Monday, January 25, 2016

আমিন ভাইয়ের চিরবিদায় ও কিছু কথা !!!!

আজ আমীন ভাই কে নিয়ে লিখবো এটা কখনো ভাবনাতেও ছিল না । কেন থাকবে? আমরা কি এটা প্রত্যাশা করেছিলাম ? না করি নাই, কারন মাঝ বয়সে একজন মানুষ আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন তা আমরা কি কখনো ভাবনাতে রাখি ? আমি অনেক মানুষ কে জীবন থেকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেলেছি, তাঁর মাঝে গতকাল আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়া একজন আমীন ভাই। আমীন ভাইকে অনেক কারনেই মনে থাকবে ।
আমি জে ব্লক এ একটা কাজে বের হই গত ২৯ তারিখে আমার বন্ধু প্রতিম সুকুমার ফোন করে জানালো ‘তুই শুনছিস আমাদের আমিন ভাই মারা গেছেন’ আমি ঠিক কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না । এটা কি ভাবে ? আমি আমাদের আরে কলিগ ও বন্ধু প্রতিম খবির ভাইকে ফোন দিলাম । ভাই আমাকে জানালেন আমীন ভাই ব্রেইন স্ট্রোকে মারা গেছেন জানাজা, বাদ জোহর মহাখালিতে, আমরা যাচ্ছি । আমি মহাখালী পৌঁছালে ভাই জানালেন একটু আগে তাঁর পালস ফিরে আসছে ডাক্তার আইসিইউ তে নিছে । দোয়া করেন ভাই । আল্লাহ যেন তাকে আবার আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন ।
আশাবাদী হয়ে ফিরে আসলাম,
কিন্ত ,
গতকাল সৃষ্টিকর্তা আমাদের মুখের দিকে না তাকিয়ে তাকে নিয়ে গেলেন আইসিইউ থেকে আর তিনি ফিরলেন না । ফিরলেন না আমিন ভাই। খবর এল আমিন ভাইের দুইটা কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে এবং ব্রেইন ড্যামেজ হয়ে গেছে। সৃষ্টি কর্তা তাকে নিয়ে গেছেন । অনুভুতি টা কি আর লিখে প্রকাশ করতে পারি !!!!!
কলিগ থেকে বন্ধু হলেন আমিন ভাই ,
একটু পিছনে ফেরা যাক ।
নতুন অফিসে আমরা প্রায় সম্পূর্ণ নতুন একটা প্রোজেক্ট এর জন্য এক সাথে প্রায় ২৫ জন কে নিয়োগ দেয়া হয় । আমরা ৫-৬ দিন অফিস করার পরে একদিন স্যার আমাকে বললেন ওর নাম আমীন আজ থেকে তোমাদের সাথে কাজ করবে, ওরে একটু দেখায় দাও । মানুষ টার সাথে হুট করেই একদিন দেখা । কথা হল খুব কম, পরের দিন থেকে এক সাথেই পাশাপাশি টেবিলে কাজ শুরু করলাম । তিনি কিছু কিছু বিষয় খুব ভালো বুঝতেন এবং পারতেন । আমি তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি, তাঁর সাথে আমি প্রায় ২ মাসের মত কাজ করি। তাঁর পরে আমি জবটা ছেড়ে দেই, আমীন ভাই সেখানেই থেকে যান । দুই মাস কাজ করার সুবাধে অনেক সময় এক সাথেই থেকেছি । অনেক কথা হয়, পরস্পর অনেক কিছু শেয়ার করেছি ।
কাজের প্রতি তাঁর ছিল নিষ্ঠা ও একাগ্রতা ,প্রতিটা সময় আমীন ভাই কাজ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতেন কখন শেষ হবে? ঠিক মত হচ্ছে কিনা ? আমরা পারব কিনা ? ইত্যাদি । এই সব কারণে অনেকেই তাকে অপছন্দ করতে শুরু করে , আর এর ফলে আমাকে ও আমীন ভাই কে ২ দিন অফিসের বাহিরে থাকতে হয়। পরে যদিও আমাদের কে বলা হয়েছিলো ওইটা তাদেরই ভুল। আমি সহজে মেনে নিয়েছিলাম । ভাই বলেছিল এইটা অন্যায় আপনে কেমনে মানেন? তাঁর পরেও জোর করি থাক ভাই । যা হবার হইছে আমরা সামনে তাকাই ।
আমি চলে আসার পরে অফিস থেকে আমাকে আমীন ভাই সব চেয়ে বেশি ফোন করেছিলেন । বারবার বলেন ভাই আপনেও চলে গেলেন । ভালো লাগে না, চলে আসেন একসাথে কাজ করি ।
আমি তাঁর সাথে আর দেখা করতে পারি নাই। গত ২ মাস আগে ভাই আমাকে আবার ফোন করেন । বললেন ভাই, অফিস আমাকে একটা কাজ করতে বলেছে , যা আমার পক্ষে করা সম্ভব না । এটা অন্যায়, আমি এইটা করতে পারিনা । আমি তাকে চলে আসতে বলি।
তিনি আমাকে একটা অনুরধ করেছিলেন , সীমাবদ্ধতার কারণে আমি তাঁর অনুরধ রাখতে পারি নাই। এখন নিজেকে অনেক অপরাধী মনে হয় । আরও অনেক বিষয় ছিল যা এখানে বলা সম্ভব না ।
আমি আমিন ভাইয়ের মৃত্যুকে সহজ ভাবে নিতে পারবো না । কেন নিবো? আমি ভাইয়ের মৃত্যুকে হত্যাই বলবো । কারন ?
আমিন ভাই পরিবারের বড় ছেলে ছিলেন , মাথায় স্বাভাবিক ভাবেই অনেক দায়িত্ব পড়েছিল , তিনি প্রথমে বাংলালিংক এ জব করতেন , ভালো অবস্থানে ছিলেন কিন্তু যা আয় করতেন তা দিয়ে পরিবারের জন্য যথার্থ ছিল না । তিনি আরও ভালো কিছুর আশায় অন্য একটি কোম্পানিতে যোগদান করেন, দেখলেন এখানে কাজ তাঁর চিন্তা চেতনার সাথে সাংঘশিক তিনি সেটা করতে পারলেন না । অবশেষে শেষ যোগদিলেন আমাদের সাথে । এটাই ছিল তাঁর শেষ কর্মস্থল। যেখান থেকে তিনি পৃথিবী ছেড়েই চলে গেলেন । আমি দেখেছি তাঁর উদ্বিগ্নতা যা ছিল শুধু পরিবার কে ঘিরেই । ভাই ভালো কিছু করতে হবে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে , কিন্তু আমি পারছি না । কি করবো ভাই ? আমি বার বার সাহস যুগিয়েছি , তাতে আর কিই বা হয় !!!!ষ
আমাদের ক্ষমা করবেন ভাই, আপনার মত মেধাবী আর অনুরক্ত মানুষের আমরা মূল্যায়ন করতে পারি নাই । পৃথিবী আপনাদের মূল্যায়ন করতে জানেনা । এখানে আমার আপনার কেউ নাই , কেউ থাকবে না ! আমাদের কেউ থাকে না ।
আরও অনেক কথা ছিল আজ সব এলোমেলো , আজ আমার লেখার ভাষা গুলির সামঞ্জস্যতা নাই । না হবে সব অর্থবহ !!!!!
আপনার জন্য আজ দূর থেকে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া আর যে কোন কিছুই করার নেই । আপনি শান্তিতে থাকেন । আপনার পবিত্র রুহের মাগিরাত কামনা করছি । ভালো থাকবেন আমিন ভাই । ভালো থাকবেন । ক্ষমা করবেন আমাদের ।

No comments:

Post a Comment