Monday, September 5, 2016

বল্টু কথন ঃ বাস্তব ঘটনা

অনেক দিন থেকেই সোশ্যাল নেটওয়ার্ক থেকে শুরু করে  পোর্টাল সহ বিভিন্ন জায়গাতে "বল্টু " একটি পরিচত শব্দ।  কমিকস , জোকস ট্রল কোথায় নাই মি. বল্টু।  আমি হলফ করে বলতে পারি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক গুলিতে যারা সরব আছেন বল্টু কে নিয়ে দু একটি মজার জোকস পড়েন নি , এমন মানুষ কমই আছেন। তবে আমি আজ  কোন জোকস  বা মজার গল্প নিয়ে আসিনি , বল্টু কে নিয়ে বাস্তব কিছু খণ্ড চিত্রের লিখিত বর্ণনা নিয়ে এসেছি। 
 
তবে শুরু করা যাক, 

এই "বল্টু" শব্দটি আমাদের কাছে এতো আনন্দের বিষয় ছিল না।  ১৯৯২-৯৪ সালের কথা বলছি সে সময় বল্টু আমাদের অহরহ  কষ্ট আর বিড়ম্বনাই দিতো। ২০১৬ সালের শেষ দিকে এসে আমি আসলে কি বলছি ? অনেকের কাছে বিষয়টি এমন ও মনে হতে পারে।  বল্টু তো অনেক রকমের রয়েছে, নাটের মাথায় লাগানো বল্টু, আছে বল্টু নামের কার্টন সিরিজ , আছে বল্টু কে নিয়ে হাজারো মজার মজার জোকস।  এতো পরিচিত বল্টুর মাঝে আমি কোন বল্টু কে নিয়ে কথা বলছি ? 

হ্যা, আমি যে বল্টুর কথা বলছি সেটা হচ্চে স্পঞ্জের সান্ডালের বল্টুর কথা।  আমাদের সে সময় স্পঞ্জের সান্ডালের ওপরেই ভরসা করে স্কুলে ও বিভিন্ন জায়গাতে যাওয়া লাগতো।  আজকের মতো চামড়ার স্যান্ডেল সহজ লভ্য ছিল না , আসলে সহজ লভ্য ছিল না বললে ভুল হবে, কেনার মত টাকা থাকতো না । তখন এক জোড়া চামড়ার সান্ডালের দাম ছিল ১৫০-২৫০ টাকা।  এই টাকাতে কিন্তু অনেক সুন্দর সুন্দর চামড়ার স্যান্ডেল পাওয়া যেত যেসব স্যান্ডেলের বর্তমান মূল্য প্রায় ৮০০-১২০০ টাকা।  আমরা বছরে একটা চামড়ার স্যান্ডেল পেতাম আর পরার অনুমতি  মিলতো কালে ভদ্রে কোথায় বেড়াতে যেতে, তা না হলে স্পঞ্জের সান্ডালেই দিন পার ।  
 
 তখন স্পঞ্জের সান্ডালের দাম ২০ -৩০ টাকার মধ্যেই ছিল, আমার একটি সমস্যা ছিল মাঝে মাঝে বল্টু ছিঁড়ে যেত, স্যান্ডেল পায়ে বেশি দৌঁড়াতাম যার দরুন ছিড়তো বেশি।  ছিড়ে গেলে বা আঠা খুলে গেলে এখন আর আমরা সেই স্যান্ডেল  পায়ে দিই না , সে সময় ওই সুযোগ ছিল না।  বল্টু জোড়া দিয়ে পরতে হতো।  কখনো কেরোসিনের কুপির আগুনে দুই মাথাতে আগুনের তাপে গলিয়ে চেপে ধরে রাখতাম যতক্ষণ না জোড়া লেগে যেত,  দ্রুত যেন ঠান্ডা ও শক্ত হয় সে জন্য তুথু দিয়ে ঠান্ডা করতাম।  ৩ টি বল্টু এভাবে পর্যায় ক্রমে জোড়াতাম শেষ দেখা যেত ফিতা ছোট হয়ে গেছে আর পায়ে ঢুকতে চাইতো না , জোর করেই পা ঢুকিয়ে করতাম, জোরাজোরিতে আবার খুলে যেত , ছোট ফিতা জোড়া লাগছে না ? উপায় ? হা উপায় হচ্চে আরেকটা ছেড়া স্যান্ডেল থেকে বল্টু কেটে নিয়ে জোড়া দেয়া , চলত ভালো কিছু দিন।  কিন্তু, বিপত্তি এখানেও ছিল , ফিতা অতিরিক্ত বড়ো হয়ে যেত মাঝে মাঝে তখন হাঁটার সময় স্যান্ডেল থেকে পা মাটিতে নেমে যেত , বার বার পা ধোয়া লাগতো।  আর সে সময় জনপ্রিয় ছিল বাটার স্পঞ্জের সান্ডাল যা সহজে খয় হত না । অগত্যা রিপেয়ার চলতো মাঝখানে ফেটে দু ভাগ হওয়া পর্যন্ত । কথায় আসি , 

এর পরে জোড়াতালিতে ব্যর্থ, এখন ? হ্যাঁ,  সমাধান হলো ফিতা আবার আলাদা কিনতে পাওয়া যেত এজন্য  অপেক্ষা  করতে হতো  হাটের বার পর্যন্ত ,গ্রাম এলাকার সব কেনাকাটা সপ্তাহে ২ দিন।  আমাদের হাট  ছিল বনপাড়া হাট ।  সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার বসতো এই হাট। হাটের দিন ছালার বস্তার ওপরে দোকানি বসতো,  স্যান্ডেল ও ফিতা নিয়ে।  সাইজ অনুযায়ী দাম ছিলো , ছোট ফিতা  ২ টাকা বড় ফিতা ৩ টাকা।  সেই ফিতা কিনে এনে বল্টুর গোড়ায় সুতলী বেঁধে টান দিয়ে ঢুকিয়ে নিতাম।

বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব প্রায় ৩ মাইলের কাছাকাছি।  আমাদের  একমাত্র বাহন ছিল  পদ-জুগোল, যার ওপরেই ভরসা করে প্রতিদিন পথ অতিক্রম করতাম ,কাদায় হাঁটা ছিল সবচেয়ে বেশী বিড়ম্বনার, কাদায় আটকে স্যান্ডেলের বল্টু খুলে যেত তখন ওই স্যান্ডেল তুলতে গেলে পায়ে কাঁদা লাগতো, বই হাতে থাকলে কাঁদায় পরে যেত।  আমাদের  মাঝে অনেকের  স্কুল ব্যাগ ছিল না, ছিল না আমারও আসলে ওই সময় এর  তেমন কোনো ব্যাবহার ছিল না।  অতি বড় লোকের  ছেলে মেয়েরা শুধু ব্যাগ নিত।  আমরা ৮টা বই রুমালে কেঁচকি গিট্টু দিয়ে বেঁধে নিতাম এই স্যান্ডেল বিপত্তিতে একবার তো সব বই রাস্তার পানিতে ভিজে যায়, আর রাস্তা ? গরুর গাড়ী চলতো কাদা আর কাদা, হাটু পর্যন্ত কাদাতেও হাটতে হয়েছে আমাদের। তার পরে , পাকা রাস্তা মানে বিশ্বরোড দিয়ে  রাস্তায় হাঁটার সময় মাঝে মাঝেই বল্টু খুলে যেত কলম বা রাস্তার পাশের শিশু গাছের ডালের মাথা দিয়ে গুতায় ঢুকতাম।  রাস্তার পাশে এখন আর শিশু গাছ নাই , এখন তো সব মেহগুনি ,জাম পাইকড় সহ অনেক গাছ দেখতে পাওয়া যায়।  ওই সময় শিশু গাছই ছিল, শিশু গাছ লাগানো হতো যেন গাড়ী এক্সিডেন্ট করলে গাছের সাথে বেঁধে থাকে না হলে গর্তে পড়ে যেত।    


আমার পরিস্কার মনে আছে , তখন ৪থ শ্রেণীতে পড়ি , প্রথম সাময়ীক পরীক্ষা চলছে ছুটছি সবাই মিলে, স্কুলের কাছাকাছি পৌঁছালে স্যান্ডেলের বল্টু ছিঁড়ে যায় , আলতো করে কোনো রকম লাগিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে  স্কুলের গেটের কাছে পৌঁছালাম  খেয়াল করে দেখি বল্টু ফিতার মাথা থেকে  পড়ে  গেছে, ফিতা বের হয়ে আসছে  , স্কুলের গেটের ডান পার্শে একটা ছোট খেঁজুর গাছ ছিল, একটা খেঁজুর কাঁটা ছিঁড়ে ফিতার মাথায় ঢুকালাম।  সে কি আর ঢুকে অর্ধেক ঢুকে তো বের হয়ে যায় কোনো রকম ঢুকায় পরীক্ষার হলে ঢুকলাম পরিক্ষা শেষে রাস্তার পাশ দিয়ে হাটছি ইটের সাথে উষ্ঠা খেয়ে পড়ে গেলাম কাঁটার মাথা পায়ে ঢুকে গেলো, সে কি ব্যাথা !!! এদিকে খালি পায়ে  দুপুর বেলা পাকা রাস্তায় হাঁটা  যেত না আবার রাস্তার পাশে  বড় বড় ইটের  খোয়া  থাকতো , তাই খালি পায়েও হাত দূস্কর। ওই ভাবেই আস্তে আস্তে বাড়ী আসলাম , এর পরে জ্বর ব্যাথায় পরের ৩ টি পরীক্ষা আর দেয়া হয় নি  .  

অতঃপর বল্টু  আমাদের এভাবেই নিত্য ঘটনার  সঙ্গী ছিল   ........







Friday, August 19, 2016

“তিনি” ছিলেন সহযাত্রী

ঢাকা শহরে দোতলা বিআরটিসি আমার প্রথম পছন্দ, এটা কিন্তু তাদের সেবার জন্য না । তারা নতুন বাজার থেকে মোহাম্মদপুর রুটের জাত লোকাল। আমার গন্তব্য আড়ং মোড় হয়ে ধানমন্ডি। এ রুটে কয়েকটি সিগনাল তাই প্রচুর সময় লাগে, তাই হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বের হই এবং সামনের সিটে মাথাদিয়ে ছোট খাটো একটা ঘুম দেই এটা মোটামুটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আজ বাস হঠাৎ ব্রেক দিলে জানালার সাথে মাথাটা বাড়ি লাগে পাশে তাকায় দেখে তো পুরাই “থ” । এক সুন্দরী গলায় আইডি ঝুলানো, কানে হেডফোন হাতে বিশাল স্যামস্যাং মোবাইল। অনাকাঙ্ক্ষিত সুন্দরী তাও আমার পার্শে। আমরা মফস্বল শহরে কোন মেয়ের পাশে বসতে বা কোন মেয়ে আমাদের পাশে বসতে চাইলে অনুমতি চাওয়াটা রেওয়াজ কিন্তু ঢাকায় বাসের খালি সিটে বসতে ছেলে বা মেয়ে কারোই অনুমতি লাগে না, এখানে এটাই রেওয়াজ। আমার ব্যাথায় তার ঠোটের কোনে চাপা হাসি । রাগ উঠলেও করার কিছু নাই, সে তো আর আমার কেউ না।যাহোক গল্পের শুরু এখন থেকেই,-এই বাস কি আগারগাঁও দিয়ে যাবে ? -না সূচক উত্তর দিলাম মনে হল খুশি হয়নি । আবার প্রশ্ন করলাম কোথায় যাবেন ?-তাজমহল রোড , মোহাম্মদপুর। -সমস্যা নাই। এই বাস যেখানে শেষ, আপনি নেমে ঐখান থেকে রিক্সা নিবেন ৩০ টাকা ভাড়া দিলেই নিয়ে যাবে। আরো কম ও লাগতে পারে। – আর কতক্ষণ লাগতে পারে? -কেবল তো ওয়ারলেসগেট আছি আরো এক ঘন্টার বেশী লাগবে। কপাল খারাপ হলে আরো বেশী ভালো হলে কম। -আপনি নিয়মিত যান? -হ্যা, আমার অফিস তো তাই যেতে হয়। -আমি আজ প্রথম এলাম, চিটাগাং আমার বাসা ঢাকা গুলশান অফিসে ট্রান্সফার দিছে। যাত্রাবাড়ী নামছি সকালে, একটু আগে জয়েন করে ছুটি নিয়ে এই বাসে উঠলাম। এখন মামার বাসায় যাবো। ঢাকা তেমন ঘুরা হয়নি , তেমন কিছু চিনি ও না। -এই ঢাকা আপনাকে সব চেনায় দিবে, সমস্যা নাই। আমার ও প্রথম এমন সমস্যা হয়েছিল। আমার চোখে যজ্ঞের ঘুম, মনে হচ্ছিলো ঠেলে ফালায় দেই। কারণ আগের রাতে একটা মিনিট ও ঘুম হয়নি। – আপনার কাছে কি ফেসিয়াল টিস্যু হবে? আমার ব্যাগে সব ফেলে এসেছি । অনেক ভারীতো তাই অফিসে রেখে আসছি। -রক্ত এবার মাথায় উঠে গেল, বেতনের টাকায় চলতে পারি না । গোল্ডলিফের জায়গায় ডার্বি খাই, আবার টিস্যু তাও ফেসিয়াল। বললাম এসব কিছু নাই। সুন্দর মুখটায় যেন কালো মেঘ জমে গেল । ভেতরে মায়া লাগতে শুরু করলো। বললাম ছেলেদের এসব লাগে না। -আপনি বিরক্ত? -নারে ভাই । দেড় ঘন্টায় জাহাঙ্গীর গেট আসলাম , ১ টার মধ্যে আফিসে আপডেট ফাইল জমা দিতে হবে। টেনশনে আছি। এমন সময় ফোনটা ভ্রাইবারেট হতে থাকলো, অ-কাজের কাজী রাহাতের ফোন। পকেট থেকে ফোন বের করতে লাইন কেটে গেল । ব্যাক না দিয়ে ফেসবুকে ডুকে গেলাম । বাস ততক্ষণে বিজয় স্বরণী সিগনালে আটকে গেল। তাকে বললাম আড়ং এর কাছে আর একটা সিগনাল তার পরে আপনি পৌছে যাবেন। আমি খামার বাড়ি পাওয়ার আগে থেকেই এই গল্পটি লিখতে শুরু করলাম । মোবাইলের কী প্যাডে প্রেম জমে গেল । ভাবলাম আজ কিছু লিখার উপাদান পেয়ে গেছি। আর গত এক বছরে এমন অনেক ছোট বড়, বলিকা , রমণী , যুবক থেকে বৃদ্ধ অনেক মানুষ কে পথ দেখায় দিছি, এটা আমার জন্য কমন বিষয়। মানিক মিয়া এভ্যিনিউতে বাস ডুকলে একবার তার দিকে তাকালাম একি মেয়ে আমার মোবাইলের স্কিনে এক পলকে তাকিয়ে আছে। আমি তার দিকে তাকাতেই সেকি বিস্ময়কর চাহুনী !!! -প্রশ্ন করে বসলো এ ফোনে ফেসবুক চলে ? কি জোরে জোরে আবার লিখছেন ও । -বলালাম আমার এটাই আইওএস থেকে কম যায় না। মোবাইলে ইন্টারনেট জাভা ই কিন্তু পথিকৃৎ। এনড্রয়েড তো জাভার পরের সংস্করণ। আমি একটু পিছিয়ে আছি এই আরকি। মোটা হয়ে যাচ্ছিতো তাই দ্রুত চলতে পারি না -মেয়েটা এবার হাসলো। বাস আড়ং সিগনালে থেমে আছে, আমি আজ বাসেই বসে আছি আজ বাস থেকে নামবো বাস রাস্তা পার হলেই, প্রতিদিন একটু আগায় ওভার ব্রিজ দিয়ে পার হই। সিগনাল আর বেশী সময় নিল না। ছেড়ে দিলে সিট ছেড়ে উঠতে উঠতে বললাব রিক্সা নিয়ে যাবেন , যেভাবে আগে বলেছিলাম। -আপনার নামটা বলা যাবে? এতক্ষণ কথা বললাম নামটাই জানা হল না ? -কেন নাম দিয়ে কি হবে? -না এমনি । তাছাড়া আপনি অনেক সময় নিয়ে আমার সাথে হওয়া কথা গুলি লিখছিলেন। -এটা আমার মুদ্রা দোষ। – ফেসবুকে তো লিখছেন আইডি নামটা তো বলেন। -আমি কি লিখেছি আপনি সব পড়েছেন আমি কিন্তু খেয়াল করেছি। যতটুকু মনে পড়বে ততটুকু লিখে গুগলে সার্স দিলে আসা করি পুরো লেখাটা পাবেন । আইডিটা না হয় তখন খুজে নিয়েন। বাস এতোক্ষনে আসাদগেট পার হয়ে মোহাম্মদপুর বিআরটিসি ডিপোর কাছাকাছি। পাশের সিটের একজন বার বার তাকাচ্ছিল প্রথমে সে হয়তো ভেবে ছিল আমরা পূর্ব পরিচিত। মেয়েটি আমার নাম জানতে চাইলে তার মুখে দেখি কেমন জানি উৎসুক ভাব। বাস ডিপো গেটে থেমে গেছে, সবার সাথে নামলাম,রিক্সাওয়ালার সাথে কথা বলছি এমন সময় তার ফোন বাজলো “মামা আমি প্রায় চলে আসছি। রিক্সা ঠিক করতেছি” ওপার থেকে মামা বলছে শিয়া মসজিদের কাছে নামতে। তাকে একটা রিক্সা ২০ টাকা ভাড়ায় ঠিক করে তুলে দিলাম। -নামটা এখনো বললেন না , আজব মানুষ আমার অফিস নিকেতনে ___গ্রুপ __ বাড়ি , রোড__ । এইচাআরএ আছি আসবেন কিন্তু গল্প করা যাবে। কখনো অপরিচিত কারো সাথে এতো গল্প হয়নি। ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন। ।মেয়েটি সাত মসজিদ এর সামনে দিয়ে অনেক দূর যাবার পরে মনে হল, আরে আমি ও তো ওর নামটা জিজ্ঞেস করলাম না । নিজের অপরে বিরক্তি কাজ করল ।ইতোমধ্যে অফিস থেকে আবার ফোন আসছে, “সপ্তাহে আসেন দুইদিন তাও ঠিকমত আসতে পারেন না। আপনাকে আর অফিসে আসতে হবে না”। বস অনেক জ্যাম ছিল ৫ মিনিটেই চলে আসবো রিক্সায় উঠেছি। অফিসে পৌছালাম আড়াইটায়। ফাইল জমা দিয়ে বের হয়ে আবার বিআরটিসি কাউন্টারের দিকে হাটছি। আবার আরেকজন আলাদা মানুষ আরেকটি গল্প

Thursday, March 3, 2016

আক্ষেপ

একটা সময় কিছু বিষয়ের আবেদন একদমই হারিয়ে যায়। আপনি চাইলেই তাতে আর ফিরতে পারবেন না, না ফেরাতে। এটাই ঘটে চলেছে গতানুগতিক ধারায় । আপনি এটাকে সার্বজনীন বিষয় হিসেবে চালিয়ে দিতে পারেন , এটা কিন্তু খুবই সহজ আর সোজা কাজ । 
আসলে কি তাই ? 
না আপনাকে থামতে হয় । ওই বিষয় সংশ্লিষ্ট অনেক কিছুই আপনার মাঝে বিস্ফোরিত হতে চায় । আপনি নিয়ন্ত্রণ হারান নিজের ওপর, ফিরতে চান, ফিরে পেতে চান এবং ফেরাতে চান। অদম্য ইচ্ছা আর আকাঙ্ক্ষায় ভেতরটা তছনছ হয়ে যায়, আপনি এখন স্তিমিত অতঃপর নিরব। স্বীকার বা অনুশোচনা সত্ত্বেও আর কিছুই থাকে না আগের জাগায় । কেন থাকবে ? না থাকাটাই কী যথার্থ না ?

চলবে ...............................................................।

Wednesday, March 2, 2016

ঝরা ধানের ভাত ও জীবনের একটি উপাখ্যান

সময় টা মনে পড়ে না তবে (৯২-৯৩) হতে পারে। এত টুকু মনে আছে ,তখন মোটা চাউল পাউয়া যেত ৮-৯ টাকায়, আর সবচেয়ে ভালো চাউল ১১-১২ টাকা । জীবনের চরম দারিদ্রতায় ভুগছিলাম সেই সময় , অনেক ছোট ছিলাম। বড় বোন আর আমি প্রতিদিন সকালে বিলে যেতাম ধান কুঁড়াতে, আমি দাড়িয়ে থাকতাম আপু ধানের শিষ ছিঁড়ত , ঐ ধানের প্রতিটি তে আবার হুল থাকতো , যার আঘাতে আপুর হাতে ঘা হয়ে যেত । কথা বলছিলাম ঝরা ধান নিয়ে , ধান পাকার পরে কাটা হয়, এই ধান কাটার পড়ে যে ধানের গোঁড়া বা মোথা থাকে সেই খান থেকে আবার নতুন কুশি বের হয় , আবার ধান হয় তবে খুব ভালো না মাঝে মাঝে দু এক ঝাড় ধান হয়। জমি ঐ সময় পতিত থাকে বর্শায় ডুবে যাবে বলে । সাধারণত জমি মালিকরা আর বিলে যায় না। এই ভাবে আমরা ধান কুড়াতাম, ১০-১২ কেজি হলে বাজারে নিয়া ভাঙ্গায়া চাউল করে আনতাম । তার পরেই হত ভাত। 
পরিস্কার মনে আছে , তখন গম ছিল সহজলভ্য , দিনে একবার ভাত হলে পরের দুবার গমের ভাত রান্না হত , খেতে পারতাম না লবণ দিয়ে খাউয়া লাগত । অনেক পিটানি খাইচি এই ভাত খাবনা বলে। সবাই একসাথে ছিলাম, বাবা , মা ছিলেন একটি সংসার ছিল। আজ বাবা নেই ১৩ বছর হল মারা গেছেন , মা নেই ১০ বছর হল। আজ চাউল কেজি ৩৫-৪০ টাকা তবু ও আজ ভাতের অভাব নেই। আজ অনেক ভালো আছি সমাজে অন্যদের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারছি , এখন অভাব নেই, সব এই আছে । সুধু কাছে নেই বাবা আর মা।

জীবনের প্রথম ঘুষ ৩৪-৪=৩০ টাকা

কয়েক বছর আগের কথা (২০০৫),রোজা ঈদ এর আগের রাত সময়টা হবে আনুমানিক রাত ১২ টা। দাদা দাদি, ও অন্যান্যদের জন্য কাপড় ও অন্যান্য জিনিস পত্র কিনে গ্রামে যাচ্ছিলাম আমি ও এক বড় ভাই ,আমি বাইক চালাচ্ছি ভাই পিছনে বসে আছেন । আমরা নাটোর থেকে যখন আহমেদপুর ব্রিজ এর কাছে গেলাম তখন কয়েক জন পুলিশ আমাদের থামালেন , প্রশ্ন শুরু আমরা কে কি করি ? কোথায় যাচ্ছি ? ব্যাগ এ কি আছে? সব দেখালাম বলল সব ঠিক আছে । এই বার বাইক এর পালা......গাড়ি কার? রুট পারমিট কই? আর যত কিছু লাগে সব ই জিজ্ঞাস করলো... ঐ সময় আমার কাছে কিছুই ছিল না... আমি বার বার বুঝালাম কালকে ঈদ... আর আমি পেশাদার গাড়ি চালাইনা আমাকে বারি থেকে এই জিনিস গুলি গ্রামের বাড়িতে দিয়ে আসার জন্য পাঠাইছে । তারা আমাদের প্রায় ১ ঘণ্টা বসাইয়া রাখলেন , এবং বললেন যে তোমাদের মাঝে ঝামেলা আছে ,গাড়ি সহ তোমাদের থানায় নিয়া যাব , ভয় পাইলাম তখন । থানা ও পুলিশ বাবারে!!!!! বড় ভাই বললেন কিছু টাকা দিলে দেখবি এইসব কিচ্ছু না থাম আমি দেখি , ভাই এক পুলিশ কে অনুরধ করলেন তিনি আবার আরেক পুলিশ এর কাছে যাইয়া বলতে বললেন ভাই তার কাছে ও গেলেন , আমার র বুঝতে বাকি থাকল না ......... এখন টাকা হলেই আমরা ফ্রীঈঈঈ... কিন্তু টাকা? অপরের পকেট খুজে পাইলাম ১৪ টাকা ভাই বললেন টাকা র বার করিস না , ভাই বার করলেন ২০ টাকা । ভাই ৩৪ টাকা দিয়া বললেন ভাই আমাদের কাছে আর কোন টাকা নাই বাজার করে সব শেষ । আপনারা চা খান আর আমাদের যাইতে দেন। এক মুরুব্বি পুলিশ বললেন ওদের যাইতে দাও তিনি বললেন তোমাদের কাছে সত্যি টাকা নাই ? আমি বললাম না... তিনি ৪ টাকা ফেরত দিলেন র বললেন যাও ............ চলে গেলাম , 

রিকুরবাবা

রিকু অনেক ছোট কোন জায়গা তেমন চেনে না, কথাও যেতে হলে কি করতে হবে তাও তেমন ভালভাবে জানেনা । তার বাবাই একমাত্র ভরসা , আর হবেই বা না কেন? কারন বাবা যে তাকে খুবি ভালবাসেন , বাবা কথাও যেতে রিকু কে সাথে নিতেন । বাবার কাছে টাকা নেই তাতে
কী ! বাবা রিকু কে কাঁধে নেয়াই বের হয়ে যেতেন । রিকু কিছু চেয়ে বাবার কাছে পায়নি এমন টা খুব কম এই ঘটেছে। আর দশ জন বাবার মত রিকুর বাবা ও ছিলেন সাধারণ একজন মানুষ , ভালই চলছিল রিকুর জীবন কিন্তু একদিন হতাথ বাবা হারিয়ে গেলেন । অনেক খোঁজা হল বাবাকে কিন্তু কিছুতেই কিছু হল না , তার পরে একদিন খবর এলো বাবা ফিরে এসেছেন রিকু এখন অন্য জাগায় থাকে আর না থেকেও কি উপায় আছে বাবা চলে যাবার পরে যেওদের সংসার টা ভেঙ্গে গেছে মা নানার বাড়ি রিকু একটা স্কুলে । যাই হোক রিকু বাবার সাথে দেখা করতে এলো । বাবার সাথে অনেক কথা হল । বাবা জানতে চেয়েছেন কিছু লাগবে কিনা । রিকু আস্তে করে বলল বাবা আমার একটা ছাতা আর একটা লাইট লাগবে রাতে বের হতে ভয় পাই । আর অনেক বৃষ্টি হয় সবার বাবা সবাইকে ছাতা দিয়েছেন কিন্তু আমার তো নাই......।।বাবা কথা দিলেন ঠিক আছে বাবা আমি আগামী সপ্তাহে তোমাকে এগুলা কিনে দিব আর তোমাকে দেখে আসব । কারন রিকু বাবার সাথে দেখা করার জন্য মাত্র একদিন ছুটি পেয়েছিল তাই আজ রিকুকে যেতে হবে । রিকু বাবা এবং মা কে বিদায় জানানল কেন জানি রিকুর মনটা খারাপ হয়ে গেল যেতে ইচ্চে করছেনা । রিকু নানার বাড়ীতে মামা এবং মা এর সাথে দেখা করতে এসেছিল , রিকু অন্য সময় নানা বাড়ীতে গেলে সবাই আদর করে এবার কেন জানি ভাল লাগচেনা তাই আর কার সাথে কথা না বলে বের হয়ে আসল এবং তার স্কুল এ যাবার গাড়িতে উঠল স্কুল এ রিকু এখন সবাইক গল্প শোনায় বাবা আসবে জিনিস নেয়ে কতো মজা এই না হবে,বাবা ফিরে এসেছে এর চেয়ে আনন্দের আর কি বা থাকতে পারে। ভাবনার জগতে হারিয়ে রিকু পার করল একটি সপ্তাহ । ঠিক এক সপ্তাহ পরে একদিন ভোর বেলা তাকে স্কুল থেকে আনতে বাড়ি থেকে মানুষ গেল রিকু কে বলা হল তুমি বাড়ি যাও তোমাকে ছুটি দেউয়া হল । কেউ কিছু বলছে না সুধু বলছে রিকু চল বাড়ি যাই । রিকু ও কোন আপত্তি করছেনা কারন ছুটি টা যে অনেক মজার । কিন্তু এই মজার টা যে হবে জিবনের সবচেয়ে বর দুসংবাদ টা কি তখনও বুজেছিল না বুঝে নি? টা একমাত্র রিকু ভাল বলতে ্পারবে রিকু বাড়ি গেটে আসতে না আসতেই কান্নার শব্দ আসতেছে রিকু কি এখনও বুঝতে পারছেনা ? হা রিকুকে এবার বুজতে হবে মেনে নিতে হবে যে তের বাবা আর বেচে নেই!!!!!!! তিনি এহলক ছেড়ে চলে গেছেন কি জেন এক অজানা রোগে তাকে গ্রাস করে নিয়েছিল......।।

২৭ ঘণ্টার হাজত বাস ও একটি অভিজ্ঞতা

গত বছর এই মাসেই সকাল টা শুরু হল ভালো ভাবেই , ঘুম থেকে উঠে মাত্র বসলাম একটু পরেই ফোন এলো স্যার ডাকছেন আজ নোট দিবেন তাড়াতাড়ি বের হব তাই তাড়াহুড়া করে তৈরি হলাম পড়তে চলে গেলাম , ফিরে আসছিলাম রাস্তার মাথায় শুনলাম বাসায় গেঞ্জাম সবাই আমাকে ধমকাচ্ছেন আমি নাকি মারা মারি করছি .? আমি বললাম কিছুই জানিনা বাসায় আসলাম (আসল ঘটনা হল ) আমার চাচি আর কাকার সাথে সংসার করবেনা তাই তিনি মহরানার টাকা চাইছেন চলে যাবেন এইটা অনেক কয়দিন থেকেই চলছে আমি জানি। তো বাসায় কাকার সাথে কথা কাটাকাটি করে নারী নির্যাতন মামলা দিবেন এই হুমকি দিয়ে বাসা থেকে বের হন , আর বাসার সামনে রাস্তায় গিয়া বলছেন আমাকে বাসা থেকে বের করে দিছে আর আমার বাচ্চা দুইটা তারা রেখে দিছে ,রাস্তার মোরে মানুষ তাঁকে থানায় যেতে পরামশ দিলেন ( বলে রাখা দরকার তার দূর সম্পপকের এক ভাই আবার দারগা যার ভয় তিনি সবসময় দেখাতেন । ) যাই হোক তিনি থানায় গেলেন বাসায় পুলিশ আসল ,পলিশ এসে আমাকে জিগাইল আমি কে ? তার পরে বলল ঐ মুহিলার মেয়ে দুইটা কই? আমি বললাম ওরা খেলছে , সমস্যা কি? বলল কেন কিছু জাননা??? তোমাদের সবার নামে অপহরণ মামলা ও নারী নির্যাতন মামলা হইছে ,ছেলে হিসাবে তখন বাড়িতে একমাত্র আমি উপস্থিত ছিলাম , আমাকে বলল চল আমাদের সাথে , মেয়ে দুইটা সহ আমাকে থানায় নিয়া গেল বলল ভেতরে বেঞ্চ আছে বস । ২ ঘণ্টা বসে থাকলাম আমার চাচি আসলেন মেয়ে দুইটা তিনি নেয়া গেলেন ,আর পুলিশ কে বললেন ওরে বেধে আটকালে সবাই আসবে ওরে ছেড়ে দিয়েন না, আমি অভিযোগ লিখা দিচ্ছি (এর পিছনে একটা কারন হল আমার চাচা, চাচি, দাদা ,দাদি সবাই আমাকে অনেক ভালোবাসেন ) আমি অবাক হলাম বলে কি ? আমি আবার কি করলাম ,অনেক কাদলাম আমি কিচ্ছু জানিনা আর আমি তো তখন বাসায় ছিলাম না কি হইছে বা না হইছে তাও তো জানিনা এই সবের মানে কি.আমাকে ছেড়ে দেন আমি বাসায় যাব সামনে পরীক্ষা অনেক কাজ!!!!!! 

আমাকে হাজত খানায় ঢুকানো হল ___________ 

আমাকে এক পুলিশ ডাক দিয়া কইল এদিকে আসো মারামারি কর আর এখন আরামে চেয়ার এ বসে আছো । গেট খুলে বলল ঢুক _______ (ভেতর টা কেঁপে উঠলো) ঢুকলাম ভেতরে , ঢুকে ২ জন কে দেখতে পেলাম তারা হলেন বাবা আর ছেলে, একটি অটো চুরির মামলায় ভেতরে আছেন । অটো টা ছেলে চালাত , নেশা খাওয়াইয়া কারা যেন নিয়া গেছে , মালিক মামলা দিছেন তাই তারা হাজতে. বিকাল হল ঐ দুজনের মালিক পক্ষের সাথে সমজথা হইছে তাদের ছেড়ে দেউয়া হল । আমি একাই আছি ঘণ্টা খানিক পরে এক মাঝ বয়সী কে ঢুকানো হল সময় সন্ধ্যা জমি নিয়া বিরোধ । তাঁকে রাতে ছেড়ে দেউয়া হল তাও সমঝতা এর মাধ্যমে । রাত ১১ টা থানা প্রায় নিরব । বাসা থেকে অনেকই গেছেন কাউকে পুলিশ ধুকতে দিচ্চে না। সন্ধায় এলাকার কমিশনার গেলেন বললেন মামা চিন্তা করিস না একটু পরে নিয়া যামু তরে।। যাই হোক এর মাঝে কাহিনী অনেক হল। কথা বলচিলাম অভিজ্ঞতা নিয়া রাত ১১ , পাশে অনেক খাবার আছে কিন্তু খেতে পারচিনা , এর কারন গুল নিম্নরুপ____
হাজত খানার দৈর্ঘ্য ৪ গজ, আর প্রস্থ ৩ গজ , কোন জানালা নাই উচ্চতা ১৫ হাত হবে ব্রিটিশ আমলের ঘর । কোন জানালা নাই ভেন্তেলেতর আছে প্রায় ৮ হাত অপরে একটু বড় আলো আসে বাতাশ নাই , ফ্যান আছে তাও ছট , ৩ দিকে ৬ টা ইট দিয়া প্রস্রাব খানা বানা ,পানি নাই খাবার পানি ব্যাবহার করতে হয় । এতো দুর্গন্ধ যে ঐ ঘরটাতে কোন জন্ত্রু জানউয়ার ও যদি থাকে সে অসুস্থ হইয়া যাবে। রাত ১২ টা গন্ধে ঘুম আসছে না ,খাবার সব পানি ঢেলে কিছুতা গন্ধ কমালাম। এই বার ঘুম গেল কারেন্ট একটা ফুটা ছিল প্রস্রাব বের হউয়ার জন্মে ঐ ফুটা দিয়া হাজার হাজার মশা আসতেছে কয়েল কই পাই এক
এ আস আই, কে বললাম ভাইয়া ঘুমাইতে পেরতেচি না একটা কয়েল দেবেন ? তিনি বললেন ভাই থানায় সবাই ডিউটি তে গেছে আমি ভেতরে একা কেউ আসলে আনায়া দিব।। ভরয়া পাইলাম। কিছু ক্ষণ পরে কারেন্ট আসল ।একটু সস্তি পেলাম
ঘুমানোর জন্মে ২ টা কম্বল ই ছিল মাত্র আর আমি একা হিসাবে দুইটাই আমার কাছে নিয়া দেখি কত বছর যে পরিস্কার হইনাই আল্লাহ ই ভালো জানেন । মাথার তলে একটা দিলাম আর বিচাইলাম একটা কিন্তু গন্ধ আর গেল না , গায়ের টি শার্ট, মুখের অপরে দিয়া একটা সান্তি পাইলাম রাত ৩ টা
। এক চোর ধরে আনল ,তাঁকে কম্বল একটা দিয়া দিতে হল মাথার তলে এইবার হাত দিয়া সুইয়ায়া আছি ভোর ৫ টা বাসার লোকজনের জনের কথা শুনতে পেলাম বলা হল সে মামালা তুলবে না কোর্টে পাঠাইয়া দিলে ছাড়ায়া নিব ৯ টা পর্যন্ত থাক । সব বেবস্থা করা হইছে । কথা বলতে পারলাম না ভেতর টা কষ্টে পুড়ে যাচ্ছিল । সুধু বললাম ঠিক আছে।
৯ টা পার হল ১০ টা গেল আমাকে কোর্টে পাঠানো হচ্ছেনা নিয়ম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোর্টে পাঠাতে হবে। আমার বেলায় টা হয়নি___ কেন? বুজলাম না ।ভেতরে যখন ছিলাম বার বার মনে হচ্ছিল সবাই ভাববে আমি কিছু একটা অন্যায় করে হাজতে গেছি ___! কি জবাব দিব তার চেয়ে বাসায় আর যাবনা এমন অনেক কিছুই মনে হইচিল। দুপুর গরিয়ে বিকাল এর মাঝে আর অনেক সঙ্গি পাইচিলাম হাজতে সে কথা পরে কখনও সময় পাইলে বলবো। বিকাল ৩ টা আমার বাড়ির ২ জন এলাকার কমিশনার ও সেই চাচি ওসির রুমে ঢুকলেন ৪ টায় বের করে আনলেন আমাকে আর বলা হল "তুমি ভালো ছেলে তাই তোমার নাম কেটে দেয়াউয়া হইছে এখন যেতে পার"__ ওসির রুম থেকে বের হলাম , মনে হল জাহান্নামে ছিলাম___ জান্নাতে আসছি । গেটে ৩ বন্ধু কে পেলাম যারা সারা রাত এখানে ও খানে বাসার লোকজনের সাথে গেছিল । ওদের সাথে বাসায় আসলাম। পুরা ২৭ ঘণ্টা সময় পার করছি ঐখানে_____ সারা জীবন এই অভিজ্ঞতা কয়েটা কারনেই মনে থাকবে আমার।

ইস্কুলের ভেন্টিলেটরে পাখির বাসা

তখন ক্লাস ৮ এ পড়ি , আর ইস্কুলে গিয়া উল্টা পাল্টা কাজ করা ছিল প্রতিদিনের রুটিন । আমাদের একটা টিম ছিল ৫ জনের ,আমরা ইস্কুলে যেতাম রুম খোলার আগেই। একদিন হাজির হইলাম সবাই ইস্কুলে আসার আগে , রুম তখন ও খোলা হয়নাই বারান্দায় দাঁড়াইয়া আছি। হটাত দেখলাম একটা পাখি ভেন্টিলেটরের ভেতর থেকে বাহির হইল। সবাইরে দেখালাম এই খানে কিছু একটা আছে? সবাই রাজি হইল রুম খুলে মিশন শুরু করব পাখীর বাসায় কি আছে।। যাই হক অপেক্ষার পালা শেষ হল চান্দু পিয়নের দরজা খোলার মধ্য দিয়ে। এইবার কাজ শুরু , টেবিল আনলাম ভেন্টিলেটরের নিচ বরাবর দুঃখের বিষয় আমরা কেউই তেমন লম্বা ছিলাম না। অগত্যা চেয়ার তুলতে হল টেবিল এর ওপরে তাও হাতে পাচ্চিলাম না। পাশের রুম থেকে আরেক টা চেয়ার আনলাম কাজ হল আমি ওপরে নিচে ৩ জনে চেয়ার টেবিল ধরে আছে। আমি ভেন্টিলেটরের ভেতরে হাত ধুকালাম মনে হল পাখীর বাচ্চা আছে ধরতে চেষ্টা করলাম দূরে সরে গেল আর ভেতরে হাত দিলাম ভেন্টিলেটরে হাত আঁটকে গেল পায়ের নীচের টেবিল ও সরে গেল নিচে যারা ছিল অপরের চেয়ার হাতের ওপরে পড়ায় তারা ছেড়ে দিয়ে সরে গেল ২ টা চেয়ার নিচে পরে যাওয়ায় আমি ঝুলে থাকলাম । বন্ধুরা উঠে আমাকে নামাল হাতে অনেক বেথা পেলাম । কিছুক্ষণ পরে নিচ থেকে পিওন আসল হেড স্যার ডাকছেন । আসলে আমাদের ক্লাস রুম এর সোজা ঠিক নিচে ছিল হেড স্যার এর রুম । যাই হোক ভয়ে ভয়ে গেলাম, স্যার প্রথমে জিগাইলেন এত জরে শব্দ হল কি হইছে? আমতা আমতা করতাচিলাম ঐ সময় হালা পিওন পুরা ব্যাপারটা কইয়া দিল । কি আর করা স্যার বেত আনতে পাঠাইলেন অনেক আকুতি-মিনতি কাম হইল না, এর কারন ও ছিল প্রতিদিন আমাদের টিম এর নামে দুএকটা বিচার স্যার এর কানে যাইত তিনি হয়তো সুযোগে ছিলেন। যাই হোক আচ্ছা মত ধোলাই দিল ৪ জনরে । অনেক বেথা পাইচিলাম সেই দিন , ইস্কুল লাইফ এ ওই টাই ছিল সর্ব শেষ, ও সরবচ্চ ধোলাই খাওয়া। মাঝে মাঝে স্যার এর সাথে দেখা হয় । আর দেখা হলেই সেই------------- মনে পড়ে ।

মাকে চাই

১৯৯৭ সালে থেকে মার কাছ থেকে দূরে আছি । তার পরে আর কোন দিন মা এর কাছে থাকা হয়নি অথচ দেখা হইছে অনেক বার । কত আসা মায়ের কাছে থাকব। মায়ের কোলে মাথা রেখে ঘুমাব। যত ভালো লাগা, মন্দ লাগা, সব কথা মাকে বলবো। আনন্দের অনুভুতি সব মায়ের কাছে অবলীলায় বর্ণনা করে যাব। যা শুনে মা আমার সাথে হাসবেন। অনেক ইচ্ছা মায়ের সাথে ঘুরতে যাব , মা যা চাইবেন টা এনে দিব। মায়ের ইচ্ছা পূরণে সর্বদা চেষ্টা করে যাব। মায়ের পিছু পিছু ঘুরব মা খেতে দাও__ ক্ষুধা লাগছে ! মা হয়তো বিরক্ত হবেন তা দেখব___ 

এত গুলো বছর আমি মাকে প্রানখুলে "মা" বলে ডাকতে পারিনা। বাস্তবতা আজ আমাকে দূরে থেলে দিয়েছে । আজ আমার আবেগ অনুভুতি বিমর্ষ। প্রতিদিনের কাজ নিয়ম ত্রান্ত্রিক ভাবে করে যাচ্ছি , কিন্তু কোন কিছুতেই আমার ভালো লাগেনা 
আমি কাউকে বলতে পারিনা। বুঝাতে পারিনা । কিন্তু কিভাবে বলবো? বুঝাব এ তো বুঝানোর বিষয় না। এই বয়সে এই আবেগ প্রকাশ এক ধরণের বোকামির ই নামান্তর ভাববে সবাই তাই আর প্রকাশ এর দুঃসাহস আমি দেখাতে যাইনা ।বিগত দিনের দুরত্তে অনেক কিছুই দূরে সরে গেছে মায়া মমতা, কিছুই আর ঊজ্জীবীত নাই। যত কষ্টই পাই কিছুই মনে হয়না । শুধু একটাই কথা মনে হয় মাকে চাই । মায়ের কাছে থাকতে চাই । জীবনের শেষ দিন হলেও একবার মায়ের কোলে মাথা রেখে ঘুমাতে চাই। 

মা তুমি যেখানেই থাক ভালো থেকো । আল্লাহ যেন তোমাকে সুস্থ রাখেন __ সন্তান হিসাবে দূর থেকে এটাই আমার পার্থনা

"""মা""" কে লিখা খোলা চিঠি।

মা, 
সালাম নিবেন আশা করি ভালোই আছেন। আমি আল্লাহর রহমতে খুবই ভালো আছি । অনেক দিন আপনাকে দেখিনা মনটা অনেক খারাপ আপনার জন্য, আমি প্রতিদিন আপনার ফোন নাম্বার গুলাতে চেষ্টা করি কিন্তু সবসময়ই বন্ধ থাকে। গত ১৬ বছরের এমন একটা দিন আমি অতিক্রম করতে পারি নাই যেদিন আপনাকে মনে পড়েনি । আমি বার বার আপনার কাছে থাকতে চেয়েছি । মা অনেক ইচ্ছা জাগে আপনার কোলে মাথা রেখে মনের জমানো সব কথা গুলি বলি , বলি স্বপ্নের আর কষ্টের কথা । প্রতিটি বিশেষ দিনগুলাতে আপনাকে অনেক বেশী মনে পড়ে, ক্ষণে ক্ষণে ভেতরে কষ্ট অনুভব করি, কাঊকে বলতে পারিনা, না বুঝাতে । 
আমি জানিনা আমার প্রতি এতো অনীহা কেন ? একটু আন্তরিক ব্যাবহার ছাড়া আপনার কাছে কিছুই চাইনা । আপনার কাছে আমার কোন দাবী নেই , নেই কোন চাহিদা । 

মা , যখন কোন কাজে সফল হই আপনাকে মনে পড়ে , ইচ্ছা জাগে সবার আগে আপনাকে জানাই । আবার যখন কোন কারণে খারাপ লাগে তখন সবার আগে আপনাকে মনে পড়ে। ছোট বেলায় যখন কোন অন্যায় করতাম আপনে শাসন করতেন । ঐ দিন গুলি খূব মনে পড়ে। এখন আমাকে কেঊ শাসন করেনা । আমি মাঝে মাঝে সিগারেট খাই বাসার সবাই বুজতে পারলেও কিছুই বলেনা, তখন মনে হয় আপনে থাকলে নিশ্চয় অনেক বকা দিতেন । আমি অনেক রাত জাগি কেঊ কিছুই বলেনা , মা আমার অস্তিত্ব জুড়ে আপনে কেমনে বুঝাই ? এতো গুলো দিন চলে গেলো আমার মনে হয় কিছুক্ষণ আগেই মাত্র আপনাকে দেখেছি । গাণিতিক হিসাবে ১৬ বছর অনেক সময় । কিন্তু আমার কাছে মনে হয় কয়েক মিনিট মাত্র। 

আজ ঈদ বাসার সবাই গতকাল গ্রামে গেছে মিথ্যা অজুহাতে আমি গ্রামে যাই নাই, বাসায় সারাদিন একাই থাকলাম একবারের জন্য বাড়ি থেকে বের হই নাই । ভেতরটা অজানা কষ্টে ভারি হয়ে আছে । গত ১৬ বছর ধরে আমি তা বহন করে চলেছি । আমি জানি এর শেষ আর কোন দিন হবে না তাই কোন অভিযোগ নয় , শুধু প্রার্থনা যেখানেই থাকেন ভালো থাকবেন , সুস্থ থাকবেন । 

Monday, January 25, 2016

আজ ও মনে পড়ে তার.......!!

১৯ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ৮:৫১

সময় টা ঠিক মনে নাই , তবে ৮ বা ৯ এ পড়তাম মনে হয় । বাসায় কিছু নিয়ম ছিল তা হল সন্ধার পরে আর ভোরবেলা এই দু-সময় বাধ্যতামূলক পড়ার টেবিল এ বসতে হত। পড়ি আর না পড়ি ভোরবেলা জানালা খুলে টেবিল এ বসে যেতাম । আর পাশের রাস্তা দিয়ে কে যাচ্ছে তা খেয়াল করতাম, সত্যি বলতে কি ইচ্ছা না থাকলেও চোখ থিকই যেত , আপনারা নিশ্চয় এইখানে আমার দোষ দিবেন না??? 
যাহোক , মেয়েটি প্রতিদিন নিদিষ্ট সময়েই আসতো, কখনও কখনও আমি জানালা খুলছি বা খুলেছি ঠিক সে ওই সময় হাজির , জানালার কাছে আসলে তার হাঁটার গতি কমে যেত , বুজতাম সবই কিন্তু বিধিবাম কিছু বলার মত খুজে পেতাম না। হা- করে তাকিয়েই থাকতাম শুধু। এলাকায় নতুন হওয়ায় তার নাম জানতাম না কিন্তু রাস্তায় প্রতিদিন ই দেখা হত। এইভাবে মাস দু-এক যাওয়ার পরে এক ছোট ভাই এর মাধ্যমে নামটা জেনে নিলাম, কোথায় পড়ে ? কোন ক্লাস এ পড়ে সব আরও খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম আমাদের বাসার পিছনের ৩ বাড়ি পরেই তাদের বাড়ি । 

একদিন ভোরবেলা শিতের সকালে অনেক কুয়াশা ছিল, আমি জানালা পুরো খুলি নাই , মেয়েটি জানালার পাশে এসে দাঁড়াল , আমি হতভম্ব এটা কি হল? এই মেয়ে ত কোনোদিন এইখানেই দাঁড়ায় নাই... তবে আজ কেন? 
আমি চুপ করেই থাকলাম সে বলল তোমার নাম কি? তুমি তো অনেক ভালো দেখ আমাদের পাড়ায় তুমি একমাত্র যে এত ভোরে পড়তে বসে। মনে মনে কইলাম আরে তুই কি বুজবি ? মজার ঘুম নস্ত কইরা কি সাধে বয়া রইছি ? বলে রাখা ভালো আমাকে ঘুম থেকে তুলে সবাই আবার ঘুমাত , বাসার সবাই ৭ টায় উঠলেও আমারে ডাকা হত আজানের সাথে সাথে। আমি নাম বললাম, সে বলল আমি যাই পরে কথা হবে। অনেক দূর চলে গেল কিন্তু ভুলে গেলাম তার নাম জিজ্ঞাসা করতে । এর পরের দিন থেকে নিয়মিত কথা হত কেমন আছ? আজ স্কুল নাই? ইত্যাদি । একদিন বলল তুমি তো অনেক খারাপ বসতেও বল না । কিছু উত্তর না করে বেল্কুনির দরজা খুলে দিলাম , ভেতরে আসলো , হালকা পাতলা কিছু কথা হল , কথা বলছিলাম ঠিক কিন্তু ভয় পাছিলাম বাসার কেউ দেখলে না জানি কি হয় ? আমার টেবিল এর পাশে অনেক ছিডি ক্যাসেট ছিল দুইটা চাইল বললাম নিয়ে যাও। 
তার পড়ে যোগাযোগ ছিল মোটামুটি । ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এলাকা ছাড়তে হল পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরেই । মনে অনেক টান অনুভব করলেও বোলার সাহস ছিল না। কতই না বোকা আর নির্বোধ ছিলাম আমি । মাঝে মাঝে খুব মনে পড়ে ষোড়শী তোমারে । 

ঝাপসা জলের ঢেউ

২২ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ৮:৫৬

দ্রুত গতিতে সামনে যাচ্ছিলাম উদ্দেশ্য ---- নিজ গন্তব্য , গ্রীষ্মের দাবাদহে সূর্যটা সদিচ্ছায় অমানবিকভাবে তাপের বিকিরণ ছড়াচ্ছিল । মানুষ কে সৃষ্টির সেরা জীব হিসাবে সৃষ্টিকর্তা ঘোষণা করেছেন । সে হিসাবে মহান সৃষ্টি কর্তার নিকট অবনত মস্তকে প্রশংসা করতে বিন্দু মাত্র দ্বিধাগ্রস্ত হই । তবে কখনও যদি আমার সেই মহান সৃষ্টি কর্তার মুখোমুখি কথা বলার সুযোগ পাই , তাহলে অবশ্যই আমি এর কারন জানতে চাইব । 

কথা বলছিলাম কোথাও যাওয়া নিয়ে । আর এই যাওয়া আসার পথে কত কিছুই আমাদের চোখে পড়ে , কিছুতে আনন্দ, কিছুতে বিষাদ। সময়টা যে ঠিক দুপুরটা তা হয়ত সহজেই অনুমেয় । আমি একটু থামতে ইচ্ছা করছিলাম কিন্তু দ্বিধা ও তাড়া কাজ করতেছিল বিধায় অগত্যা সামনে যেতেই থাকলাম । 

কিছু সামনে গেলাম , রাস্তার ডান পার্শে একটা ডাস্টবিন , ময়লা আবর্জনায় পূর্ণ তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা । একজন মানুষ বয়স বড় জোর ৩০, এর বেশি হবে না । সাধারণত ঐ সময় টোকাইরা থাকে না তাই একটু কৌতূহল নিয়ে একটু দূরে অপেক্ষা করতে লাগলাম দেখার জন্য সে কি করে ? এর পিছনে আরেকটা কারণ হল লোকটি বোতল বা পরিতাক্ত কিছু খুজছেনা , সে অন্য কিছু খুঁজছে আমি ভাবলাম হারানো কোন জিনিস । 

অনেক খোঁজাখুঁজির পরে দেখলাম একটি পলিথিনের ব্যাগ তুলে আনল , ব্যাগটা একটু বড় ছিল কারণ ব্যাগে বিভিন্ন আবর্জনার সাথে মুখে কিছু উচ্ছিষ্ট খাবার তথা ভাত ছিল । সে কোন দিকে না তাকিয়ে খেতে শুরু করলো । তার খাবার এর প্রতি আগ্রহ দেখে মনে হল অনেক তৃপ্তি নিয়ে খাচ্ছিল । 

কাজের কথা ভুলে দাঁড়িয়েই ছিলাম আর ভাবছিলাম এই কেমন বৈষম্য ? এ কেমন সৃষ্টিগত পার্থক্য ? বুঝতেই পারি নাই কখন যেন চোখ দুটো ভিজে গেলো । ফোন আসলো ভাই তোমার জন্য আর কত সময় বসে থাকতে হবে ....... অনিচ্ছা সত্ত্বেও সামনে যেতে হল ।। 

লোকটি বিকৃত বা মানসিক রোগী ছিল কিনা জানিনা । তবে সে যে ধর্ম , গোত্র , বংশের, দলের বা সমাজের যাই হোক এমনটা আমি চাই না । 
(সংযুক্ত ছবিটি প্রতীকী তবে ঘটনাটা ঠিক এই ছবির মত) 

বিত্তে কোলাহল

১৭ ই মার্চ, ২০১৩ রাত ১০:১৫
একটি জন্ম অনেক আকাঙ্ক্ষিত , অনেক প্রত্যাশিত , অনেক প্রাপ্তির যখন কোন শিশু জন্ম লাভ করে প্রতিটি জন্মই সবার মাঝে আনন্দের সঞ্চার করে ,হয় সে পিতা বা মাতা বা আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী । আর এই ভূমিষ্ঠ হওয়ার মাধ্যমেই শুরু হয় একটি জায়গা দখল করে অবস্থান নেওয়া, নতুন জগতে প্রবেশ । দিন যায় বেড়ে উঠি , একটা সময় পূর্ণ মানুষ রুপে সমাজে গণ্য হই ,কিন্তু আসলে কি আমরা বেড়ে উঠি নাকি আবার প্রস্তানের সময় গণনা করতে থাকি? এই জায়গা টা সত্য হলেও আমরা বিশ্বাস করতে চাই না । যাইহোক , বুদ্ধিদীপ্ত বা বুঝতে শেখার পড়ে কি দেখি সে বিষয়টা ঠিক এইরকম - মানুষ গুলো একটা অদ্ভুত প্রানি আর তারা নিজের স্বভাবের একটা ভিন্ন রকম ব্যাবহার করে, আপনি এইটা খুব ভালো ভাবেই অবলোকন করেছেন নিশ্চয় ? আমি দেখেছি নিজের পূর্ণতা বা বড় করে দেখানোর নতুন নতুন ফন্দী তারা প্রতিনিয়ত বের করে। কিন্তু তারা জানেনা যে তারা এক অনন্য সৃষ্টি। সত্যিই এই মানুষ গুলো অতিপ্ত নিজেরা জানেনা তারা কি চায়? আমি নিজেকে দিয়েই তার প্রমান । গত ২৪ বছর একটা বিত্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছি, যত দিন বেচে থাকবো এভাবেই থাকতে হবে। আমি চাইলেই বের হতে পারিনা , আমার আর্তনাদ সবাই শুনলেও কোন সমাধান দিতে পারবেনা। আমাকে কেউ মুক্তি দিতে পারেনা । আমি মাঝে মাঝে স্বপ্ন দেখি অনেক দূর ঘুরছি , শেষ প্রান্ত বিহীন পথের পথিক হয়ে অবিরাম ছুটে চলছি ,পরিতাপের বিষয় ঘুম ভেঙ্গে যখন দেখি আমি সেই বিছানাতেই আছি যেখানে কিছুক্ষণ আগে এসেছিলাম । আমি চিৎকার করি ! আমি অনুরধ করি ! আমি নতুনত্ব চাই ! আমি মুক্তি চাই ! আমি স্বাধীনতা চাই । আমি অনুভূতির প্রকাশের সাথে তার বাস্তবায়নতা চাই ! এত চাওয়ার মাঝে কোনটাই বাস্তবতার আর বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা থাকে না । তাই আমার ইচ্ছা গুলি সত্যতে রুপ নেয় না, আমার শত কোলাহল সেই বিত্ত্বেই বন্দী , যে বিত্ত অতিক্রমের কোন পথ খোলা নেই । আমাকে বন্দী থাকতে হয় , যার কোন মুক্তি নেই । হ্যাঁ সত্যই মুক্তি নেই । 

মায়ের প্রতি আমার কোন অনুভূতি কাজ করে না ::- মাঝে অদৃশ্য দেয়াল

১০ ই মে, ২০১৪ রাত ২:০৪
১১ মে বিশ্ব মা দিবস । আমি কি লিখবো মাকে নিয়ে ? উল্লেখ যোগ্য কিছুই নাই , শুধু জীবনের কিছু ইতিহাস ছাড়া। তার প্রলাপই না হয় ব্লগ এ কিছুই গাইলাম 
সময়টা ১৯৯৮ বাবা কিছুটা মানসিক ভারসম্মহীন অবস্থায় নিখোঁজ হলেন । অনেক খোঁজাখুঁজি করে পাওয়া গেল না । ১৯৯৯ সালে নিজেই ফিরে আসলেন পরে জানতে পেরেছিলাম তিনি রাঙামাটি ছিলেন অই একবছর । ফিরে আসার ২ মাস পরেই বাবা মারা যান । বেঁচে থাকলে বাবা কি নিয়ে আরেকদিন লিখবো ।বাবা এহেন অবস্থায় তেমন কোন অর্থ সম্পদ আমাদের জন্য রেখে যান নাই । তাই মা নানা বাড়ির লোকজনের পরামর্শে নানা বাড়ি চলে গেলেন । আমাকে রেখে গেলেন দাদির কাছে কারন তার সন্তানের সন্তান আমি অতএব আমার সকল দায়িত্ব দাদা বাড়ির সবার । আমি থেকে গেলাম দাদির কাছে এজমালি হিসাবে । মাঝে মাঝে নানা বাড়ি যেতাম আমি তখন ক্লাস ৫ এ পড়ি , মায়ের অভাবটা অনেক বেশী অনুভব করতাম । তখন ২ টাকা ভ্যান ভাড়া দিলে কমপক্ষে ৬ মেইল রাস্তা যাওয়া যেতো । দাদি বা কাকার কাছে থেকে কোন ভাবে ৫ টাকা নিতে পারলেই কাউকে কিছু না বলে চলে যেতাম নানা বাড়ি মা অনেক আদর করতেন , মায়ের পায়ের অপরে মাথা রেখে অনেক ঘুমিয়েছি ।ইচ্ছা হত আর মায়ের কাছ থেকে ফিরব না কিন্তু নিয়তি সরবচ্চ ১ দিন কি ২ দিন তার পরে আবার ফিরে আস্তে হতো রাস্তায় আসার সময় অনেক দিন কেঁদেছি রাস্তার মানুষ দেখবে বলে গারিতে না উঠে বিল দিয়ে হেটে, রাস্তার পাশ দিয়ে মাথা নিচু করে হেঁটে আসতাম অনেক মাইল । সময়টা ২০০০ সাল আমার বড় বোন ছোট বেলা থেকেই নানা বারীতে থাকতো , একদিন গেলাম দুপুর বেলা বড় বোন বলল ভাই রে একটু একটু গোপনে শুনলাম নানারা চায় মা কে আবার বিয়ে দিতে, তুই আর আমি তো কিছু করতে পারব না । আমি অই দিন থাকলাম রাআতে বড় আপুর কাছে কাছে গুমালাম, যেন কিছু কথা বলতে পারি বড় আপুকে বললাম তুই মাকে মানা কর , আমরা সবাই আমার একসাথে থাকি লেখা পড়ার দরকার নাই আমার আমি কাজ করব চল আমরা সবাই নানা বাড়ি থেকে চলে যাই ।তাকে বুঝাতে চেয়েছি বাবা নাই আমরা তাহলে কার কাছে যাবো । বোন বলল মনে হয় সুনবে না । রাতে ঘুমালাম সকাল হল আমি চলে আসলাম । তার পরে আর অনেক দিন আর যাওয়া হয় নি । সম্ভবত ২ মাশ পরে গেলাম । আমি নানা বাড়ি গিয়ে দেখি মা অন্য কার বাসায় যেন গেছেন রাস্তার পাশেই আমি অপেক্ষা করতে থাকলাম । এর মাঝে বড় বোন বলল মা বিয়ে করছেন ভাই আমাদের আর কেউ থাকলো না । অন্যান্য বার গেলে মা অনেক আদর করেন কি খেয়েছি ?কখন বের হয়েছি ? দাদি কেমন আছেন ? হাজার প্রশ্ন । কিন্তু আমি অবাক হলাম মা আজ কোন প্রশ্ন করলেন না । তিনি যখন আসলেন সাথে আমার দুজন খালা ছিলেন , কি যেন বিষয়ে খুব আগ্রহ নিয়ে কথা বলতে ছিলেন । আমি সামনে দাঁড়ালাম ছোট খালা বললেন কি অ্যাঁয় বাড়িতে আয় । মা শুধু একটা প্রশ্ন করলেন কখন এসেচি ? উত্তর দিলাম একটু আগে এটুকুই সাক্ষাতে কথা । আমি থাকলাম আর কেমন জানি অপরাধ বোধ কাজ করতেছিল , মনে হচ্ছিলো এই প্রথিবিতে আমি একা । আমার বলে আর কেউ নেই । একা একা ঘুরতে থাকলাম । সন্ধ্যা হল অই দিন থাকলাম কার সাথে তেমন কথা বললাম না , একটা বিষয় ভাবছিলাম মা এটা কেন করল ? আমাদের কথা একবার ভাব্লনা না? পরের দিন সকালে ভরে কাউকে কিছু না বলে চলে আসলাম । তার পরে ৬ মাসের মত সময় হবে আমি আর যাই নি ।এর মাঝে মা অনেক বার খবর দিছেন জেজে মন চায় নি । ২০০১ বড় বোনের বিয়ে হল অই দিন গেলাম । তার পরে ২০০২ সাল পর্যন্ত আর যাওয়া হয়নি । শেষে ২০০২ সালের ডিসেম্বর মাসে মা আমাকে দেখতে আসলেন দাদি বাড়ি । দেখা হল কিন্তু আমি যে মা কে খুঁজছিলাম ? যার জন্য স্কুল ফাকিদিয়ে ৮ মাইল রাস্তা হেঁটে দেখা করতে যেতাম তাকে আজকের মায়ের মাঝে খুঁজে পেলাম না । মায়ের অভাব অনুভব করতে লাগলাম । আমি মাকে দেখছিলাম তিনি আমার সামনে কাঁদছেন , আমি ও কাঁদছি কিন্তু আমার মনে হচ্ছিলো আমার মা নেই , ভেতর থেকে আন্তরিকটা কাজ করছেনা আমার খুব ভাল ভাবে বুঝিলাম , আবার মায়ের অভাব বোধ ও করছিলাম । এদিকে দাদি কাছে থাকা অবস্থায় আমার চাচারা অনেক আদর করতেন ,দাদির কাছে থাকা অবস্থায় মায়ের কথা আর বেশী মনে হয়নি , দাদি আমার সব অভাব পুরন করতেন যে খানে যেতেন সাথে নিয়ে যেতেন । সব চাচারা আলাদা ছিলেন শুধু ছোট চাচা ছাড়া । 
২০০৩ সালে ছোট চাচা একটা চাকরি নিয়ে নাটোর আসলেন । আমাদের নতুন সংসার হল ছোট চাচা আমি আর দাদি । চাচা ২০০৩ সালের প্রথম দিকে বিয়ে করলেন সদস্য বাড়ল ১ জন । আমি ছোট চাচার সাথে গ্রাম থেকে নাটোর চলে আসলাম নতুন স্কুল এ ভর্তি হলাম । দাদি গ্রাম থেকে একবারে আস্তে চাইলেন না, মাঝে মাঝে আসতেন । আমি , চাচি আর চাচা শুরু হল আমার জিবনের নতুন অধ্যায় । চাচি আপন করে নিলেন ভালবাসলেন নিজের সন্তানের মত । আমার কোন অভাব থাকলো না । শহরের জীবন মিশে গেলাম সবার সাথে , নতুন নতুন কাপর, বই্‌ , ব্যাগ বন্ধু পেলাম নতুন স্কুল । এর মাঝে মা তেমন একটা যোগাযোগ করেন নি । হয়ত ভেবেছেন ভালই আছি । নাটোরে আসার পরে আমাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি , চাচা আমার সব অভাব পুরন করেছেন । মোবাইল, মোটরসাইকেল, দামি কাপড়, সপ্তাহে সময় করে ঘুরতে যাওয়া । সময় পেলেই সাথে নিয়ে যেতেন আমি তার সাথে বাংলাদেশের ২৩ টা জেলা ঘুরেছি । প্রায় দিন আমরা ঘুরতে যেতাম । এভাবে ৩ বছর কেটে গেল এস এস সি পাস করলাম ২০০৬ সালে । মায়ের সাথে দেখা হতো কম । চাচা চাচি প্রায় বলতেন কি তোর মায়ের সাথে দেখা করে আয় , আমি জানি না কেন যেন মন চাই তো না। আমি না বললে চাচা চাচি বলতেন চল আমরা সবাই গিয়া দেখা করে আসি । এভাবেই চলতে থাকল এর মাঝে কয়েক বার গেছিলাম কিন্তু মা সামনে দারিয়ে থাকা অবস্থায়ও আমার মনে হতো কথায় আমার মা আমি মা কে চাই । এখন ২০১৪ সাল এর মাঝে মায়ের সাথে অনেক বার দেখা হয়েছে কথা হয়েছে , আমি মাঝে মাঝে মিথ্যা উচিলায় মায়ের কাছে যাই , অমুক জাগায় গেছিলাম তো ভাব্লাম একটু দেখা করে যাই এমন করে দেখা করি কিন্তু আমি মাকে খুঁজে পাই না , কেন জানি অনুভূতি কাজ করে না । যদিও এত গুলা বছর মায়ের কাছে যেতে মাকে কেউ বাঁধা দেয়নি , আমি আজ আমার জন্মদাতা মায়ের ভালবাসার বাপারে অনুভূতি শূন্য । তার কান্না আমার ভেতরে নাড়া দেয় না । তিনি যদি আমার সামনে কাদেন আমার কস্ত হয় আমি ও কাদি কিন্তু মায়ের যে কান্না বা মায়ের জন্য কান্না এটা আমার আসে না । মায়ের কাছে থেকে আলাদা থাকলাম ১৬ বছর । আজ ও আমার চাচাচি সেই আগের মতই ভালবাসেন , অনেক বিরক্ত করি ,কষ্ট দেই । এর মাঝে চাচার ৩ টা সন্তান হইছে । কিন্তু আমার জায়গাটা সেই আগের জায়গাতেই আছে , তাদের কাছে আমার জন্য ভালোবাসা সামান্নতম কমে নি । ১১ বছর চাচির সাথে আছি , আমি মায়ের সকল ছায়া চাচির মাঝে দেখি , তার মন খারাপে আমার কষ্ট হয় । কিন্তু আমার চাচি কনদিন আমাকে মায়ের কাছে যেতে বাঁধাদেননি । অথচ আমি জা আমার মায়ের জন্য অনুভব করি না টা আজ চাচির জন্য করি । আমি অনেক চেসা করেছি , নিজে কে নিজে বুঝাতে চেষ্টা করি তিনি আমার মা আমাকে জন্ম দিছেন । কিন্তু আমি প্রতি বাড়ি বেরথ হই ।
মায়ের কলে মাথা রেখে আমার সুখ দুঃখের গল্প ফুলি শুনাতে ইচ্ছা হয় । বলতে ইচ্ছা হয় মা আমার এটা ভাল লাগে ওইটা ভাল লাগে না। আমি তোমার কাছে থাকতে চাই । কিন্তু কি যেন এক দেয়াল আমি অনুভব করি । মাঝে মাঝে মা মা মা বলে চীৎকার দিতে ইচ্ছা হয় । মনে হয় প্রান খুলে মা কে ডাকি।এই ডাকতে না পারার কষ্ট টা আমার আমরণ থেকেই যাবে। মায়ের প্রতি আমার কোন অভিযোগ নেই কারন, তার যে আর্থিক নিরাপত্তা দরকার ছিল টা দেবার সামর্থ্য আমার অই সময় ছিল না তাই মাকে আমি ২য় বার বিয়ের জন্য কখনই দোষ দেই না । মাঝে মাঝে ফোন দেই মা ও দেন । অসুথ হলে দেখতে যাই । মা শারীরিক ভাবে অনেক অসুস্থ যত টুকু পারি কিছু দিতে চেষ্টা করি । কিছু দিন আগে একটা মোবাইল কিনে দিলাম যেন সব সময় যোগাযোগ রাখতে পারি । আপনার সবাই আমার মায়ের জন্য দোআ করবেন ।আমি চাই তিনি যেন ভাল থাকেন । আল্লাহ্‌ তাকে সুস্থতা দান করুন আমিন । 

কর্ম খোঁজা নয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন

আপনার যে পরিমান সামর্থ্য আছে তাই নিয়েই হয়ে যান একজন উদ্যোক্তা , কর্ম খোঁজা নয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন : যেকোনো কাজে উদ্যোগ নেওয়া ও উদ্যোক্তা হওয়ার মাঝে অনেক কিছুই অর্জন করার আছে , এখানে আপনি শিখবেন মানুষ আপনাকে কত ভাবে ঠকাতে পারে ! আপনি শিখবেন আপনার অধিনস্তরা কীভাবে আপনাকে ফাকি দিচ্চে।
প্রতিনিয়ত আপনাকে টিকে থাকার জন্য নতুন নতুন পলিছি গ্রহন করতে হবে এবং সে অনুসারে সামনে এগিয়ে জেতে হবে । আপনার সামনে মাঝে মাঝে অপার সম্ভাবনা আবার অনেক হতাশা দেখা দিবে আপনাকে তা বুদ্ধি ও বাস্তবটার নিরিখে বিচার করে সিধান্ত নিতে হবে ।
একটি কর্ম ক্ষেত্র তৈরি করতে পারাতে অনেক আত্মতুষ্টি ও আনন্দ আছে তা যে পরিসরেই হোক না কেন ? আপনি হয়ত প্রথমে অনেক বড় কিছু করতে না পারলেন সেটা ছোট হলে হলে আপনাকে যে অভিজ্ঞতা দিবে তা পরবর্তীতে অনেক কাজে লাগবে।
আপনার কাজের স্বাধীনতা থাকবে এখানে সাথে ইচ্ছার ও । আপনি এইখানে নেতৃত্ব দিবেন যা আপনার অনেক গুলি গুণের মাঝে ঠাই করে নিবে । আমি মনে করি আপনি যে অবস্থায় যেখানেই থাকেন না কেন আপনার ও উচিত একজন উদ্যোক্তা হওয়া ।
এক্ষেত্রে আপনার মূলধন থাকলে ভাল কথা না থাকলেও হতাশার কিছু নেই আপনার পাশে দাঁড়ানোর  জন্য অনেকেই আছেন সেক্ষেত্রে আপনার কর্ম , আপনার উদ্দেশ্য , আপনার বাক্তিত্ত সব কিছুরই স্বচ্ছতা ও গ্রহন যোগ্যতা থাকতে হবে । উদ্দেশ্য হতে হবে সৎ এসকল বিষয় গুলি আপনার মাঝে থাকলে কোন প্রতিবন্ধকতাই আপনাকে রোধ করতে পারবেনা।
আজ এ পর্যন্তই ভাল থাকবেন সবাই । আল্লাহ্‌ হাফেয

মেয়ে তুমি প্রস্তুত তো ! বৈরি পরিবেশে পথ অতিক্রমে ?


ঈদের দিনের কিছু ঘটনা মেয়ে সম্পৃক্ত সব গুলিই কিন্তু অস্বাভাবিক, আপনি  বর্তমান উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েদের মন মানসিকতা বিচার করতে পারবেন এই ঘটনার প্রেক্ষিতে । এমন ও হতে পারে আমার চেয়ে আপনার অভিজ্ঞটা বেশী ।
ঘটনা- ১ ঃ দুপুরে অটো গাড়িতে যাচ্ছিলাম ছেলে গুলোর বয়স ১২-১৭ হবে , রাস্তার পাশে বা পাশে অতিক্রম কারি কোন মোটর সাইকেল, অটো বা ভেনে কোন মেয়ে পার হতে লাগলে কাছে আশা মাত্র এমন কিছু সব্দ করতে ছিল বা আওয়াজ দিচ্ছিল যা পাসে থেকে সহ্য করাটা দুর্বহ ।
ঘটনা ২ঃ বিল হালতি রাস্ত্রার অপরে মোটামুটি ভালই পানি, সবাই একটু বিনোদনের আশায় হাটছিলেন , মাঝে মাঝে দু একটা মেয়ে ছাড়া সবই ছেলে , মেয়েরা যখন তাদের পাশ দিয়ে যায় তখন তাঁরা জোরে হাঁটে যেন মেয়েটি ভিজে যায়, বাঁকা করে ক্যামেরা ধরে ছবি তোলে । আর অনেক কিছু ।
ঘটনা ৩ ঃ আমরা ফেরার সময় ব্রিজের ওপর আমাদের গাড়িতে একটি মেয়ে উঠে । মেয়েটির সাথে এর কেউ ছিল না । রাস্তায় আসার সময় কয়েক বার জ্যাম এ আটকা পড়ি । ঐ সময় পাশের গাড়িতে থাকা পলাপাইন মেয়েটিকে নিয়ে যেসব আপত্তিকর মন্তব্য করতেছিল , কোন সুস্থ সমাজের মানুষ তা করে না
ঘটনা ৪ঃ আপন কফি হাউস রাত ৯ টা ২ টা মেয়ে বয়স ১৪-১৫ এর বেশী হবে না । কফি হাউজ এ আসছে সাথে কোন ছেলে মানুষ নাই । জেলা শহরের জন্য রাত ৯ টা অনেক কিছু । এদের সাহস তারিফের দাবিদার । এই খানে ভাববেন যে কিছু হয়নাই ।
ঘটনা ৫ ঃ সাহারা প্লাজা , লিফট এ উঠার সিরিয়াল এ ঠেলাঠেলি মেয়ে বা মহিলারা যে লাইন এ পলাপাইন সেই লাইনে । কোন সুন্দর মেয়ে যদি আসছে তাইলে এদের চাপে মেয়ের অভিভাবকরাও পাশে থাকার সুযোগ পায় না ।
আমি এখানে যা লিখলাম এরচেয়ে অনেক বেশী খারাপ কিছু হচ্ছে , যা লিখা সম্ভব হচ্ছে না । এই যে কিছু ঘটনা , বা এই ধরনের ছেলেরা যা করছে অনেক সময় দেখা যায় তাদের চেয়ে ঢের বেশী বয়সী মেয়েদের সাথেও এই আচরণ । এদের দৃষ্টি তে মেয়ে বা মহিলা না তাঁরা “…” ।
কথা হচ্ছে এরা আসলে কি চায় ? এসবের মানে কি ?। আজ থেকে ৫ বছর আগেও এমন খারাপ অবস্থা ছিল না, আজকের অবস্থা বিবেচনায় আগামী ৫ বছর পরে আমার আপনার অধিনস্ত বা কন্যারা রাস্তায়, ওয়ার্কপ্লেচে কতটা নিরাপদ থাকবে আমাদের অবর্তমানে?  বিষয়টা এখানেই বিবেচ্য ।
তবে পরিত্রাণের উপায় যে সহজ তা সকল কেউ স্বীকার করতে হবে । আমি যদি এইখানে সেসব কথা বলি তাহলে আমাকে সুচিল সমাজের কিছু আঁতেল এই ঈদের দিনেও গালি দিতে দ্বিধা করবে না । এত সব কিছুর মাঝেও সবাই ভাল থাক । কুলাঙ্গার নিপাত যাক। আমার বোন নিরাপত্তা পাক ।  প্রত্যাশা এতুকুই ।

পোস্টটি  রোজার ঈদের দিন অনেক আক্ষেপ নিয়ে  লিখেছিলাম, ফেচবুক নোট এ সেভ করা ছিল  ।  আজকে এতক্ষণ কাজ করলাম বের হবার পরে ঘুরে এসে জানাব আজ কি দেখালাম আশা করি গত ঈদের দিনের মত কিছু দেখব না)

প্রেমিক রিকু

১৯ শে এপ্রিল ১০১২,                        

 প্রেম তুমি একবার এসেছিলে নীরবে........ এই গানের কথা ধরে সামনে এগুতে চাই ,  প্রেম কম বেশী সবার জীবনেই আসছে রিকু ও এই প্রেম নামের ভাইরাস থেকে নিজেকে শেষ রক্ষা করতে পারেনি , রিকু ও প্রেম করেছে । প্রেম নামের ধারণা আসে ক্লাস নাইনে পড়ার সময়। তখন রিকুর একটি  মেয়ে কে  ভালো লেগেছিল ,কিন্তু কিছু বলার মত সাহস তার ছিল না । মানুষ যে আচার –আচরণে এর মাধমে পূর্ণ বিকাশ ঘটে রিকুর জিবনে কিন্তু তার অনেক অভাব ছিল। রিকুর মাঝে সর্বদা একটা ভয় বিদ্যমান ছিল ভয় টা কিসের টা বলে রাখা দরকার , রিকুর জীবন টা ছিল আশ্রিত  যদিও সে ওই জিবনে অনেক কিছুই পেয়েছিল ছিলনা কোন অভাব, অনেক ভালো ছিল সে । কিন্তু রিকুর মাঝে যে  অভাব ছিল তাহলো  ভালবাসার । রিকুর এই অভাবতাই ছিল অতিমাত্রায় কেননা সে ছোট বেলা থেকেই টা থেকে বঞ্ছিত । এটা কে সে দুর্ভাগ্য বলেই মেনে নিয়েছে । রিকুর বন্ধুরা যখন প্রেম করত রিকু দেখত ও ভাবত কিভাবে প্রেম করা যায় , এই নিয়ে বন্ধুরা তাকে উপহাস ও করত , এভাবেই রিকুর মনে প্রেম করার দৃঢ় ইচ্ছা ও বাসনা বাসা বাধতে থাকে। রিকুর প্রেম চূড়ান্ত পর্যায় আসে তার কলেজ লাইফে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে, এখানে এসে নতুন বন্ধু জোটে যারা সবাই প্রেম করে ৪ জনের গ্রুপ ভালই চলছিলো তাদের প্রেম,  কিন্তু মেয়ে  ছিল ৫ বান্ধবী , রিকু ওই দলে যোগ  দিলে সমান সমান হয় । রিকু ও বন্ধুরা প্রতিদিন বিকালে প্রাইভেট পড়া বাদ দিয়ে একসাথে আড্ডা দিত এর মূল কারন ছিল প্রেমিকা দের সাথে ফোনে প্রেমালাপ , রিকু ওদের সাথে বসে থাকে আর সবাই প্রেমিকাদের সাথে কথা বলে । রিকুর ও ফোন আছে কিন্তু তাতে কল আসে না , এ ভাবেই চলল কিছু দিন এক সময় রিকু বন্ধুদের বলল দোস্তরা আমার জন্য কিছু কর এ ভাবে আর চলে না, ছাত্র জীবনের অনেক গুলা দিন তো শেষ হয়ে গেল একটা প্রেম করতে পারলামনা। এক বন্ধু বলল কাল কলেজ আসিস একটা মেয়ে দেখাব যদি তোর ভালো লাগে তাহলে বাকি কাজ আমার তোর প্রেম আমি সফল করে দিব যে ভাবেই হোক কিন্তু সিধান্ত পরিবর্তন করবি না যেন , তাহলে তোর কপালে খারাবি আছে। রিকু এই প্রস্তাব পেয়ে তো মহা খুশি যাক প্রেম এর স্বাদ এইবার মিটতে পারে ।

পরের দিন রিকু কলেজে গেলো বন্ধুরা সবাই দ্বিতীয় তলার বারান্দায় দাড়িয়ে আছে রিকু ও দাঁড়াল এমন সময় এক বন্ধু নিচে একটি মেয়েকে দেখিয়ে বলল ওই যে দেক কয়েক টা মেয়ে দাড়িয়ে আছে রাস্তার পাশে ওরা সবাই তোকে  চিনে , মেয়ে গুলোর  মাঝে হাল্কা করে বাম পাশে যে মেয়ে টা দাড়িয়ে আছে ওইটা  আমরা সবাই তোর জন্য ঠিক করেছি ,কেমন লাগে বল ? মেয়েটা কিন্তু ক্লাস এইট এ পড়ে , রিকু দেখল ভালই তো তাছাড়া প্রেম করা দিয়ে কথা । রিকু দূর থেকে দেখল , ভালোভাবে দেখার আগেই মেয়েরা চলে গেলো  রিকু ক্লাস এ আসল বন্ধুরা বার বার রিকুর মতামত জানতে চাচ্ছে । আর হাঁ মেয়ে টার নাম কিন্তু ছিল মুন্নি । মুন্নি দেখতে ছিল হাল্কা গড়ন চেহারা , মুখটা ছিল অনেক মায়াবী প্রথম দেখায় ভালো লাগার মত একটা মেয়ে , সে ছিল অনেক লাজুক । স্টুডেন্ট হিসাবে সে ছিল  প্রথম সারির এটা আমরা পরে জানতে পেরেছিলাম  ।
বন্ধুরা রিকুর অপর খুব রেগে গেলো প্রেম করবিনা তো এত কিছু কেন করালি? সবাই মার মার অবস্থা ,রিকু আস্তে করে বলল দোস্ত আমি রাজী কিন্তু বাড়ির সবাই যদি জেনে যায় তাহলে কি হবে ? বন্ধুরা রিকু কে সাহস দিল ধুর এটা কোন সমস্যাই না, তুই ভয় পাইস না আমরা তো আছি , তাহলে বিকালে আসবি আমরা  প্রতিদিন  যেখানে বসি । রিকু বাসায় আসল মনের অবস্থা আজ বেশী ভালো না খুব ভয় লাগছে কিজানি কি হয় ? বন্ধুদের কি বলেই দেবে যে আমি প্রেম করবনা ? নাকি না কিছুই বলবে না। ভাবতে ভাবতে বিকাল,  চলে আসল আড্ডার জাগায় বিকাল ৪ টার মাঝে কফি হাউজের পিছনে আড্ডা বসল আজ একটাই ইস্যু রিকুর  প্রেম । ফোনে কথা বলছে ওরা এমন  সময় রিকুকে এক বন্ধু ডাকল রিকু মুন্নি আজ সুমিদের বাসায় প্রাইভেট পড়তে আসছে আমি এতক্ষণ সুমির সাথে কথা বলছি মুন্নিকে সুমি রাজী রাজিকরাইছে তুই এখন আমার ফোন দিয়ে মুন্নির সাথে কথা বল ।(আপনারা হয়তো ভাবছেন আমি এত কথা কিভাবে জানলাম বলে রাখা দরকার আমি এই সব কিছুর প্রত্যক্ষদর্শী ) রিকু ফোন নিল এর আগেও রিকু ফোনে অনেকর সাথে কথা বলছে কিন্তু এমনটা কখন হয়নি, রিকু কথা বলতে পারছেনা , কি বলবে ভেবেও পাচ্চে না এই দিকে বন্ধুরা রিকুকে একরকম মারা সুরু করল্‌  কিরে মুন্নি ফোন  ধরে আছে কথা বলিস না কেন? এক বন্ধু রিকুর ঘাড়ে উঠে বসল তুই কিছু একটা বল এই সুযোগ আর আসবেনা যদি কিছু না বলিস তাহলে তোর সাথে আর সম্পর্ক নাই , পাশে একটা বড়ো পুকুর ছিল তাতে ফেলে, ডুবানোর হুমকি ও দিচ্ছিল বন্ধুরা ।
রিকু ভাবল যা হয় হোক কথাতো  বলি রিকু সালাম দিলো “আশশালামূয়ালয়কূম ডার্লিং কেমন আছো”  রিকু এর আগে কখনো ঐ মেয়ের সাথে কথা বলে  নাই  ,কিন্তু হটাত করে  রিকু  এমন কথা বলে দিবে এটা রিকুর বন্ধুরা কখনো ভাবেনি  সাথে  সাথে হাসির রোল পড়ে গেলো । তাহলে ঐ পাশে  মুন্নির অবস্থা কী?  ফোন তখন সুমির কাছে । পরে জানা গেছিল যে মুন্নি , সুমির ফোন টা ফেলে দিয়েছিলো ।

এইবার অপেক্ষা মুন্নি কী বলে ? পরের দিন জানা গেল মুন্নি রাজী না ,সবাই হতাশ এটা কী হল ?
সবাই রিকুকে দোষ দিলো তোর কপাল খারাপ ,চিন্তা করিস না একটা উপায় আছে আমরা সবাই আমাদের ওদের সাথে জোগড়া করে আর কথা বলবো না , দেখবি ওরাই মুন্নিকে রাজী করাবে । এর পরে পনেরো দিন গেল ষোলো দিনের দিন উত্তর আসলো মুন্নি রাজী । শুরু হল নতুন অধ্যায় প্রেম নামের গাড়ীতে আজ রিকু যাত্রী । অনুভূতি টা আর কী বলবো আপনারা যারা প্রেম করেছেন তাঁরা তো জানেন তাই আর  ঐদিকে গেলাম না । কথা হয় প্রতিদিন ফোনে আর দেখা হয় রাস্তায় কিন্তু কথা হয়না যেহেতু তাঁরা দুজনেই ভয় করে যদি  কেঊ জেনে যায় । তাই তাদের কথা খূব কম  হয়। এভাবেই চলল দুই বছর এর মাঝে সবাই ডেটিং করেছে কিন্তু রিকু একবার ও যায়নি কারণ টা ছিল । বেশী বাড়াবাড়ি করলে সবাই জেনে যাবে তাতে দুজনের এ সমস্যা , যেহেতু এটা রিকু প্রথম প্রেম তাই রিকু এই সম্পর্ক টাকে অনেক সম্মান করে । এটা নীয়ে মুন্নি কী ভেবে ছিল আমরা আজও জানতে পারি  নাই। রিকু ও মুন্নির  এই যোজন যোজন দূর প্রেম চলে ছিল দুই বছর । ইন্টার পাশের পরে রিকুদের দল টা ভেঙ্গে যায় সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে ,আর এতে তাদের প্রেমর সম্পর্ক ভেঙে যেতে থাকে সবাই যখন দিক –বিদিক ছড়িয়ে যায় রিকু ও গিয়ে ছিল কিন্তু রিকু আবার আগের জাগায় ফিরে আসে কিছু দিন পরে , এর পিছনে কিছু কারন ও ছিল ,তার মাঝে মুন্নির প্রতি টান । রিকু ফিরে এসেই অনেক ভাবে মুন্নির সাথে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করে ,মাঝে কয়েক বের রিকু সফল ও হয়েছিল তার সাথে কথা বলতে , কিন্তু এই আন্তরিকতা আর খুজে পায়নি রিকু, তবু ও রিকু চেষ্টা করেই চলেছে কারন রিকু মুন্নিকে ভালবাসে । মুন্নির প্রতি রিকুর ভালোবাসা অগাধ না থাকলেও ভালবাসা যে   ছিল এটা আমি ভালোভাবেই উপলব্দি করেছিলাম গভীর ভাবে কারণটা ও সাধারণ আমি তাকে অনেক কাছ থেকে দেখেছি , দেখেছি তার আবেগ , না পাওয়ার বেদনা ।
কাজী নজরুল ইসলাম এর ভাষায় বলতে গেলে—
                                                “ কেন দিলি এ কাঁটা
                                                          যদি  গো না কুসুম দিলে
                                                 ফুতিত না কি কমল
                                                          ও কাঁটা না বিধিলে ।।
                                                কেন এ আঁখি -কূলে
                                                          বিধুর অশ্রু দুলে,
                                                 কেন দিলে এ হৃদি
                                                          যদি না হৃদয় মিলে।।“
 এভাবেই মূলত দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল । রিকু আগের দিনগুলির মত মুন্নিকে বার বার চেয়েও যখন আর পাচ্ছিল না তাই ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছে । গত দুই বছর  রিকুর কোন যোগাযোগ নাই মুন্নির সাথে, রিকু তার মনে আর কোন মেয়েকে জায়গা দিতে পারেনি, প্রেম রাজ্যে প্রবেশ পথে রিকু মুন্নির কাছে যা পেয়েছিল টা পুঁজি করেই রিকু এখন সামনে পথ চলতে চায় । একই শহরের বাসিন্দা তারা তাই  মাঝে মাঝে রাস্তায় রিকু ও মুন্নির দেখা হয় কিন্তু কথা হয়না । দুজন এক পলক তাকিয়েই নিজের গন্তব্যের পথে পা বাড়ায় । যে সময় রাস্তার পাশে গেলে মুন্নির সাথে দেখা হবে ,রিকু ঐ পথে  তার কাজের সময়টা একই সময় করে নিয়েছে তাই মাঝে মাঝেই দেখা হয় তাদের , রিকু আর ও ঠিক করেছে সে আর কোন দিন কোন মেয়ের সাথে প্রেম করবেনা যত  দিন পারে এ এভাবেই থাকবে আর  মুন্নিকে ভালবেসে যাবে । রিকুর এতেই সুখ মুন্নি ভালবাসেনি তাতে কি  ! রিকু  তো ভালবেসেছে  ।
রিকুর আকাঙ্ক্ষা হয়তো সুকান্ত ভট্টাচার্য এর মতই ছিল । যিনি কোন একজন কে না দেখা ও পাওয়ার বেদনায় লিখেছিলেন –
                                     “এখনো আমার মনে তোমার উজ্জ্বল উপস্থিতি ,
                                      প্রত্যেক নিভৃত ক্ষণে মত্তটা ছড়ায় যথারীতি,
                                      এখনও তোমার গানে সহসা উজ্জ্বল হয়ে উঠি ,
                                     নির্ভয়ে উপেক্ষা করি জঠরের নিঃশব্দ ভ্রূকুটি”
তবে রিকুর এই ভালবাসা মুন্নির জন্য কতদিন বা কাল  থাকবে তা  আমার বলার সাধ্য নাই, এতটুকু বলতে পারি রিকু আজ ও মুন্নিকে আগের মতই ভালবাসে ।  আমি অনেক ভেবেছি মুন্নি এবং কিছু প্রশ্ন  নিয়ে আসলে মুন্নি কি ভেবে রিকুর সাথে এমন করলো ? মুন্নি কি রিকু কে তার বন্ধুদের মত ভেবে নিজেকে দূরে রাখতে চেয়েছিল? নাকি মুন্নি রিকু কে ভালবাসে নাই? আপনারা কি বলবেন?।



(আমি কোন পেশাদার লেখক না, যা লিখেছি একান্তই মনের টাণে আমি গল্প ,কাব্য এর ভাষা বা লিখার নিয়ম-কানুন জানিনা , এই ছোট গল্পটা আপনাদের ভালো লাগলে আমার সার্থকটা ,আশা করি আপনারা আমার এই লেখা গুলোর গঠন মূলক সমালোচনা করে ভুল গূলো ধড়িয়ে দিবেন আর সামনে আরও লিখবো কিনা তা আপনাদের ওপরেই নির্ভর করছে , ভালো থাকবেন সবাই ।                          -আব্দুল্লাহ  )

বিষয়টি এখানেই শেষ নয় : যেতে হবে অনেক পথ

আপনি রহিম, করি্‌ আবুল জব্বার আর তালুকদার , ছোট ,বড় , লম্বা খাটো যেই হন না কেন আপনার পরিচয় আপনি মানুস । আপনি জানেন সৃষ্টির সেরা জীব আপনি এই ধরার সবচেয়ে দামি সেও আপনি । কিন্তু ভুলে যাবেন না এর সাথে সাথে সবচেয়ে নিকৃষ্ট, অধঃপতিত, নির্যাতক্‌ লুটেরা আর অসন্মানিত আপনি বা আপনার আমার সমগোত্রীয় কেউ না কেউ । এ সব কিছুর কারন আমরা মানুষ । আমি এই বিষয়টির নিস্পত্তি করতে পারব না ।বিধায় আজ আমার বিষয় ভিন্ন । 

আমি একটি আরবি প্রবাদ দিয়ে শুরু করতে চাই অনেক আগে শুনেছিলাম “ কুল্লু সাইএন্ন ইয়ার জেউ ইলা আসলিহি” জার অর্থ প্রত্যেক বস্তু তার মূলের দিকে ফিরে যায় । “আসলিহি” শব্দটি মূলত আছল শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ মূল । এখানে শব্দটিকে রূপক অর্থে ব্যাবহার করা হয়েছে । 

আপনি একজন পুরুষ হয়তো শিশু, কিশোর ,যুবক, বৃদ্ধ অথবা একজন বাবা । আপনি আপনার জীবনের প্রত্যেকটি বিষয় কর্ম নিয়ে এক্তু বসে ভাবুন কি করছেন ? এতদিন কি করে এসেছেন ? কেন করছেন ? কার জন্য করছেন ? কি কিছু পেলেন ! একটু সময় নিয়ে ভেবে নিয়েন তাহলেই হবে । চলেন আরেকটু সামনে যাই- আমি আসলে মনে হয় সহজ কথা জটিল করে ফেলেছি , দুঃখিত জনাব । 

আপনি আপনার জীবনে যে কাজ গুলী করছেন , তা ভালো ছিল কি খারাপ ছিল তার হিসাব দরকার নেই । কথা হচ্ছে প্রত্যেক মানুষ তার কর্মফল ভোগ করে । আপনি যদি প্রকাশে বা গোপনে কোন নৈতিক বা অনৈতিক কিছু করে থাকেন, হতে পারে খুন, ধর্ষণ , চুরি ,ছিনতাই আমানতের খেয়ানতকারি অথবা গোপনে দান করেছেন, মানুসের উপকার করেছেন তাহলে এর একটা প্রভাব আপনার পরবর্তী আহল গনের মধ্যে থাকবে । আপনাকে অবশ্যই এই কথাটি বিশ্বাস করতে হবে । আপনি গোপনে চিগারেট খাণ , আপনার সন্তান ও খাবে । আপনার এই ভালো আর মন্দ অভ্যাস গুলির ৮০% আপনার সন্তানের উপরে যাবে । আপনি অসামাজিক কাজ করছেন কেউ দেখছে না ,জানছে না মনে রাখবেন আপনার সন্তান একদিন এই কাজ গুলোই আপনার অগোচরে করে ফেলবে । 

আপনি খুব মানবিক একজন মানুষ সর্বদা মানুষের ভালো ছিন্তা করেন , মানুষের মঙ্গলে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন, বিপদে আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ান , আপনার কাছে রাতের আধারে রাস্তায় চলা যুবতী মেয়টি নিরাপদ তাহলে আপনার যে অনাগত বা ঘরে যে সন্তানটি রয়েছে তার ভেতরেও ঠিক একই রকম মূল্যবোধের জন্ম হবে । যে আপনাকে করবে সম্মানিত । আপনি মাথা উচু করে বলতে পারবেন সে আমার সন্তান । ভাই অই যে অমুক , জানেন ছেলে টা কার ? আমার ভাই আমার । 

এইটা শুধু ছেলেদের ক্ষেত্রে না মায়েদের ক্ষেত্রও সমভাবে প্রযোজ্য । আপনি মা হিসাবে যে ধরণের চরিত্র , আচরণ ,জীবন স্বভাব আর বিশ্বাস নিয়ে পথ চলছেন ঠিক আপনার মেয়েতিও সে বিশ্বাস নিয়েই পথ চলবে । কারন আপ্নাকেই এখন ঠিক করতে হবে । কোন দিকে যাবেন আপনি ? 

ভাই সন্তান আপনার বা একদিন বাবা হবেন কথা একই , আপনাকে তার উজ্জল আগামী নিয়ে ভাবতে হবে না , আপনি নিজে ভালো হন সে ভালো হবে । আপনার ছেলে বা মেয়ে তাকে নিয়ে কখন বিব্রত কর অবস্থায় পড়তে হবে না । আপনি নৈতিক হন সেও হবে আর এই নতিকতা, মূল্যবোধ, সভ্যতা , আচরণ ঘর থেকে শুরু হয়ে থাকে এ জন্যই হয়তো বলা হয়ে থাকে মানুষের প্রথম ও আদরশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে তার পরিবার । আপানার নিজের ভেতর যদি এর চর্চা না থাকে ,তাহলে সে কি দেখে শিখবে ? আপনাকে কখনই ভাবতে হবে না যে আপনার ছেলেটি রাস্তায় দারিয়ে কাউকে উত্যক্ত করছে ।এই ছেলে বা মেয়ে কে যদি আপনি এমন সুশিক্ষা দিতে পারেন , তাহলে জেনে রাখুন আপনার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সে আপনার পাশে থাকবে । আপনার জন্য তার ভেতরে থাকবে অগাধ ভালোবাসা আর সম্মান ,একদিন সেই আপনার সামাজিক ও জীবনের ভালো থাকার নিরাপত্তার একমাত্র অবলম্বন হবে । এসব কিছুই নির্ভর করছে আপনার ওপর । সিদ্ধান্ত আপনার । 

অনেকেই আমার এসব কথার সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন । খুব স্বাভাবিক ভাবেই টা হতে পারে । আপনি ভালো আপনার ছেলে বা মেয়েটি ভালো হয়নি , সে অনেক খারাপ যা আপনি বাক্তি জীবনে ছিলেন না , তাহলে সে কেন হল ? ভাই অস্বাভাবিক বলে একটা কথা আছে । সমাজ, পরিবেশ, পরিস্থিতি বন্ধু বান্ধব এর একটা প্রভাব মানুষের ওপর সময় প্রকট প্রভাব ফেলে যার দরুন এই কাজ গুলী ঘটে থাকে । এরা খুব বেশি নয় । হাতে গোনা কয়েকজন । 

ভাই কিছুই শেষ হয়ে যায়নি , এখনো অনেক সময় আছে ,যার মাঝে আমরা আমাদের এই জীবনকে অর্থবহ করে তুলতে পারি । আমার আহ্বান যারা আজ বাবা বা মা হয়েছেন বা আগামীতে হবেন অথবা প্রক্রিয়াধীন আছেন। তারা এখনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন , কেমন করে সাজাবেন অনাগত আগামী ? 

ভাল থাকবেন সবাই 

সব ছাত্র ছাত্রীরাই একেক জন যোদ্ধা । অপেক্ষা মেধা বিকাশের

আমাদের প্রতিটি ছাত্র ছাত্রীরাই একেকজন যোদ্ধা যাদের অস্র হচ্ছে কলম আর বারুদ হচ্ছে বই । জীবনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ ক্ষেত্র হচ্ছে তাদের এই শিক্ষা জীবন । এই যুদ্ধে জয় লাভের বিকল্প কিছু নেই, যার জন্য প্রয়োজন অনেক পরিশ্রম । আমি একটি কথা সব সময় বলি , কেউ অগাধ মেধা নিয়ে জন্ম গ্রহন করেন না, মেধাবী হবার প্রবল আগ্রহ , ঐকান্তিক ইচ্ছা ও লেখা পড়াই পারে তোমাদের মেধাবী করতে । 

তোমরা যদি স্যার আইজ্যাক নিউটন বলেছিলেন আমার আবিষ্কারের কারন আমার প্রতিভা নয়, আমি বহু বছর যাবত কঠোর পরিশ্রম করেছি আর চিন্তা করেছিলাম যার ফলে অনেক তত্ত্ব আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছিলাম। 

আবার যদি বিখাত বিজ্ঞানী ও রসায়নবিদ ডালটনের দিকে আমরা তাকাই তাহলে দেখেতে পাই, তিনি বলেন আমি পরিশ্রম ছাড়া আর কিছুই করতে পারি না । আমার মেধা বলে কিছুই নাই । অথচ আমরা তিনি প্রতিভাবান হিসেবে আমাদের কাছে পরিচিত । 

আমি যদি আমার নিজের কথা বলি তাহলে ব্যাপারটা অনেক সহজ হয়ে যায়, আমি কখনই ছাত্র হিসেবে ভালো ছিলাম না , ছাত্র জিবনে আমার রোল নাম্বার ২৩ এর নিচে কখনই আসে নাই । জিবনে ওই একবারি ২৩ হয়েছিলো কিন্তু ছাত্র-ছাত্রী সব মিলিয়ে ২৬ জন ছিল। আমি এসএসসি টেস্ট পরীক্ষায় গণিত এ ৩৪ আর ইংলিশ এ ৩৬ পেয়েছিলাম ।যখন বুঝতে পারলাম সামনে যেতে হবে চেষ্টা শুরু করলাম । শেষ ইংলিশ এ অনার্স শেষ করে আর উচ্চতর ইংলিশ শেখার এর জন্য সাম্প্রতিক ভর্তি হয়েছি ।
আমি মনে করি একজন ছাত্র বা ছাত্রী যদি শুধু চেষ্টা করে তাহলে সে পারবে । এমন নযির অনেক আছে। সবার একটা কথা বিশ্বাস করা উচিত যে আমি পারবো । আমাকে পারতে হবে । আমার দ্বারা পারা সম্ভব । সর্বদা নিজের ওপরে বিশ্বাস রাখা । 

আমার মনে হয় পৃথিবীর সবার মেধা সমান । যে যতটুকু এর ব্যাবহার আর চর্চা করবে সে ততোটুকুই অর্জন করবে । তাই আমাদের উচিত নিজেরদের ভেতরে যে প্রতিভা আছে মেধা আছে তার সরবচ্চ ব্যাবহার নিশ্চিত করা । একটা তরবারি আমরা যদি ব্যাবহার না করি তাতে মরিচা ধরে যায় । ঠিক আমাদের মেধা, বুদ্ধিদীপ্ত চিন্তাভাবনার মতই । 

ছাত্রছাত্রীদের উচিত হবে না নিজেকে মূল্যহীন মনে করা । সবাই পারে আমি পারি না। আমি পারবো না এমন ধারনা থেকে বের হয়ে আশা । জং ধরা তরবারিতে সান দিলে যেমন টা আগের রুপ ফিরে পায় আমাদের মেধা ও তাই । 

আমাদের এই ছাত্রজীবনের সময়ের মূল্য অনেক যা তুমি এই সময়ে অর্জন করবে তাই ভবিষ্যতে ভোগ করবে । একবার ভুলে পড়ে গেলে যার ফলাফল ভোগ করতে হবে সারাজীবন । সামনে যাদের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা তাদের এখনই গুছিয়ে নিতে হবে , হারতে সময় কম । জীবনের একটা গতিপথ ঠিক করে সামনে যাবার প্রত্যয়ে কাজ করতে হবে । 

আমরা অনেকেই শপ্ন দেখি ডাক্তার হবো, ইঞ্জিনিয়ার হবো, শিক্ষক হবো ব্যাংকার হবো। কিন্তু টা অনেক সময় শপ্নের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে । আমরা ভাবি একটু আড্ডা দিব, প্রেম করবো,টিভি দেখব, খেলা ধুলা করবো । জীবনটাকে কি একটু উপভোগ করবো না ? এইতো ? কিন্তু একজন প্রকৃত স্বপ্নচারী কি টা ভাবে ?????????? অবশ্যই ভাবে না । সে পরিশ্রম করে টার শপ্ন পূরণে । এখন আমাদের এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কি করছি আর কি করা উচিত ? 

আমার আহ্বান তোমরা সব ছেড়ে বই হাতে নাও । যা তোমাকে আলোকিত পথ দেখাবে । তম্র জীবনকে করবে আলোকময় । জীবন গড়ার জন্য বই ছাড়া কোন বিকল্প পথ তোমার জন্য খোলা নেই । জীবনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে লেখা পড়াটা গ্রহন কর সে অনুপাতে কাজ কর । সফল তুমি হবেই । আমার অনুরধ তম্র বইয়ের সাথে অবনেক নিবির ভাবে সম্পৃক্ত হও । একটা পধতিগত দিক ঠিক ওরে নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে পড়া শুরু কর । ইনশাআল্লাহ্‌ পরিশ্রমের ফল তুমি পাবে । সবার জন্য শুভ কামনা ।

রচনায়
মোঃ আলম গীর হোসেন আবদুল্লাহ
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক
ক্রিয়েটিভ এডুকেশন , নাটোর 

তোমাকে একটি গল্প শোনাবো

অনেক দিন থেকে ভাবছিলাম তোমাকে একটি গল্প শোনাবো । কি করবো বল সময় সুযোগ বলে একটা কথা আছে না, এই বিষয় টা আমার সাথে কেন জানি বৈরীভাব করে।

জানো সে দিন সব কিছু ঠিক ছিল ঠিক ছিল সময়ের ও,কিন্ত বলা হয়নি।আমি বিশ্বাস করি তুমি আমাকে দোষ দিবে না । কেন দিবে না ! আজ তোমাকে তা বলি। কি সময় আছে তো? না থাকলে ও আমার কোন সমস্যা নেই, আমি খুব কম কথায় তোমাকে পরিস্কার বোঝাতে পারবো আশাবাদী । যাক সে কথা, আমি যখন শুরু করতে চাইলাম ঠিক সে সময় একটু দুরে শব্দ হলো । তুমি তো জানো অজানা অদেখা কোন কিছুর প্রতি আমাদের সব সময় একটা কৌতুহল কাজ করে। যা আমাদের স্বভাবজাত অভ্যাস,এখানে নিজেকে আমি নিবৃত করতে পারিনি। আমি জানি তুমি তা স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছ। তোমার আগ্রহে অনেকটা উজ্জিবিত আজ, আসলে কি জানো কোন কিছুতে আগ্রহ না থাকলে তাতে পরিতৃপ্ত হওয়া যায় না । তুমি এর এতটা আন্জাম দিবে তা ছিল আমার কল্পনাতীত।

যাপিত জীবন ও একটি উপলব্দি

রাতে ঘুম ভাঙলে রিফাত মাঝে মাঝেই মোবাইল সময় দেখে , এটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে । কিন্তু আজ হটাৎ মাঝ রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেল । সময় দেখতে মোবাইলে চাপ দিতেই দেখে ৭ টি মিসডকল । এত বার কে ফোন দিল? কেন দিলো? রিফাত ভাবতে থাকল এখন রাত ৩ টা, কে হতে পারে ? কার কোন সমস্যা ? ব্যাক দেয়া উচিত কিনা ভাবছে। শেষে চিন্তা করলো ফোনটা দিয়েই দেখি । প্রথমবার ফোন দিলে রিচিভ হল না, একবার ভাবল থাক সকালে দেখা যাবে। রিফাত ঘুমাতে চেষ্টা করল কিন্তু আর যে চোখে ঘুম নেই কে ? কেন ? এতবার ফোন দিল তাও এই মাঝ রাতে। রিফাত এবার আর ভাবল না ফোন তুলে আবার ফোন দিল । এবার শীঘ্রই রিচিভ হল । কিন্তু আওয়াজ আসছে না । রিফাত হ্যালো হ্যালো বলতেই থাকল কিছু সময় পরে ওপাশ থেকে একটা প্রশ্ন আসলো কেমন আছ? 

এক প্রশ্নেই রিফাতের শরীর হিম হয়ে গেল । এই স্বাভাবিক একটা প্রশ্নে রিফাত কেন থেমে গেল ? কে সে ? 

আমি ভালো আছি, রিফাত উত্তর করল । তুমি কেমন আছো ? কোন উত্তর না দিয়ে নতুন প্রশ্ন তোমার বারান্দার পাখি গুলি কি এখন ও আছে? তোমার টিয়া পাখি টা কি এখনও আমার নামটা বলতে পারে নাকি ভুলেই গেছে ? তোমার আলনায় কি এখনো কাপড় এলোমেলো থাকে ? তুমি কি এখনো মানিব্যাগ নিতে ভুলে যাও ? আচ্ছা ছাদের ডান পাশের লজ্জাবতী গাছটি এখনো বেঁচে আছে? 

এতো প্রশ্ন যদি তুমি একবারে কর উত্তর কিভাবে দিব ! কয়েকটা পাখি আছে আর টিয়া পাখিটি তুমি চলে যাবার কিছুদিন পরেই মারা গেছে ! আমি আছি আগের জায়গাতেই কোন পরিবর্তন হয়নি , না মানি বাগ নিতে আর ভুল হয় না। ছাদে আর কোন গাছ নেই । নিচের ফ্ল্যাটের ২ টি পিচ্চি বাবু শেষে কিছু টব ছিল সব ভেঙ্গে ফেলছে । 

এতো দিন পরে তুমি কেন এসব জানতে আগ্রহী ঠিক বুঝলাম না ,মিলি? 

মিলিঃ না এমনি । 

রিফাতঃ তোমার কথা বল, কি করছ এখন ? কোথায় থাকছ ? 

মিলিঃ ঢাকায় একটি বিল্ডাস কোম্পানিতে সহকারী ইঞ্জিনিয়ার পোস্ট এ কাজ করছি । 

রিফাতঃ বিয়ে করেছ নিশ্চয় ? তোমার হাজব্যান্ড কি করে ? 

মিলিঃ কেন জানো না ? নাকি জেনেও ভান করছ? 

রিফাতঃ আমি যাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম তারা আমাকে তোমার কোন তথ্য দিতে পারেনি । তুমি কি আমার খোঁজ নিয়েছিলে ? 

মিলিঃ না , চেষ্টা করি নি । 

রিফাতঃ তাহলে আজ কেন এতো রাতে ফোন দিয়ে খোঁজ নিচ্ছ ? 

মিলিঃ এমনি মন চাইল তাই । 

রিফাতঃ মন চাইলেই কি সব করা যায় ? 

মিলিঃ না করা যায় না । 

রিফাতঃ কই আমার প্রশ্নের উত্তর দিলে না ? 

মিলিঃ কোন প্রশ্ন টা ? 

রিফাতঃ কিছুক্ষণ আগে যে প্রশ্নটা করেছিলাম। 

মিলিঃ ও হাঁ ! নামি একটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঙ্গিনিয়ারিং শেষ করে আমার অফিস এ জব করতো , গত বছর একটা স্কলারশিপ পেয়ে কানাডা চলে গেছে । সেখানেই আছে । শুনেছি সেখানে নাকি বিয়েও করছে । ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছিল কয়েকমাস আগে স্বাক্ষর করে দিয়েছি । এইতো ৫ বছরের ইতিহাস । এখন জব করছি ভালই আছি । 

রিফাতঃ তুমি কি লেখা পড়া শেষ করেছিলে ? 

মিলিঃ না আর এমএসসি টা করা হয় নি । স্বপ্ন গুলো কেমন জানি অঙ্কুরেই শেষ হয়ে গেছে । আসলে ভাগ্য সহায় ছিল না । 



পুব আকাশে রক্তিম আলোকছটা জানালা দিয়ে উকি দিচ্ছে , এমন সময় একটা আওয়াজ আসলো , বাবা বাবা উঠো ব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে দাও বাবা, বাবা 



রিফাতঃ আসছি মা, একটু । 

মিলিঃ বাবা মানে ? কে ডাকছে তোমার মেয়ে বুঝি ? 

রিফাতঃ ও তোমাকে তো বলা হয়নি তোমার সাথে আলাদা হবার পরে ইচ্চা ছিল আর বিয়ে করব না, বাকি জীবন এভাবেই কাটিয়ে দিব কিন্তু হয়নি, মায়ের কথা ভেবে রিমু কে বিয়ে করেছি ? 

মিলিঃ তোমার স্ত্রীর নাম বুঝি রিমু? 

রিফাতঃ হ্যাঁ । গতকালই বাবা হবার ৪ বছর পূর্ণ হল । আভা, আমার মেয়ে । সম্প্রতি একটা স্কুল এ দিয়েছি । নার্সারিতে পড়ে। সকালে ব্রাশ করিয়ে স্কুল এর জন্য আমি ওকে তৈরি করে দেই আর রিমু সকালের কাজ গুলি সেরে ফেলে । অফিসের পাশেই স্কুল সবাই একসাথে বের হই । রিমু আভাকে স্কুল এ নিয়ে যায় আমি অফিস এ যাই এই তো প্রাত্তাহিক রুটিন আমাদের। 

মিলি; বাহ ! সুখি পরিবার । 

রিফাত ; হাঁ আমি ভাবিনি এতো তা সুখ আল্লাহ আমাকে দিবেন। আভার দিকে তাকালে নিজের একটা ছায়া খুজে পাই মনে হয় জীবনটা ওর জন্যই সার্থক । রিমু অসাধারন একটি মেয়ে । ব্যাখ্যা দিয়ে করতে চাই না । 

মিলিঃ গভির রাত থেকে সকাল অবধি আমার সাথে কথা বললে তোমার স্ত্রী দেখে নি ? কি পরিচয় দিবে আমার? 

রিফাতঃ আমি সত্যবাদী নই, মিথা না বলার চেষ্টা করি যদি ও অনেক কঠিন কাজ পারি না তার পরেও চেষ্টা করি । রিমুর কাছে আমার জীবনাচরন সেই আগের মতই স্বচ্ছ কাঁচের মত। সে আমার ভেতর বাহিরটা দেখতে পায় । তোমার সাথে যত কথা বলেছি সে সব শুনেছে দুজনের মাথা এক বালিশেই ছিল এতটা সময়। 

মিলিঃ প্রশ্ন করে নি ? 

রিফাতঃ না, কিন্তু কিসের প্রশ্ন? 

মিলিঃ আমরা কেন আলাদা হলাম? 

রিফাতঃ দেখ সত্যটা কি ছিল ? তোমার স্বপ্ন পূরণ ? ক্যারিয়ার ? এইতো ? নাকি ? 

মিলিঃ শুধু কি এতটুকুই ? 

রিফাতঃ তাহলে ? ও হাঁ আমি তখন বেকার ছিলাম ? তোমর শপ্নের আর আখাঙ্খিত বাক্তি হতে পারিনি । আমাকে স্বপ্ন পূরণে প্রতিবন্ধকটা মনে করেছিলে । 

মিলিঃ তার পর ! 

রিফাতঃ আমি কি ভুল বলেছি? 

মিলিঃ না। 

রিফাতঃ তাহলে? 

মিলিঃ আমরা আলাদা থাকতে চেয়েছিলাম, তুমি কিন্তু আসনি? 

রিফাত; একজন বেকারের পক্ষে কি তা সম্ভব ছিল ? আর তাছাড়া আমাদের বাড়িতে তো তোমার সমস্যা ছিল না! তুমি আমার মা-বাবাকে সহজ ভাবে মেনে নিতে পারনি । আমার শত সমস্যা সর্তেও তো তোমার সব অভাব গুলি পূর্ণ করেছিলাম। তুমি আমাকে ৩ মাসের সময় দাও নি । আমি ঠিকই ৩ মাস পরেই চাকরি টা পেয়েছিলাম । 

মিলিঃ আমার বাবা ও তোমাকে টাকা দিতে চেয়ে ছিলেন ? চাকরীর বাবস্থা করে দিতে চেয়েছিলেন? 

রিফাতঃ শর্ত কি ছিল ? বললে না! আমাকে মা বাবা পরিবার ছেড়ে তোমাকে নিয়ে তোমাদের বাড়ীতে উঠতে হবে। আমার পক্ষে আত্মসম্মান বিসর্জন দেয়া ,নৈতিক দায়িত্ব উপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না । 

মিলিঃ নৈতিক দায়িত্ব বলে কি বুঝাতে চাও ? 

রিফাতঃ সন্তান হিসেবে পরিবারের প্রতি আমার যা দায়িত্ব রয়েছে। 

মিলিঃ আমার প্রতি কি তোমার কোন নৈতিক দায়িত্ব ছিল না? 

রিফাতঃ ছিল, আমি তা পালন করেছি , তাতে আমার কোন দুর্বলতা ছিল না। আমার পরিবারের সংস্কৃতি তোমাদের চেয়ে আলাদা ছিল । আমরা পরিবার বুঝি আলাদা থাকা বা হবার কথা ভাবি না । 

মিলিঃ বাহ ! এখনো সেই আগের মতই আছ । 

রিফাতঃ আমার শিক্ষা এতটুকুই, যা শিখেছি ভেতরে তো তাই থাকবে , এটাই কি স্বাভাবিক নয় ? 

বাবা, তোমাকে অনেক বার ডাকছি, তুমি কিন্তু আসনি ,আম্মু ডাকছে। তাড়াতাড়ি বের হতে হবে । 

রিফাতঃ আমাকে রাখতে হবে। অফিস এর সময় এগিয়ে আসছে। ভালো থেকো। 

মিলিঃ তোমর মেয়ের সাথে কথা বলতে দিবানা ? 

রিফাতঃ আভা কে ফোন দিলে আজকে আর ওর স্কুল এ যাওয়া হবে না, পুরো মাসে যা যা ঘটেছে সব তোমাকে বলা শুরু করবে । 

মিলিঃ ওকে ঠিক আছে ভালো থেকো !!!!!!!!!!!!!!