Monday, January 25, 2016

সব ছাত্র ছাত্রীরাই একেক জন যোদ্ধা । অপেক্ষা মেধা বিকাশের

আমাদের প্রতিটি ছাত্র ছাত্রীরাই একেকজন যোদ্ধা যাদের অস্র হচ্ছে কলম আর বারুদ হচ্ছে বই । জীবনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ ক্ষেত্র হচ্ছে তাদের এই শিক্ষা জীবন । এই যুদ্ধে জয় লাভের বিকল্প কিছু নেই, যার জন্য প্রয়োজন অনেক পরিশ্রম । আমি একটি কথা সব সময় বলি , কেউ অগাধ মেধা নিয়ে জন্ম গ্রহন করেন না, মেধাবী হবার প্রবল আগ্রহ , ঐকান্তিক ইচ্ছা ও লেখা পড়াই পারে তোমাদের মেধাবী করতে । 

তোমরা যদি স্যার আইজ্যাক নিউটন বলেছিলেন আমার আবিষ্কারের কারন আমার প্রতিভা নয়, আমি বহু বছর যাবত কঠোর পরিশ্রম করেছি আর চিন্তা করেছিলাম যার ফলে অনেক তত্ত্ব আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছিলাম। 

আবার যদি বিখাত বিজ্ঞানী ও রসায়নবিদ ডালটনের দিকে আমরা তাকাই তাহলে দেখেতে পাই, তিনি বলেন আমি পরিশ্রম ছাড়া আর কিছুই করতে পারি না । আমার মেধা বলে কিছুই নাই । অথচ আমরা তিনি প্রতিভাবান হিসেবে আমাদের কাছে পরিচিত । 

আমি যদি আমার নিজের কথা বলি তাহলে ব্যাপারটা অনেক সহজ হয়ে যায়, আমি কখনই ছাত্র হিসেবে ভালো ছিলাম না , ছাত্র জিবনে আমার রোল নাম্বার ২৩ এর নিচে কখনই আসে নাই । জিবনে ওই একবারি ২৩ হয়েছিলো কিন্তু ছাত্র-ছাত্রী সব মিলিয়ে ২৬ জন ছিল। আমি এসএসসি টেস্ট পরীক্ষায় গণিত এ ৩৪ আর ইংলিশ এ ৩৬ পেয়েছিলাম ।যখন বুঝতে পারলাম সামনে যেতে হবে চেষ্টা শুরু করলাম । শেষ ইংলিশ এ অনার্স শেষ করে আর উচ্চতর ইংলিশ শেখার এর জন্য সাম্প্রতিক ভর্তি হয়েছি ।
আমি মনে করি একজন ছাত্র বা ছাত্রী যদি শুধু চেষ্টা করে তাহলে সে পারবে । এমন নযির অনেক আছে। সবার একটা কথা বিশ্বাস করা উচিত যে আমি পারবো । আমাকে পারতে হবে । আমার দ্বারা পারা সম্ভব । সর্বদা নিজের ওপরে বিশ্বাস রাখা । 

আমার মনে হয় পৃথিবীর সবার মেধা সমান । যে যতটুকু এর ব্যাবহার আর চর্চা করবে সে ততোটুকুই অর্জন করবে । তাই আমাদের উচিত নিজেরদের ভেতরে যে প্রতিভা আছে মেধা আছে তার সরবচ্চ ব্যাবহার নিশ্চিত করা । একটা তরবারি আমরা যদি ব্যাবহার না করি তাতে মরিচা ধরে যায় । ঠিক আমাদের মেধা, বুদ্ধিদীপ্ত চিন্তাভাবনার মতই । 

ছাত্রছাত্রীদের উচিত হবে না নিজেকে মূল্যহীন মনে করা । সবাই পারে আমি পারি না। আমি পারবো না এমন ধারনা থেকে বের হয়ে আশা । জং ধরা তরবারিতে সান দিলে যেমন টা আগের রুপ ফিরে পায় আমাদের মেধা ও তাই । 

আমাদের এই ছাত্রজীবনের সময়ের মূল্য অনেক যা তুমি এই সময়ে অর্জন করবে তাই ভবিষ্যতে ভোগ করবে । একবার ভুলে পড়ে গেলে যার ফলাফল ভোগ করতে হবে সারাজীবন । সামনে যাদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা তাদের এখনই গুছিয়ে নিতে হবে , হারতে সময় কম । জীবনের একটা গতিপথ ঠিক করে সামনে যাবার প্রত্যয়ে কাজ করতে হবে । 

আমরা অনেকেই শপ্ন দেখি ডাক্তার হবো, ইঞ্জিনিয়ার হবো, শিক্ষক হবো ব্যাংকার হবো। কিন্তু টা অনেক সময় শপ্নের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে । আমরা ভাবি একটু আড্ডা দিব, প্রেম করবো,টিভি দেখব, খেলা ধুলা করবো । জীবনটাকে কি একটু উপভোগ করবো না ? এইতো ? কিন্তু একজন প্রকৃত স্বপ্নচারী কি টা ভাবে ?????????? অবশ্যই ভাবে না । সে পরিশ্রম করে টার শপ্ন পূরণে । এখন আমাদের এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কি করছি আর কি করা উচিত ? 

আমার আহ্বান তোমরা সব ছেড়ে বই হাতে নাও । যা তোমাকে আলোকিত পথ দেখাবে । তম্র জীবনকে করবে আলোকময় । জীবন গড়ার জন্য বই ছাড়া কোন বিকল্প পথ তোমার জন্য খোলা নেই । জীবনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে লেখা পড়াটা গ্রহন কর সে অনুপাতে কাজ কর । সফল তুমি হবেই । আমার অনুরধ তম্র বইয়ের সাথে অবনেক নিবির ভাবে সম্পৃক্ত হও । একটা পধতিগত দিক ঠিক ওরে নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে পড়া শুরু কর । ইনশাআল্লাহ্‌ পরিশ্রমের ফল তুমি পাবে । সবার জন্য শুভ কামনা ।

রচনায়
মোঃ আলম গীর হোসেন আবদুল্লাহ
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক
ক্রিয়েটিভ এডুকেশন , নাটোর 

No comments:

Post a Comment