার জীবনাচরন সেই আগের মতই স্বচ্ছ কাঁচের মত। সে আমার ভেতর বাহিরটা দেখতে পায় । তোমার সাথে যত কথা বলেছি সে সব শুনেছে দুজনের মাথা এক বালিশেই ছিল এতটা সময়। 

মিলিঃ প্রশ্ন করে নি ? 

রিফাতঃ না, কিন্তু কিসের প্রশ্ন? 

মিলিঃ আমরা কেন আলাদা হলাম? 

রিফাতঃ দেখ সত্যটা কি ছিল ? তোমার স্বপ্ন পূরণ ? ক্যারিয়ার ? এইতো ? নাকি ? 

মিলিঃ শুধু কি এতটুকুই ? 

রিফাতঃ তাহলে ? ও হাঁ আমি তখন বেকার ছিলাম ? তোমর শপ্নের আর আখাঙ্খিত বাক্তি হতে পারিনি । আমাকে স্বপ্ন পূরণে প্রতিবন্ধকটা মনে করেছিলে । 

মিলিঃ তার পর ! 

রিফাতঃ আমি কি ভুল বলেছি? 

মিলিঃ না। 

রিফাতঃ তাহলে? 

মিলিঃ আমরা আলাদা থাকতে চেয়েছিলাম, তুমি কিন্তু আসনি? 

রিফাত; একজন বেকারের পক্ষে কি তা সম্ভব ছিল ? আর তাছাড়া আমাদের বাড়িতে তো তোমার সমস্যা ছিল না! তুমি আমার মা-বাবাকে সহজ ভাবে মেনে নিতে পারনি । আমার শত সমস্যা সর্তেও তো তোমার সব অভাব গুলি পূর্ণ করেছিলাম। তুমি আমাকে ৩ মাসের সময় দাও নি । আমি ঠিকই ৩ মাস পরেই চাকরি টা পেয়েছিলাম । 

মিলিঃ আমার বাবা ও তোমাকে টাকা দিতে চেয়ে ছিলেন ? চাকরীর বাবস্থা করে দিতে চেয়েছিলেন? 

রিফাতঃ শর্ত কি ছিল ? বললে না! আমাকে মা বাবা পরিবার ছেড়ে তোমাকে নিয়ে তোমাদের বাড়ীতে উঠতে হবে। আমার পক্ষে আত্মসম্মান বিসর্জন দেয়া ,নৈতিক দায়িত্ব উপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না । 

মিলিঃ নৈতিক দায়িত্ব বলে কি বুঝাতে চাও ? 

রিফাতঃ সন্তান হিসেবে পরিবারের প্রতি আমার যা দায়িত্ব রয়েছে। 

মিলিঃ আমার প্রতি কি তোমার কোন নৈতিক দায়িত্ব ছিল না? 

রিফাতঃ ছিল, আমি তা পালন করেছি , তাতে আমার কোন দুর্বলতা ছিল না। আমার পরিবারের সংস্কৃতি তোমাদের চেয়ে আলাদা ছিল । আমরা পরিবার বুঝি আলাদা থাকা বা হবার কথা ভাবি না । 

মিলিঃ বাহ ! এখনো সেই আগের মতই আছ । 

রিফাতঃ আমার শিক্ষা এতটুকুই, যা শিখেছি ভেতরে তো তাই থাকবে , এটাই কি স্বাভাবিক নয় ? 

বাবা, তোমাকে অনেক বার ডাকছি, তুমি কিন্তু আসনি ,আম্মু ডাকছে। তাড়াতাড়ি বের হতে হবে । 

রিফাতঃ আমাকে রাখতে হবে। অফিস এর সময় এগিয়ে আসছে। ভালো থেকো। 

মিলিঃ তোমর মেয়ের সাথে কথা বলতে দিবানা ? 

রিফাতঃ আভা কে ফোন দিলে আজকে আর ওর স্কুল এ যাওয়া হবে না, পুরো মাসে যা যা ঘটেছে সব তোমাকে বলা শুরু করবে । 

মিলিঃ ওকে ঠিক আছে ভালো থেকো !!!!!!!!!!!!!!

আমিন ভাইয়ের চিরবিদায় ও কিছু কথা !!!!

আজ আমীন ভাই কে নিয়ে লিখবো এটা কখনো ভাবনাতেও ছিল না । কেন থাকবে? আমরা কি এটা প্রত্যাশা করেছিলাম ? না করি নাই, কারন মাঝ বয়সে একজন মানুষ আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন তা আমরা কি কখনো ভাবনাতে রাখি ? আমি অনেক মানুষ কে জীবন থেকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেলেছি, তাঁর মাঝে গতকাল আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়া একজন আমীন ভাই। আমীন ভাইকে অনেক কারনেই মনে থাকবে ।
আমি জে ব্লক এ একটা কাজে বের হই গত ২৯ তারিখে আমার বন্ধু প্রতিম সুকুমার ফোন করে জানালো ‘তুই শুনছিস আমাদের আমিন ভাই মারা গেছেন’ আমি ঠিক কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না । এটা কি ভাবে ? আমি আমাদের আরে কলিগ ও বন্ধু প্রতিম খবির ভাইকে ফোন দিলাম । ভাই আমাকে জানালেন আমীন ভাই ব্রেইন স্ট্রোকে মারা গেছেন জানাজা, বাদ জোহর মহাখালিতে, আমরা যাচ্ছি । আমি মহাখালী পৌঁছালে ভাই জানালেন একটু আগে তাঁর পালস ফিরে আসছে ডাক্তার আইসিইউ তে নিছে । দোয়া করেন ভাই । আল্লাহ যেন তাকে আবার আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন ।
আশাবাদী হয়ে ফিরে আসলাম,
কিন্ত ,
গতকাল সৃষ্টিকর্তা আমাদের মুখের দিকে না তাকিয়ে তাকে নিয়ে গেলেন আইসিইউ থেকে আর তিনি ফিরলেন না । ফিরলেন না আমিন ভাই। খবর এল আমিন ভাইের দুইটা কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে এবং ব্রেইন ড্যামেজ হয়ে গেছে। সৃষ্টি কর্তা তাকে নিয়ে গেছেন । অনুভুতি টা কি আর লিখে প্রকাশ করতে পারি !!!!!
কলিগ থেকে বন্ধু হলেন আমিন ভাই ,
একটু পিছনে ফেরা যাক ।
নতুন অফিসে আমরা প্রায় সম্পূর্ণ নতুন একটা প্রোজেক্ট এর জন্য এক সাথে প্রায় ২৫ জন কে নিয়োগ দেয়া হয় । আমরা ৫-৬ দিন অফিস করার পরে একদিন স্যার আমাকে বললেন ওর নাম আমীন আজ থেকে তোমাদের সাথে কাজ করবে, ওরে একটু দেখায় দাও । মানুষ টার সাথে হুট করেই একদিন দেখা । কথা হল খুব কম, পরের দিন থেকে এক সাথেই পাশাপাশি টেবিলে কাজ শুরু করলাম । তিনি কিছু কিছু বিষয় খুব ভালো বুঝতেন এবং পারতেন । আমি তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি, তাঁর সাথে আমি প্রায় ২ মাসের মত কাজ করি। তাঁর পরে আমি জবটা ছেড়ে দেই, আমীন ভাই সেখানেই থেকে যান । দুই মাস কাজ করার সুবাধে অনেক সময় এক সাথেই থেকেছি । অনেক কথা হয়, পরস্পর অনেক কিছু শেয়ার করেছি ।
কাজের প্রতি তাঁর ছিল নিষ্ঠা ও একাগ্রতা ,প্রতিটা সময় আমীন ভাই কাজ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতেন কখন শেষ হবে? ঠিক মত হচ্ছে কিনা ? আমরা পারব কিনা ? ইত্যাদি । এই সব কারণে অনেকেই তাকে অপছন্দ করতে শুরু করে , আর এর ফলে আমাকে ও আমীন ভাই কে ২ দিন অফিসের বাহিরে থাকতে হয়। পরে যদিও আমাদের কে বলা হয়েছিলো ওইটা তাদেরই ভুল। আমি সহজে মেনে নিয়েছিলাম । ভাই বলেছিল এইটা অন্যায় আপনে কেমনে মানেন? তাঁর পরেও জোর করি থাক ভাই । যা হবার হইছে আমরা সামনে তাকাই ।
আমি চলে আসার পরে অফিস থেকে আমাকে আমীন ভাই সব চেয়ে বেশি ফোন করেছিলেন । বারবার বলেন ভাই আপনেও চলে গেলেন । ভালো লাগে না, চলে আসেন একসাথে কাজ করি ।
আমি তাঁর সাথে আর দেখা করতে পারি নাই। গত ২ মাস আগে ভাই আমাকে আবার ফোন করেন । বললেন ভাই, অফিস আমাকে একটা কাজ করতে বলেছে , যা আমার পক্ষে করা সম্ভব না । এটা অন্যায়, আমি এইটা করতে পারিনা । আমি তাকে চলে আসতে বলি।
তিনি আমাকে একটা অনুরধ করেছিলেন , সীমাবদ্ধতার কারণে আমি তাঁর অনুরধ রাখতে পারি নাই। এখন নিজেকে অনেক অপরাধী মনে হয় । আরও অনেক বিষয় ছিল যা এখানে বলা সম্ভব না ।
আমি আমিন ভাইয়ের মৃত্যুকে সহজ ভাবে নিতে পারবো না । কেন নিবো? আমি ভাইয়ের মৃত্যুকে হত্যাই বলবো । কারন ?
আমিন ভাই পরিবারের বড় ছেলে ছিলেন , মাথায় স্বাভাবিক ভাবেই অনেক দায়িত্ব পড়েছিল , তিনি প্রথমে বাংলালিংক এ জব করতেন , ভালো অবস্থানে ছিলেন কিন্তু যা আয় করতেন তা দিয়ে পরিবারের জন্য যথার্থ ছিল না । তিনি আরও ভালো কিছুর আশায় অন্য একটি কোম্পানিতে যোগদান করেন, দেখলেন এখানে কাজ তাঁর চিন্তা চেতনার সাথে সাংঘশিক তিনি সেটা করতে পারলেন না । অবশেষে শেষ যোগদিলেন আমাদের সাথে । এটাই ছিল তাঁর শেষ কর্মস্থল। যেখান থেকে তিনি পৃথিবী ছেড়েই চলে গেলেন । আমি দেখেছি তাঁর উদ্বিগ্নতা যা ছিল শুধু পরিবার কে ঘিরেই । ভাই ভালো কিছু করতে হবে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে , কিন্তু আমি পারছি না । কি করবো ভাই ? আমি বার বার সাহস যুগিয়েছি , তাতে আর কিই বা হয় !!!!ষ
আমাদের ক্ষমা করবেন ভাই, আপনার মত মেধাবী আর অনুরক্ত মানুষের আমরা মূল্যায়ন করতে পারি নাই । পৃথিবী আপনাদের মূল্যায়ন করতে জানেনা । এখানে আমার আপনার কেউ নাই , কেউ থাকবে না ! আমাদের কেউ থাকে না ।
আরও অনেক কথা ছিল আজ সব এলোমেলো , আজ আমার লেখার ভাষা গুলির সামঞ্জস্যতা নাই । না হবে সব অর্থবহ !!!!!
আপনার জন্য আজ দূর থেকে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া আর যে কোন কিছুই করার নেই । আপনি শান্তিতে থাকেন । আপনার পবিত্র রুহের মাগিরাত কামনা করছি । ভালো থাকবেন আমিন ভাই । ভালো থাকবেন । ক্ষমা করবেন আমাদের ।