Monday, January 25, 2016

মায়ের প্রতি আমার কোন অনুভূতি কাজ করে না ::- মাঝে অদৃশ্য দেয়াল

১০ ই মে, ২০১৪ রাত ২:০৪
১১ মে বিশ্ব মা দিবস । আমি কি লিখবো মাকে নিয়ে ? উল্লেখ যোগ্য কিছুই নাই , শুধু জীবনের কিছু ইতিহাস ছাড়া। তার প্রলাপই না হয় ব্লগ এ কিছুই গাইলাম 
সময়টা ১৯৯৮ বাবা কিছুটা মানসিক ভারসম্মহীন অবস্থায় নিখোঁজ হলেন । অনেক খোঁজাখুঁজি করে পাওয়া গেল না । ১৯৯৯ সালে নিজেই ফিরে আসলেন পরে জানতে পেরেছিলাম তিনি রাঙামাটি ছিলেন অই একবছর । ফিরে আসার ২ মাস পরেই বাবা মারা যান । বেঁচে থাকলে বাবা কি নিয়ে আরেকদিন লিখবো ।বাবা এহেন অবস্থায় তেমন কোন অর্থ সম্পদ আমাদের জন্য রেখে যান নাই । তাই মা নানা বাড়ির লোকজনের পরামর্শে নানা বাড়ি চলে গেলেন । আমাকে রেখে গেলেন দাদির কাছে কারন তার সন্তানের সন্তান আমি অতএব আমার সকল দায়িত্ব দাদা বাড়ির সবার । আমি থেকে গেলাম দাদির কাছে এজমালি হিসাবে । মাঝে মাঝে নানা বাড়ি যেতাম আমি তখন ক্লাস ৫ এ পড়ি , মায়ের অভাবটা অনেক বেশী অনুভব করতাম । তখন ২ টাকা ভ্যান ভাড়া দিলে কমপক্ষে ৬ মেইল রাস্তা যাওয়া যেতো । দাদি বা কাকার কাছে থেকে কোন ভাবে ৫ টাকা নিতে পারলেই কাউকে কিছু না বলে চলে যেতাম নানা বাড়ি মা অনেক আদর করতেন , মায়ের পায়ের অপরে মাথা রেখে অনেক ঘুমিয়েছি ।ইচ্ছা হত আর মায়ের কাছ থেকে ফিরব না কিন্তু নিয়তি সরবচ্চ ১ দিন কি ২ দিন তার পরে আবার ফিরে আস্তে হতো রাস্তায় আসার সময় অনেক দিন কেঁদেছি রাস্তার মানুষ দেখবে বলে গারিতে না উঠে বিল দিয়ে হেটে, রাস্তার পাশ দিয়ে মাথা নিচু করে হেঁটে আসতাম অনেক মাইল । সময়টা ২০০০ সাল আমার বড় বোন ছোট বেলা থেকেই নানা বারীতে থাকতো , একদিন গেলাম দুপুর বেলা বড় বোন বলল ভাই রে একটু একটু গোপনে শুনলাম নানারা চায় মা কে আবার বিয়ে দিতে, তুই আর আমি তো কিছু করতে পারব না । আমি অই দিন থাকলাম রাআতে বড় আপুর কাছে কাছে গুমালাম, যেন কিছু কথা বলতে পারি বড় আপুকে বললাম তুই মাকে মানা কর , আমরা সবাই আমার একসাথে থাকি লেখা পড়ার দরকার নাই আমার আমি কাজ করব চল আমরা সবাই নানা বাড়ি থেকে চলে যাই ।তাকে বুঝাতে চেয়েছি বাবা নাই আমরা তাহলে কার কাছে যাবো । বোন বলল মনে হয় সুনবে না । রাতে ঘুমালাম সকাল হল আমি চলে আসলাম । তার পরে আর অনেক দিন আর যাওয়া হয় নি । সম্ভবত ২ মাশ পরে গেলাম । আমি নানা বাড়ি গিয়ে দেখি মা অন্য কার বাসায় যেন গেছেন রাস্তার পাশেই আমি অপেক্ষা করতে থাকলাম । এর মাঝে বড় বোন বলল মা বিয়ে করছেন ভাই আমাদের আর কেউ থাকলো না । অন্যান্য বার গেলে মা অনেক আদর করেন কি খেয়েছি ?কখন বের হয়েছি ? দাদি কেমন আছেন ? হাজার প্রশ্ন । কিন্তু আমি অবাক হলাম মা আজ কোন প্রশ্ন করলেন না । তিনি যখন আসলেন সাথে আমার দুজন খালা ছিলেন , কি যেন বিষয়ে খুব আগ্রহ নিয়ে কথা বলতে ছিলেন । আমি সামনে দাঁড়ালাম ছোট খালা বললেন কি অ্যাঁয় বাড়িতে আয় । মা শুধু একটা প্রশ্ন করলেন কখন এসেচি ? উত্তর দিলাম একটু আগে এটুকুই সাক্ষাতে কথা । আমি থাকলাম আর কেমন জানি অপরাধ বোধ কাজ করতেছিল , মনে হচ্ছিলো এই প্রথিবিতে আমি একা । আমার বলে আর কেউ নেই । একা একা ঘুরতে থাকলাম । সন্ধ্যা হল অই দিন থাকলাম কার সাথে তেমন কথা বললাম না , একটা বিষয় ভাবছিলাম মা এটা কেন করল ? আমাদের কথা একবার ভাব্লনা না? পরের দিন সকালে ভরে কাউকে কিছু না বলে চলে আসলাম । তার পরে ৬ মাসের মত সময় হবে আমি আর যাই নি ।এর মাঝে মা অনেক বার খবর দিছেন জেজে মন চায় নি । ২০০১ বড় বোনের বিয়ে হল অই দিন গেলাম । তার পরে ২০০২ সাল পর্যন্ত আর যাওয়া হয়নি । শেষে ২০০২ সালের ডিসেম্বর মাসে মা আমাকে দেখতে আসলেন দাদি বাড়ি । দেখা হল কিন্তু আমি যে মা কে খুঁজছিলাম ? যার জন্য স্কুল ফাকিদিয়ে ৮ মাইল রাস্তা হেঁটে দেখা করতে যেতাম তাকে আজকের মায়ের মাঝে খুঁজে পেলাম না । মায়ের অভাব অনুভব করতে লাগলাম । আমি মাকে দেখছিলাম তিনি আমার সামনে কাঁদছেন , আমি ও কাঁদছি কিন্তু আমার মনে হচ্ছিলো আমার মা নেই , ভেতর থেকে আন্তরিকটা কাজ করছেনা আমার খুব ভাল ভাবে বুঝিলাম , আবার মায়ের অভাব বোধ ও করছিলাম । এদিকে দাদি কাছে থাকা অবস্থায় আমার চাচারা অনেক আদর করতেন ,দাদির কাছে থাকা অবস্থায় মায়ের কথা আর বেশী মনে হয়নি , দাদি আমার সব অভাব পুরন করতেন যে খানে যেতেন সাথে নিয়ে যেতেন । সব চাচারা আলাদা ছিলেন শুধু ছোট চাচা ছাড়া । 
২০০৩ সালে ছোট চাচা একটা চাকরি নিয়ে নাটোর আসলেন । আমাদের নতুন সংসার হল ছোট চাচা আমি আর দাদি । চাচা ২০০৩ সালের প্রথম দিকে বিয়ে করলেন সদস্য বাড়ল ১ জন । আমি ছোট চাচার সাথে গ্রাম থেকে নাটোর চলে আসলাম নতুন স্কুল এ ভর্তি হলাম । দাদি গ্রাম থেকে একবারে আস্তে চাইলেন না, মাঝে মাঝে আসতেন । আমি , চাচি আর চাচা শুরু হল আমার জিবনের নতুন অধ্যায় । চাচি আপন করে নিলেন ভালবাসলেন নিজের সন্তানের মত । আমার কোন অভাব থাকলো না । শহরের জীবন মিশে গেলাম সবার সাথে , নতুন নতুন কাপর, বই্‌ , ব্যাগ বন্ধু পেলাম নতুন স্কুল । এর মাঝে মা তেমন একটা যোগাযোগ করেন নি । হয়ত ভেবেছেন ভালই আছি । নাটোরে আসার পরে আমাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি , চাচা আমার সব অভাব পুরন করেছেন । মোবাইল, মোটরসাইকেল, দামি কাপড়, সপ্তাহে সময় করে ঘুরতে যাওয়া । সময় পেলেই সাথে নিয়ে যেতেন আমি তার সাথে বাংলাদেশের ২৩ টা জেলা ঘুরেছি । প্রায় দিন আমরা ঘুরতে যেতাম । এভাবে ৩ বছর কেটে গেল এস এস সি পাস করলাম ২০০৬ সালে । মায়ের সাথে দেখা হতো কম । চাচা চাচি প্রায় বলতেন কি তোর মায়ের সাথে দেখা করে আয় , আমি জানি না কেন যেন মন চাই তো না। আমি না বললে চাচা চাচি বলতেন চল আমরা সবাই গিয়া দেখা করে আসি । এভাবেই চলতে থাকল এর মাঝে কয়েক বার গেছিলাম কিন্তু মা সামনে দারিয়ে থাকা অবস্থায়ও আমার মনে হতো কথায় আমার মা আমি মা কে চাই । এখন ২০১৪ সাল এর মাঝে মায়ের সাথে অনেক বার দেখা হয়েছে কথা হয়েছে , আমি মাঝে মাঝে মিথ্যা উচিলায় মায়ের কাছে যাই , অমুক জাগায় গেছিলাম তো ভাব্লাম একটু দেখা করে যাই এমন করে দেখা করি কিন্তু আমি মাকে খুঁজে পাই না , কেন জানি অনুভূতি কাজ করে না । যদিও এত গুলা বছর মায়ের কাছে যেতে মাকে কেউ বাঁধা দেয়নি , আমি আজ আমার জন্মদাতা মায়ের ভালবাসার বাপারে অনুভূতি শূন্য । তার কান্না আমার ভেতরে নাড়া দেয় না । তিনি যদি আমার সামনে কাদেন আমার কস্ত হয় আমি ও কাদি কিন্তু মায়ের যে কান্না বা মায়ের জন্য কান্না এটা আমার আসে না । মায়ের কাছে থেকে আলাদা থাকলাম ১৬ বছর । আজ ও আমার চাচাচি সেই আগের মতই ভালবাসেন , অনেক বিরক্ত করি ,কষ্ট দেই । এর মাঝে চাচার ৩ টা সন্তান হইছে । কিন্তু আমার জায়গাটা সেই আগের জায়গাতেই আছে , তাদের কাছে আমার জন্য ভালোবাসা সামান্নতম কমে নি । ১১ বছর চাচির সাথে আছি , আমি মায়ের সকল ছায়া চাচির মাঝে দেখি , তার মন খারাপে আমার কষ্ট হয় । কিন্তু আমার চাচি কনদিন আমাকে মায়ের কাছে যেতে বাঁধাদেননি । অথচ আমি জা আমার মায়ের জন্য অনুভব করি না টা আজ চাচির জন্য করি । আমি অনেক চেসা করেছি , নিজে কে নিজে বুঝাতে চেষ্টা করি তিনি আমার মা আমাকে জন্ম দিছেন । কিন্তু আমি প্রতি বাড়ি বেরথ হই ।
মায়ের কলে মাথা রেখে আমার সুখ দুঃখের গল্প ফুলি শুনাতে ইচ্ছা হয় । বলতে ইচ্ছা হয় মা আমার এটা ভাল লাগে ওইটা ভাল লাগে না। আমি তোমার কাছে থাকতে চাই । কিন্তু কি যেন এক দেয়াল আমি অনুভব করি । মাঝে মাঝে মা মা মা বলে চীৎকার দিতে ইচ্ছা হয় । মনে হয় প্রান খুলে মা কে ডাকি।এই ডাকতে না পারার কষ্ট টা আমার আমরণ থেকেই যাবে। মায়ের প্রতি আমার কোন অভিযোগ নেই কারন, তার যে আর্থিক নিরাপত্তা দরকার ছিল টা দেবার সামর্থ্য আমার অই সময় ছিল না তাই মাকে আমি ২য় বার বিয়ের জন্য কখনই দোষ দেই না । মাঝে মাঝে ফোন দেই মা ও দেন । অসুথ হলে দেখতে যাই । মা শারীরিক ভাবে অনেক অসুস্থ যত টুকু পারি কিছু দিতে চেষ্টা করি । কিছু দিন আগে একটা মোবাইল কিনে দিলাম যেন সব সময় যোগাযোগ রাখতে পারি । আপনার সবাই আমার মায়ের জন্য দোআ করবেন ।আমি চাই তিনি যেন ভাল থাকেন । আল্লাহ্‌ তাকে সুস্থতা দান করুন আমিন । 

No comments:

Post a Comment