১৯ শে এপ্রিল ১০১২,
প্রেম তুমি একবার এসেছিলে নীরবে........ এই গানের কথা ধরে সামনে এগুতে চাই , প্রেম কম বেশী সবার জীবনেই আসছে রিকু ও এই প্রেম নামের ভাইরাস থেকে নিজেকে শেষ রক্ষা করতে পারেনি , রিকু ও প্রেম করেছে । প্রেম নামের ধারণা আসে ক্লাস নাইনে পড়ার সময়। তখন রিকুর একটি মেয়ে কে ভালো লেগেছিল ,কিন্তু কিছু বলার মত সাহস তার ছিল না । মানুষ যে আচার –আচরণে এর মাধমে পূর্ণ বিকাশ ঘটে রিকুর জিবনে কিন্তু তার অনেক অভাব ছিল। রিকুর মাঝে সর্বদা একটা ভয় বিদ্যমান ছিল ভয় টা কিসের টা বলে রাখা দরকার , রিকুর জীবন টা ছিল আশ্রিত যদিও সে ওই জিবনে অনেক কিছুই পেয়েছিল ছিলনা কোন অভাব, অনেক ভালো ছিল সে । কিন্তু রিকুর মাঝে যে অভাব ছিল তাহলো ভালবাসার । রিকুর এই অভাবতাই ছিল অতিমাত্রায় কেননা সে ছোট বেলা থেকেই টা থেকে বঞ্ছিত । এটা কে সে দুর্ভাগ্য বলেই মেনে নিয়েছে । রিকুর বন্ধুরা যখন প্রেম করত রিকু দেখত ও ভাবত কিভাবে প্রেম করা যায় , এই নিয়ে বন্ধুরা তাকে উপহাস ও করত , এভাবেই রিকুর মনে প্রেম করার দৃঢ় ইচ্ছা ও বাসনা বাসা বাধতে থাকে। রিকুর প্রেম চূড়ান্ত পর্যায় আসে তার কলেজ লাইফে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে, এখানে এসে নতুন বন্ধু জোটে যারা সবাই প্রেম করে ৪ জনের গ্রুপ ভালই চলছিলো তাদের প্রেম, কিন্তু মেয়ে ছিল ৫ বান্ধবী , রিকু ওই দলে যোগ দিলে সমান সমান হয় । রিকু ও বন্ধুরা প্রতিদিন বিকালে প্রাইভেট পড়া বাদ দিয়ে একসাথে আড্ডা দিত এর মূল কারন ছিল প্রেমিকা দের সাথে ফোনে প্রেমালাপ , রিকু ওদের সাথে বসে থাকে আর সবাই প্রেমিকাদের সাথে কথা বলে । রিকুর ও ফোন আছে কিন্তু তাতে কল আসে না , এ ভাবেই চলল কিছু দিন এক সময় রিকু বন্ধুদের বলল দোস্তরা আমার জন্য কিছু কর এ ভাবে আর চলে না, ছাত্র জীবনের অনেক গুলা দিন তো শেষ হয়ে গেল একটা প্রেম করতে পারলামনা। এক বন্ধু বলল কাল কলেজ আসিস একটা মেয়ে দেখাব যদি তোর ভালো লাগে তাহলে বাকি কাজ আমার তোর প্রেম আমি সফল করে দিব যে ভাবেই হোক কিন্তু সিধান্ত পরিবর্তন করবি না যেন , তাহলে তোর কপালে খারাবি আছে। রিকু এই প্রস্তাব পেয়ে তো মহা খুশি যাক প্রেম এর স্বাদ এইবার মিটতে পারে ।
পরের দিন রিকু কলেজে গেলো বন্ধুরা সবাই দ্বিতীয় তলার বারান্দায় দাড়িয়ে আছে রিকু ও দাঁড়াল এমন সময় এক বন্ধু নিচে একটি মেয়েকে দেখিয়ে বলল ওই যে দেক কয়েক টা মেয়ে দাড়িয়ে আছে রাস্তার পাশে ওরা সবাই তোকে চিনে , মেয়ে গুলোর মাঝে হাল্কা করে বাম পাশে যে মেয়ে টা দাড়িয়ে আছে ওইটা আমরা সবাই তোর জন্য ঠিক করেছি ,কেমন লাগে বল ? মেয়েটা কিন্তু ক্লাস এইট এ পড়ে , রিকু দেখল ভালই তো তাছাড়া প্রেম করা দিয়ে কথা । রিকু দূর থেকে দেখল , ভালোভাবে দেখার আগেই মেয়েরা চলে গেলো রিকু ক্লাস এ আসল বন্ধুরা বার বার রিকুর মতামত জানতে চাচ্ছে । আর হাঁ মেয়ে টার নাম কিন্তু ছিল মুন্নি । মুন্নি দেখতে ছিল হাল্কা গড়ন চেহারা , মুখটা ছিল অনেক মায়াবী প্রথম দেখায় ভালো লাগার মত একটা মেয়ে , সে ছিল অনেক লাজুক । স্টুডেন্ট হিসাবে সে ছিল প্রথম সারির এটা আমরা পরে জানতে পেরেছিলাম ।
বন্ধুরা রিকুর অপর খুব রেগে গেলো প্রেম করবিনা তো এত কিছু কেন করালি? সবাই মার মার অবস্থা ,রিকু আস্তে করে বলল দোস্ত আমি রাজী কিন্তু বাড়ির সবাই যদি জেনে যায় তাহলে কি হবে ? বন্ধুরা রিকু কে সাহস দিল ধুর এটা কোন সমস্যাই না, তুই ভয় পাইস না আমরা তো আছি , তাহলে বিকালে আসবি আমরা প্রতিদিন যেখানে বসি । রিকু বাসায় আসল মনের অবস্থা আজ বেশী ভালো না খুব ভয় লাগছে কিজানি কি হয় ? বন্ধুদের কি বলেই দেবে যে আমি প্রেম করবনা ? নাকি না কিছুই বলবে না। ভাবতে ভাবতে বিকাল, চলে আসল আড্ডার জাগায় বিকাল ৪ টার মাঝে কফি হাউজের পিছনে আড্ডা বসল আজ একটাই ইস্যু রিকুর প্রেম । ফোনে কথা বলছে ওরা এমন সময় রিকুকে এক বন্ধু ডাকল রিকু মুন্নি আজ সুমিদের বাসায় প্রাইভেট পড়তে আসছে আমি এতক্ষণ সুমির সাথে কথা বলছি মুন্নিকে সুমি রাজী রাজিকরাইছে তুই এখন আমার ফোন দিয়ে মুন্নির সাথে কথা বল ।(আপনারা হয়তো ভাবছেন আমি এত কথা কিভাবে জানলাম বলে রাখা দরকার আমি এই সব কিছুর প্রত্যক্ষদর্শী ) রিকু ফোন নিল এর আগেও রিকু ফোনে অনেকর সাথে কথা বলছে কিন্তু এমনটা কখন হয়নি, রিকু কথা বলতে পারছেনা , কি বলবে ভেবেও পাচ্চে না এই দিকে বন্ধুরা রিকুকে একরকম মারা সুরু করল্ কিরে মুন্নি ফোন ধরে আছে কথা বলিস না কেন? এক বন্ধু রিকুর ঘাড়ে উঠে বসল তুই কিছু একটা বল এই সুযোগ আর আসবেনা যদি কিছু না বলিস তাহলে তোর সাথে আর সম্পর্ক নাই , পাশে একটা বড়ো পুকুর ছিল তাতে ফেলে, ডুবানোর হুমকি ও দিচ্ছিল বন্ধুরা ।
রিকু ভাবল যা হয় হোক কথাতো বলি রিকু সালাম দিলো “আশশালামূয়ালয়কূম ডার্লিং কেমন আছো” রিকু এর আগে কখনো ঐ মেয়ের সাথে কথা বলে নাই ,কিন্তু হটাত করে রিকু এমন কথা বলে দিবে এটা রিকুর বন্ধুরা কখনো ভাবেনি সাথে সাথে হাসির রোল পড়ে গেলো । তাহলে ঐ পাশে মুন্নির অবস্থা কী? ফোন তখন সুমির কাছে । পরে জানা গেছিল যে মুন্নি , সুমির ফোন টা ফেলে দিয়েছিলো ।
এইবার অপেক্ষা মুন্নি কী বলে ? পরের দিন জানা গেল মুন্নি রাজী না ,সবাই হতাশ এটা কী হল ?
সবাই রিকুকে দোষ দিলো তোর কপাল খারাপ ,চিন্তা করিস না একটা উপায় আছে আমরা সবাই আমাদের ওদের সাথে জোগড়া করে আর কথা বলবো না , দেখবি ওরাই মুন্নিকে রাজী করাবে । এর পরে পনেরো দিন গেল ষোলো দিনের দিন উত্তর আসলো মুন্নি রাজী । শুরু হল নতুন অধ্যায় প্রেম নামের গাড়ীতে আজ রিকু যাত্রী । অনুভূতি টা আর কী বলবো আপনারা যারা প্রেম করেছেন তাঁরা তো জানেন তাই আর ঐদিকে গেলাম না । কথা হয় প্রতিদিন ফোনে আর দেখা হয় রাস্তায় কিন্তু কথা হয়না যেহেতু তাঁরা দুজনেই ভয় করে যদি কেঊ জেনে যায় । তাই তাদের কথা খূব কম হয়। এভাবেই চলল দুই বছর এর মাঝে সবাই ডেটিং করেছে কিন্তু রিকু একবার ও যায়নি কারণ টা ছিল । বেশী বাড়াবাড়ি করলে সবাই জেনে যাবে তাতে দুজনের এ সমস্যা , যেহেতু এটা রিকু প্রথম প্রেম তাই রিকু এই সম্পর্ক টাকে অনেক সম্মান করে । এটা নীয়ে মুন্নি কী ভেবে ছিল আমরা আজও জানতে পারি নাই। রিকু ও মুন্নির এই যোজন যোজন দূর প্রেম চলে ছিল দুই বছর । ইন্টার পাশের পরে রিকুদের দল টা ভেঙ্গে যায় সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে ,আর এতে তাদের প্রেমর সম্পর্ক ভেঙে যেতে থাকে সবাই যখন দিক –বিদিক ছড়িয়ে যায় রিকু ও গিয়ে ছিল কিন্তু রিকু আবার আগের জাগায় ফিরে আসে কিছু দিন পরে , এর পিছনে কিছু কারন ও ছিল ,তার মাঝে মুন্নির প্রতি টান । রিকু ফিরে এসেই অনেক ভাবে মুন্নির সাথে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করে ,মাঝে কয়েক বের রিকু সফল ও হয়েছিল তার সাথে কথা বলতে , কিন্তু এই আন্তরিকতা আর খুজে পায়নি রিকু, তবু ও রিকু চেষ্টা করেই চলেছে কারন রিকু মুন্নিকে ভালবাসে । মুন্নির প্রতি রিকুর ভালোবাসা অগাধ না থাকলেও ভালবাসা যে ছিল এটা আমি ভালোভাবেই উপলব্দি করেছিলাম গভীর ভাবে কারণটা ও সাধারণ আমি তাকে অনেক কাছ থেকে দেখেছি , দেখেছি তার আবেগ , না পাওয়ার বেদনা ।
কাজী নজরুল ইসলাম এর ভাষায় বলতে গেলে—
“ কেন দিলি এ কাঁটা
যদি গো না কুসুম দিলে
ফুতিত না কি কমল
ও কাঁটা না বিধিলে ।।
কেন এ আঁখি -কূলে
বিধুর অশ্রু দুলে,
কেন দিলে এ হৃদি
যদি না হৃদয় মিলে।।“
এভাবেই মূলত দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল । রিকু আগের দিনগুলির মত মুন্নিকে বার বার চেয়েও যখন আর পাচ্ছিল না তাই ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছে । গত দুই বছর রিকুর কোন যোগাযোগ নাই মুন্নির সাথে, রিকু তার মনে আর কোন মেয়েকে জায়গা দিতে পারেনি, প্রেম রাজ্যে প্রবেশ পথে রিকু মুন্নির কাছে যা পেয়েছিল টা পুঁজি করেই রিকু এখন সামনে পথ চলতে চায় । একই শহরের বাসিন্দা তারা তাই মাঝে মাঝে রাস্তায় রিকু ও মুন্নির দেখা হয় কিন্তু কথা হয়না । দুজন এক পলক তাকিয়েই নিজের গন্তব্যের পথে পা বাড়ায় । যে সময় রাস্তার পাশে গেলে মুন্নির সাথে দেখা হবে ,রিকু ঐ পথে তার কাজের সময়টা একই সময় করে নিয়েছে তাই মাঝে মাঝেই দেখা হয় তাদের , রিকু আর ও ঠিক করেছে সে আর কোন দিন কোন মেয়ের সাথে প্রেম করবেনা যত দিন পারে এ এভাবেই থাকবে আর মুন্নিকে ভালবেসে যাবে । রিকুর এতেই সুখ মুন্নি ভালবাসেনি তাতে কি ! রিকু তো ভালবেসেছে ।
রিকুর আকাঙ্ক্ষা হয়তো সুকান্ত ভট্টাচার্য এর মতই ছিল । যিনি কোন একজন কে না দেখা ও পাওয়ার বেদনায় লিখেছিলেন –
“এখনো আমার মনে তোমার উজ্জ্বল উপস্থিতি ,
প্রত্যেক নিভৃত ক্ষণে মত্তটা ছড়ায় যথারীতি,
এখনও তোমার গানে সহসা উজ্জ্বল হয়ে উঠি ,
নির্ভয়ে উপেক্ষা করি জঠরের নিঃশব্দ ভ্রূকুটি”
তবে রিকুর এই ভালবাসা মুন্নির জন্য কতদিন বা কাল থাকবে তা আমার বলার সাধ্য নাই, এতটুকু বলতে পারি রিকু আজ ও মুন্নিকে আগের মতই ভালবাসে । আমি অনেক ভেবেছি মুন্নি এবং কিছু প্রশ্ন নিয়ে আসলে মুন্নি কি ভেবে রিকুর সাথে এমন করলো ? মুন্নি কি রিকু কে তার বন্ধুদের মত ভেবে নিজেকে দূরে রাখতে চেয়েছিল? নাকি মুন্নি রিকু কে ভালবাসে নাই? আপনারা কি বলবেন?।
(আমি কোন পেশাদার লেখক না, যা লিখেছি একান্তই মনের টাণে আমি গল্প ,কাব্য এর ভাষা বা লিখার নিয়ম-কানুন জানিনা , এই ছোট গল্পটা আপনাদের ভালো লাগলে আমার সার্থকটা ,আশা করি আপনারা আমার এই লেখা গুলোর গঠন মূলক সমালোচনা করে ভুল গূলো ধড়িয়ে দিবেন আর সামনে আরও লিখবো কিনা তা আপনাদের ওপরেই নির্ভর করছে , ভালো থাকবেন সবাই । -আব্দুল্লাহ )
No comments:
Post a Comment